Home » বসিরহাটর গাইন রাজবাড়িতে গুলির শব্দে শুরু হয় সন্ধি পুজো

বসিরহাটর গাইন রাজবাড়িতে গুলির শব্দে শুরু হয় সন্ধি পুজো

রাজ্যের মধ্যে যত জমিদারি পুজো এখনো আছে তাদের মধ্যে এই গাইন জমিদার বাড়ির পুজো অন্যতম আকর্ষণ রাজ্যবাসীর কাছে ধান্যকুড়িয়া গাইন জমিদার বাড়ি, এ বছর এই পুজো ১৮৪ বছরে পদার্পণ করল ।
জমিদার গোবিন্দ চন্দ্র গাইন এই পুজোর শুভ সূচনা করেন । কিন্তু তারপরে এই পুজোর শ্রী বৃদ্ধি হয় জুট লর্ড- মহেন্দ্রনাথ গাইনের হাতে ।
এই পুজোর অন্যতম রীতি-প্রতিদিন সন্ধি পুজোয় বন্দুকের ফায়ার করা হয়। আর সেই শব্দে গ্রামের মানুষ বুঝতে পারে সন্ধিপূজো শুরু হচ্ছে । জমিদারি আমলে সন্ধ্যা আরতির সময় বন্ধুকে উরো ফায়ার করে গ্রামবাসীকে জানানো হতো সন্ধিপূজো শুরু হচ্ছে । সেই রীতি ও রেওয়াজ এখনো একইভাবে চলে আসছে । এখনো অষ্টমীর দিন সন্ধ্যার সময় ১০৮ টি প্রদীপ জ্বালানো হয় । যেগুলো জ্বালায় বংশধররাই ।
এই গাইন জমিদারদের অভিভক্ত বাংলার সাতক্ষীরা জেলায় প্রচুর সম্পত্তি ছিল । যেখানে এক ধরনের সোনালী পাঠ চাষ হতো এবং সেই চাষ ইংরেজদের সহযোগিতায় বিদেশে রপ্তানি হতো। আর সেই কারণেই জমিদার মহেন্দ্র চন্দ্র গাইন ইংরেজদের কাছ থেকে পেয়েছিল জুট লর্ড খেতাব ।
এবং ব্যবসায়িক সূত্রে ইংরেজদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় এই পুজোতে ইংরেজরাও অংশগ্রহণ করতেন এবং পূজোর আনন্দ নিতেন।
পাশাপাশি এই পুজোয় অন্যতম রীতি-বংশ পরম্পরায় ঠাকুর গড়ার মৃৎ শিল্পীরা ঠাকুর তৈরি করেন এবং ঢাকি রাও বংশ পরম্পরায় এই পুজোয় ঢাক বাজান ।
দশমীর দিন সিঁদুর খেলা এই বংশের অন্যতম রেওয়াজ । বংশের সকলে পাশাপাশি গ্রামের মানুষও দশমীর দিন মায়ের আরতি ও সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠে।
সারা বছর এই জমিদার বাড়িতে তেমন কেউ না থাকলেও পুজোর কটা দিন বংশের যে যেখানেই থাকুক সকলে এখনো এক জায়গায় হয়ে পুজোর কটা দিন আনন্দে কাটান ।
গাইন বাড়ির এই পুজো এবং পাশাপাশি জমিদার বাড়ির ঐতিহ্য দেখতে শুধু আমাদের রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও বিদেশের থেকেও মানুষ এই পুজো দেখতে আসে ।
কলকাতায় যেসব ট্রাভেলস থেকে পুজো পরিক্রমায় মানুষকে ঘোড়ায় সেই তালিকায় এই গাইন বাড়ির নাম উল্লেখযোগ্য।
বিশেষ করে এই গাইন বাড়িতে প্রচুর সিনেমা ও ধারাবাহিক নাটকের শুটিং হয় , যে কারণে এই গাইন জমিদার বাড়ির আকর্ষণ সাড়া রাজ্যের মানুষের মধ্যে অন্যতম ।
একসময় অবিভক্ত বাংলার এপার ওপারের মানুষ এই পূজায় অংশগ্রহণ করত । কিন্তু এখন বেশ ভাগ হওয়ার পর কাঁটাতারের বেড়ায় ওপার বাংলার মানুষ আর এই পুজোয় অংশগ্রহণ করতে পারে না ।
একসময় দশমীর দিন গ্রামের কাহার সম্প্রদায়ের মানুষরা এই প্রতিমা কাঁধে পড়ে বিসর্জন দিতে নিয়ে যেত গ্রামেরই এক পুকুরে । কিন্তু কালের ফেরে মানুষের কর্মের চাহিদার কারণে সেই কাহাররা এখন আর ঠাকুর কাঁদে পড়ে নিয়ে যেতে পারে না ।
তাই সেই নিয়মের পরিবর্তন ঘটাতে বাধ্য হয়েছে পরিবার ।
শুধু এই পরিবর্তন টুকু ছাড়া আর কোন রীতি ও রেওয়াজের পরিবর্তন হয়নি আজ পর্যন্ত ।

About Post Author