Home » ট্রাম্পের ‘শুল্কাঘাত’ রুখতে কী পদক্ষেপ নয়াদিল্লির?

ট্রাম্পের ‘শুল্কাঘাত’ রুখতে কী পদক্ষেপ নয়াদিল্লির?

সময় কলকাতা ডেস্ক:- সময় ঘনিয়ে এসেছে বললেই চলে। ২৭ আগস্ট পড়লেই ভারতের উপর চাপানো ট্রাম্প-ট্যারিফ হয়ে যাবে দ্বিগুণ। ২৫% থেকে এক লাফে ৫০%। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রফতানিপণ্যের উপর শুল্ক দ্বিগুণ হওয়ায় নতুন করে চাপে রফতানিকারীরা।

এই পরিস্তিতিতে মঙ্গলবার তড়িঘড়ি একটি বৈঠক করার কথা ভাবছে নয়াদিল্লি। এখনও সমঝোতা হয়নি, কিছু ‘লাল ফিতে’র কারণে হচ্ছেও না। তবে চেষ্টা থেমে থাকেনি। এই পরিস্থিতিতে ২৬ আগস্ট মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর দফথরে হাই প্রোফাইল বৈঠকের ডাকা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর দু’জন প্রধান সচিব রয়েছেন। একজন সদ্য নিযুক্ত শক্তিকান্ত দাস। অন্যজন, প্রমোদ কুমার মিশ্রা।

তবে এই বৈঠকে কে উপস্থিত থাকবেন তা জানা সম্ভব হয়নি। বুধবার থেকে আমেরিকায় প্রবেশ করা ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশের শুল্কের বোঝা চাপাতে চলেছেন ট্রাম্প। যার জেরে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ভালই চাপে পড়তে হবে বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। প্রভাব পড়বে দেশের জিডিপিতেও।

রফতানিকারীদের অভিযোগ, এতেই লাভের অঙ্ক কমে গিয়েছিল, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছিলেন তাঁরা। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে চাপ আরও বাড়বে। তাই শেষবারের মতোই আরও একবার সব কিছু সমাধানেরই চেষ্টা চালাচ্ছে নয়া দিল্লি।

জানা গিয়েছে, সমাধান সূত্র টানার জন্য ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনে একটি ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সংস্থাকে নিযুক্ত করেছে নয়াদিল্লি। আসলে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হওয়ায় প্রথম দফায় ২৫ শতাংশ, পরে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ট্রাম্পের দাবি, ভারতের তেল কেনার জন্যই রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থ পাচ্ছে। যদিও ভারত আমেরিকার এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের যুক্তি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চিন রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অপরিশোধিত তেল কিনছে। আমেরিকাও রুশ পণ্য কেনায় পিছিয়ে নেই।

এই অবস্থায় ভারতের উপর শুল্ক চাপানো অন্যায়। স্পষ্টভাবে নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়েছে, রাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে যেখানে কম দামে তেল পাওয়া যাবে সেখান থেকেই তেল কিনবে ভারত।

ইতিমধ্যেই বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক বিভিন্ন রফতানিকারী সংগঠন এবং রফতানি উন্নয়ন পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। আলোচনা ঘুরছে মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং বিশেষ কিছু খাতকে লক্ষ্য করে সুরাহার পথ খোঁজার দিকে। সরকার মনে করছে, সমগ্র অর্থনীতির জন্য সমর্থনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার থেকে নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক সহায়তাই বেশি কার্যকর হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়ার খসড়া চূড়ান্ত করা হতে পারে।

কারণ বিশেষত টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং কেমিক্যাল খাত— সব ক্ষেত্রেই নতুন শুল্কের ধাক্কা বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা।

About Post Author