Home » রাহুলের ‘মহাসভায়’ তৃণমূলের প্রতিনিধি ইউসুফ-ললিতেশ

রাহুলের ‘মহাসভায়’ তৃণমূলের প্রতিনিধি ইউসুফ-ললিতেশ

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বিহারে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের প্রতিবাদে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধির নেতৃত্বে চলা ভোটার অধিকার যাত্রা আগামী ১ সেপ্টেম্বর শেষ হবে পাটনায়। শেষ দিন সেখানে বিশাল পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা সেই পদযাত্রায় অংশ নেবেন।

তৃণমূলের তরফে সেই পদযাত্রায় অংশ নিতে পাটনায় যেতে পারেন মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের দলীয় সাংসদ ইউসুফ পাঠান এবং উত্তরপ্রদেশের নেতা ললিতেশপতি ত্রিপাঠি।

প্রথমে ঠিক ছিল, পাটনার গান্ধি ময়দানে জনসভা করে ভোটার অধিকার যাত্রা শেষ হবে।

কিন্তু আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছতে পদযাত্রার সিদ্ধান্ত নেন রাহুল গান্ধিরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা নিজে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমাবেশে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

তবে তাঁরা দু’জনে যোগ না দিলেও প্রতিনিধি পাঠানোর কথা আগেই নিশ্চিত করেছিলেন তৃণমূলের শীর্ষনেতা। মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনেরই পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে।

তাই তৃণমূলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন বহরমপুরের তারকা সাংসদ ইউসুফ পাঠান এবং উত্তরপ্রদেশের নেতা ললিতেশ ত্রিপাঠী। আগস্টের শুরুতেই দিল্লির জমজমাট নৈশভোজে এক ফ্রেমে ধরা পড়েছিলেন রাহুল গান্ধি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ছবিই ক’দিন আগে ইন্ডিয়া ব্লকের ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

কিন্তু মাত্র দু’সপ্তাহ যেতে না-যেতেই ছবিটা যেন পালটে গেল। তৃণমূলের এই সিদ্ধান্তে কার্যত স্পষ্ট যে কংগ্রেসের সঙ্গে সংসদে তৃণমূল ইস্যুভিত্তিক সমন্বয় রক্ষা করে চললেও ইন্ডিয়া জোটের মধ্যে তাদের স্বতন্ত্র অবস্থান রয়েছে।

তা বাংলা-বাঙালি ইস্যুতে আলাদা প্রতিবাদ হোক বা সংবিধান সংশোধনী বিলের ক্ষেত্রে তীব্র বিরোধিতা। ইন্ডিয়া জোটে থাকলেও তৃণমূল যে কংগ্রেসের জোট শরিক নয়, তা বারবারই বলে থাকেন তৃণমূলের নেতারা।

তাই সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতা তথা ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনরা বিহারের যাত্রায় সশরীরে হাজির থাকলেও, তৃণমূল প্রতিনিধি পাঠিয়েই সমন্বয় রক্ষা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। আবার শিব সেনার উদ্ধব শিবিরও তৃণমূলের মতোই প্রতিনিধি পাঠাতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। শিব সেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে নিজে সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। আসলে বাংলায় কংগ্রেস ও বামেদের সঙ্গে বরাবরই তেতো সম্পর্ক তৃণমূল কংগ্রেসের। গত বছর রাহুল গান্ধির সফরে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভে পড়তে হয়েছিল তাঁকে।

ওই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট হয়েছিল জোটের ভিতরে আস্থার সংকট রয়েছে। এবার বিহারের সভায় মমতা-অভিষেকের অনুপস্থিতি সেই সংকটকে ফের সামনে আনতে চলেছে।

তবে তৃণমূলের দাবি, এ সব জল্পনা অমূলক। বাংলায় বিজেপিকে প্রতিরোধ করাই এখন দলের প্রথম লক্ষ্য।

সেই লক্ষ্যেই মমতা-অভিষেকের রাজ্যে থাকা জরুরি। কিন্তু রাজনৈতিক মহল এই যুক্তি মানতে নারাজ।

তাঁদের মতে, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ঐক্যের ছবিতে বড় ফাঁক থেকে যাবে তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতিতে। আসলে কংগ্রেসকে জমি ছেড়ে দিতে বিরোধী শিবিরের অনেকেই নারাজ। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মতো বৃহত্তর স্বার্থে ইন্ডিয়া জোটে থেকে কংগ্রেসের পাশে দাঁড়ালেও, বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। তাতে সব ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে অগ্রাধিকার দেওয়া যাবে না।

তবে এসবের মাঝেই তৃণমূলের এই সিদ্ধান্তে এটা স্পষ্ট যে দিল্লিতে ‘দোস্তি’, বাংলায় ‘কুস্তি’। আর এই নীতিতে আপাতত কোনও বদলই নেই। বছর ঘুরলেই আরও একটা বিধানসভা নির্বাচন। স্বাভাবিক নিয়মেই লড়বে শাসক-বিরোধী।

About Post Author