আবারও রাজ্যগুলির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, অবাধে বেড়ে চলা পথকুকুরের সমস্যা রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। না নিলে রেহাই নেই রাজ্যগুলির। আগামী ৩ নভেম্বর সব রাজ্যের মুখ্যসচিবদের ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজিরা দিতে হবে, ভার্চুয়াল নয়, সরাসরি উপস্থিত থাকতে হবে। নির্দেশ দেশের শীর্ষ আদালতের। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ জানায়, আদালতের আদেশের প্রতি কোনও সম্মান দেখা যাচ্ছে না। তাই মুখ্যসচিবদের নিজে আসতে হবে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
দিল্লিতে একের পর এক পথকুকুরের কামড়ের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছিল। গত ২৮ জুলাই। আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলা নেয়, দেশের নানা প্রান্তে শিশুদের উপর কুকুরের আক্রমণ ও রেবিস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায়।
গত ২২ আগস্ট। দেশের শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয় পথকুকুরদের জীবাণুমুক্ত করার এবং টিকা দেওয়ার বিষয়ে। সেদিন আদালত জানায়, পথকুকুরদের রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে জীবাণুকরণ প্রতিষেধক এবং বন্ধ্যাত্বকরণ টিকা দিতে হবে। টিকা দেওয়ার পর, আবার যে জায়গার কুকুর, সেই এলাকাতেই ছেড়ে দেওয়া হবে। ব্যতিক্রম হিসেবে, হামলা চালাতে পারে, অর্থাৎ হিংস্র কিংবা জলাতঙ্ক ঘটাতে পারে, এমন কুকুরদের ছাড়া যাবে না বলেও জানানো হয়। পথকুকুরদের মামলায়, তাদের বিপদ সম্পর্কে শীর্ষ আদালত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির থেকে হলফনামা চেয়েছিল। সূত্রের খবর, শীর্ষ আদালত জানিয়েছে বাংলা, দিল্লি পুরসভা, তেলেঙ্গানা ওই হলফনামা জমা দিয়েছে। কিন্তু. একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সময়মতো তা দেয়নি।
এর আগে ২৭ অক্টোবরও আদালত সতর্ক করেছিল, পথকুকুরের হামলার ঘটনা ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। তাই এবারও আদালতের বার্তা কঠোর। সব রাজ্যকে দায় নিতে হবে, দেরি নয়, বাস্তব পদক্ষেপ চাই। পশ্চিমবঙ্গ ও তেলঙ্গানা বাদে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যসচিবদের হাজিরার নির্দেশই এখন কেন্দ্রীয় নজরকাড়া বিষয়। তবে বিহার সরকার মুখ্যসচিবকে ছাড় দেওয়ার আবেদন জানায়, কারণ রাজ্যে নভেম্বরের ৬ ও ১১ তারিখে বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু আদালত তাতে রাজি হয়নি। বিচারপতির মন্তব্য, নির্বাচন কমিশন আছে, তারা দেখবে। মুখ্যসচিবকে হাজিরা দিতেই হবে।
ইদানিং দেশজুড়ে রাস্তার কুকুরের সমস্যা বড় আকার নিয়েছে। বহু জায়গায় শিশুদের উপর কুকুরের হামলার খবর আসছে। পশুপ্রেমীরাও আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত। তাঁরা বলছেন, রাস্তার কুকুর ভালবাসলে, তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি কখনই কাম্য নয়। এর জন্য প্রতিটি কুকুরের নির্বীজকরণ করতে হবে। সরকারি উদ্যোগে ছাড়া যা সম্ভব নয়। কারণ এর খরচ কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষে টানা মুশকিল। এবার এই বিষয়ে রাজ্য সরকারগুলি কী উদ্যোগ নেয়, এখন সেটাই দেখার।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী