সময় কলকাতা ডেস্ক:- মার্কিন আদালতে বড় ধাক্কা খেলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক আরোপ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে যে ভাবে তিনি ওলট-পালট করে দিয়েছেন, তা বেআইনি। এমনটাই জানাল আমেরিকার এক আপিল আদালত। যদিও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে এখনই স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে না। আরও কিছু দিন এ নিয়ে লড়াই করার সময় পাবেন ট্রাম্প। অক্টোবর পর্যন্ত এই শুল্কই বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে এই নিয়ে এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদনের সুযোগ ট্রাম্পের।

সেখান থেকেও যদি তাঁর সিদ্ধান্তকে বেআইনি বলে দেগে দেওয়া হয়, তবে শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে আমেরিকাকে। আমেরিকার ফেডেরাল সার্কিটের আপিল আদালতে শুল্ক সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি হয়েছে। শুক্রবার তার রায়ে আদালত জানিয়েছে, এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনেক সিদ্ধান্তই বেআইনি। এভাবে শুল্ক আরোপ করে দেওয়া যায় না।
এর আগে নিম্ন আদালতে এই মামলা উঠেছিল। সেখান থেকে যে রায় দেওয়া হয়েছিল, আপিল আদালত তা-ই বলবৎ রেখেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ট্রাম্প তাঁর জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এত দেশের উপর এত রকমের শুল্ক আরোপ করেছেন।
কিন্তু তা করতে গিয়ে তিনি নিজের কর্তৃত্বের সীমা অতিক্রম করে গিয়েছেন। যদিও, নিজের সোশাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশাল’-এ আদালতের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প লিখেছেন, সমস্ত শুল্কই এখনও কার্যকর রয়েছে। এক আদালত ভ্রান্তিবশত জানিয়ে দিয়েছে তাঁর প্রশাসনের চাপানো শুল্কগুলি সরিয়ে নেওয়া উচিত। কিন্তু ওরা জানে শেষপর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই জয়ী হবে।

সেই সাথেই তাঁর দাবি, যদি শুল্ক তুলে নেওয়া হয়, তাহলে সেটা আমেরিকার জন্য একটা বিপর্যয় ডেকে আনবে। এর ফলে আমেরিকা আর্থিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। আমেরিকাকে শক্তিশালী হতে হবে। আসলে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা।
কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তকে তুলোধোনা করেছেন আমেরিকার বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ রিচার্ড উলফ। রাশিয়ার এক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রসংঘের নিরিখে, ভারতই এখন বিশ্বের বৃহত্তম দেশ।
কিন্তু আমেরিকা এখন ভারতকে শেখাতে চাইছে কী করা উচিত।
এ যেন ইঁদুর হয়ে হাতিকে ধাক্কা মারার মতো। কিন্তু এমন সমালোচনাতেও কান দিতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এবার আদালতেও মুখ পুড়ল তাঁর। কিন্তু তারপরও সোশাল মিডিয়ায় তাঁর সদর্প উচ্চারণ বুঝিয়ে দিল, পিছু হটতে চান না ট্রাম্প। অথচ ট্রাম্পের চোখরাঙানি উপেক্ষা করেই রুশ তেল কিনছে ভারত। রাশিয়া এবং চিনের সঙ্গে সম্পর্কও গভীর করছে নয়াদিল্লি। অর্থাৎ আগামী দিনে বিশ্বে কোণঠাসা হয়ে পড়বেন ট্রাম্প, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।


More Stories
ভিড় সীমান্তে, ভিড় হোল্ডিং সেন্টারে
কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে ৪ পয়সা কমল, ডিজেল বাড়ল ৯৪ পয়সা
জমিজট কাটাতে ও কাঁটাতার দিতে গুরুদায়িত্ব নন্দিনীকে