সময় কলকাতা ডেস্ক:- আগামী মাসে আমেরিকা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতেই তিনি সেদেশে যাচ্ছেন। জাতিসংঘের তরফে প্রকাশিত বক্তাদের প্রাথমিক তালিকায় তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এরই পাশাপাশি পরিকল্পনা রয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন মোদি।
এমনই দাবি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের। মাত্র কয়েকদিন আগেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানির শাস্তি হিসাবে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। জানিয়ে দিয়েছেন বাণিজ্য নিয়ে ভারতের সঙ্গে আর কোনও আলোচনা হবে না। যতদিন না শুল্ক নিয়ে সমস্যার সমাধান হয় ততদিন আলোচনার পক্ষপাতী নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অর্থাৎ ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎও এখন বিশ বাঁও জলে। এই পরিস্থিতিতে ‘বন্ধু’ ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির একান্ত বৈঠকে কি বরফ গলবে? বিশ্ব রাজনীতিতে চর্চা তুঙ্গে।
জানা গিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নিউ ইয়র্কে ভিড় জমাবেন রাষ্ট্রনেতারা। ইউএনজিএ-র ৮০তম অধিবেশন শুরু হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর। উচ্চপর্যায়ের সাধারণ আলোচনা চলবে ২৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, অধিবেশনের প্রথম বক্তা থাকবে ব্রাজিল, এরপর আমেরিকা। ভারতের ‘সরকারের প্রধান’ ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
একইদিনে ইজরায়েল, চিন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের ‘সরকারের প্রধান’রাও সাধারণ আলোচনা অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। সেখানে ট্রাম্প ছাড়াও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি-সহ অন্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে মোদির।
তবে নিঃসন্দেহে অন্য বৈঠকগুলির চেয়ে এই মুহূর্তে ট্রাম্পের সঙ্গে মোদির বৈঠকই যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি করবে তা বলাই অপেক্ষা রাখে না।
এর আগে বছরের শুরুতে মার্কিন সফরে গিয়েছিলেন মোদি। সেই সময় ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছিল। সাত মাসের মধ্যে ফের হোয়াইট হাউসে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠক অবশ্য আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। ফেব্রুয়ারিতে বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে ঘোষণা করা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে পারস্পরিকভাবে লাভজনক বহু-খাতভিত্তিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে, এই আলোচনার মাঝেই ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করে দেন। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক থাকবে রাশিয়ান তেল কেনার জন্য, যা ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
এই শুল্ক আরোপের জবাবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, ‘ভারতকে টার্গেট করে এই পদক্ষেপ অন্যায্য ও অযৌক্তিক।
যেকোনও বড় অর্থনীতির মতোই ভারতও দেশের জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’ ট্রাম্পের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক সংক্রান্ত আদেশ ঘোষণার সময়েই জানা যায়, ২৫ অগস্ট থেকে মার্কিন প্রতিনিধি দল ভারতে আসবে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ষষ্ঠ দফার আলোচনায় অংশ নিতে। দুই দেশই এই বছরের নভেম্বর মাসের মধ্যে চুক্তির প্রথম ধাপ সম্পন্ন করতে চায়।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দফায় মোদির সাথে তাঁর বন্ধুত্ব দেখেছিল গোটা বিশ্ব।
কিন্তু মসনদে প্রত্যাবর্তন ঘটানোর পর এবার যেন বড় বেশি খামখেয়ালি ডোনাল্ড ট্রাম্প। যার প্রভাব পড়েছে মোদির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কেও। যদিও সম্প্রতিও তাঁকে বারবার মোদিকে বন্ধু সম্বোধন করেছেন, কিন্তু যেভাবে শুল্ক চাপানো হয়েছে নয়াদিল্লির উপরে তাতে বন্ধুত্বের লক্ষণ যে দেখা যায়নি, তা বলাই যায়। এই অবস্থায় সামনাসামনি তাঁদের মধ্যে কী কথা হয় সেদিকেও সকলের চোখ থাকবে। তবে তার আগে ১৫ আগস্ট পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকের দিকেও নজর থাকবে ভারতের।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
সই বিতর্কে বিজেপিকে তোপ চন্দ্রনাথের