বাংলায় শুরু হয়েছে গিয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া। মঙ্গলবার থেকে বাড়ি বাড়ি ফর্ম বিলির কাজ শুরু করেছেন বিএলও–রা। সেই ফর্ম ভরে তাঁদের হাতেই দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া শুরু হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ উঠেছে, বহু জায়গায় ফর্ম দেওয়ার জন্য নথি চাওয়া হয়েছে। তবে সেই সমস্যার সমাধান করল নির্বাচন কমিশন। এমনকী, বিএলও-দের কাজ নিয়েও আরও একবার স্পষ্ট করে দিল নির্বাচন কমিশন
সরকারিভাবে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর কাজ গত ২৮ অক্টোবরই শুরু হয়েছিল। মঙ্গলবার থেকে বাড়ি বাড়ি যেতে শুরু করেছেন বিএলও-রা। এনিয়ে সাধারণ মানুষের হাজার আশঙ্কা, উদ্বেগের মৃত্যুর মতো অপ্রীতিকর ঘটনার মধ্যেই ব্লক স্তরের সরকারি আধিকারিক বা বিএলও-দের এক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষ রয়েছে। মঙ্গলবার শুরু হয়েছে ফর্ম বিলির কাজ। তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম পৌঁছে দিচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের বুথ লেভেল অফিসাররা। ভোটারদের তথ্যসংগ্রহ করছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার ফর্ম বিলির প্রথম দিনেই অনেক জায়গায় ফর্ম দেওয়ার জন্য নথি চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বুথ লেভেল অফিসার এবং বুথ লেভেল এজেন্টদের কোনও নথি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। এমনকী বিএলও-রা নথি নেবেন না। তাঁরা শুধু এনুমারেশন ফর্ম দেবেন এবং নিয়ে আসবেন। কমিশন জানিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের বা পরিবারের কারও নাম না থাকলে তবেই নথি জমা দিতে হবে। রিভিউয়ের সময় সেই নথি দেখাতে হবে। নাম থাকলে কোনও নথির দরকার নেই। বাংলার জন্য মোট ১৩টি নথির উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া না-গেলে ওই ১৩টি নথির যে কোনও একটি দিতে হবে। শুনানি করে সেই নথি খতিয়ে দেখা হবে।
আরও একটি প্রশ্ন যা বিএলও প্রশিক্ষণ পর্বেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে এসেছে। প্রত্যেকেরই চিন্তাটা একটাই — এসআইআর-এর কাজের জন্য অন–ডিউটি মিলবে তো ? অর্থাৎ, সকাল থেকে স্কুলে না–গিয়ে ফর্ম বিলির কাজ করলে কর্মস্থলে তাঁদের অ্যাটেনডেন্স মিলবে কি না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আগেই স্পষ্ট করেছিলেন, BLO ফুলটাইম জব ! কিন্তু তারপরও কোথাও গিয়ে একটা সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশন আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে, BLO ফুলটাইম জব। কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিএলও হিসাবে যাঁরা কাজ করবেন, তাঁদের দায়িত্ব সর্বক্ষণের।
অর্থাৎ তাঁরা এই কয়েকদিন কেবল এই দায়িত্বই যথাযথভাবে পালন করবেন। তাঁদের অন্য দায়িত্ব পালন করতে হবে না। এসআইআর-এর সময়ে অন ডিউটির দাবির মধ্যেই এই নতুন নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যজুড়ে মোট ৮০ হাজার ৬৮১ জন বিএলও মাঠে নেমেছেন। সঙ্গে রয়েছেন অতিরিক্ত ১৪ হাজার কর্মী। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলি মোট ৬৩৯৪০ বুথ লেভেল এজেন্ট নিয়োগ করেছে। এর মধ্যে বিজেপির ২৪ হাজার ৮৫৮, তৃণমূলের ১৩ হাজার ৫২৬, কংগ্রেসের ৫ হাজার ৭৯৭, সিপিএমের ১৮ হাজার ৭০৬ ও ফরওয়ার্ড ব্লকের ১ হাজার ৫৩ জন এজেন্ট রয়েছেন। তবে বহু জায়গায় রাজনৈতিক দলের এজেন্ট বিএলএ-দের দেখাই যায়নি। ফলে একা একাই বিএলও-রা কাজ শুরু করেন।


More Stories
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?