সময় কলকাতা ডেস্ক:- বিহারের বিশেষ নিবিড় সংশোধন ইস্যুতে এবার সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে রাজনৈতিক দলগুলিই। ভোটার লিস্ট থেকে বাদ পড়া ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম প্রকাশ্যে আসার পরও কেন বৈধ বাদ পড়া ভোটারদের খুঁজে বের করতে পারছে না রাজনৈতিক দলগুলি? প্রশ্ন তুলল খোদ শীর্ষ আদালত। শুক্রবার এসআইআর সংক্রান্ত এক মামলায় আদালতে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানায়, বিহারের এসআইআর-এর পুরো প্রক্রিয়া শুদ্ধ। এতে কোনও গলদ নেই। এতে রাজনৈতিক দলগুলিও যুক্ত। রাজনৈতিক দলগুলির অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে ভোটার তালিকা তৈরি হয়। তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলির ত্রুটি সংশোধনের জন্যই আপত্তি জানানোর নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়।
কিন্তু বিহারের কোনও বড় রাজনৈতিক দলই খসড়া তালিকা নিয়ে কোনও আপত্তি কিংবা অভিযোগ দায়ের করেনি। অথচ জনসাধারণের মধ্যে এ নিয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে।
সেখানেই সুপ্রিম কোর্ট জানায়, খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে যেভাবে জনগণের মধ্যে সমালোচনা চলছে, তাতে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ছিল সক্রিয়ভাবে এগিয়ে এসে মানুষের অভিযোগ জানাতে সাহায্য করা। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। আদালত প্রশ্ন তোলে, এত বুথ লেভেল এজেন্ট নিয়োগ করার পরও তারা করছে টা কী? রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কি সাধারণ নাগরিকদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে? রাজনৈতিক দলগুলির কাজ তো ভোটারদের সাহায্য করা।
শীর্ষ আদালত শুধু সমালোচনায় থামেনি, সরাসরি ১২টি রাজনৈতিক দলকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। আদালতের নির্দেশ, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে তাদের কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দিতে হবে যেন তাঁরা মানুষের অভিযোগ জানাতে সাহায্য করেন। নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত ১১টি নথির যে কোনও একটি, কিংবা আধার কার্ড ব্যবহার করে মানুষ অভিযোগ জানাতে পারবেন। রাজনৈতিক দলগুলির দায়িত্ব থাকবে সেই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করার।
স্বাভাবিকভাবেই বিহারে ভোটের আগে এই নির্দেশ ও মন্তব্য নিঃসন্দেহে চাপ বাড়াবে সব রাজনৈতিক দলের উপরেই।
কারণ সুপ্রিম কোর্টের চোখে এখন শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোরও সমান ভূমিকা রয়েছে যেন প্রতিটি প্রকৃত ভোটার তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
সই বিতর্কে বিজেপিকে তোপ চন্দ্রনাথের