বিজেপির ‘এজেন্সি সন্ত্রাস’এর অভিযোগে বারবার সরব বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার বিজেপির সেই এজেন্সি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আইনি পাল্টা জবাব দিতে আরও সক্রিয় হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। SIR নিয়ে রাজ্যজুড়ে সক্রিয় তৃণমূলের আইনজীবী সেল !
সআইআর নিয়ে রাজ্যে একটা আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিজেপির SIR ষড়যন্ত্রের ফলে স্রেফ ভয়, উদ্বেগে বেশ কয়েকজন আত্মহত্যা করেছেন বলেও অভিযোগ। এসআইআরের নামে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে, বিজেপি এবং কমিশনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগকে সামনে রেখে মঙ্গলবার কলকাতা শহরে প্রতিবাদ মিছিল করেছে তৃণমূল। নেতৃত্বে ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এবার বিজেপির ‘এজেন্সি সন্ত্রাস’এর বিরুদ্ধে আইনি পাল্টা জবাব দিতে আরও সক্রিয় হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্য জুড়ে জনসংযোগ বাড়াতে এবং দলীয় কর্মীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে আগামী ১১ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের প্রতিটি জেলায় জনসভা করবে তৃণমূলের লিগ্যাল সেল। তৃণমূলের বক্তব্য, বিজেপি সরকার কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে ব্যবহার করে দলীয় কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে পুর্ব মেদিনীপুর ও উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায়। তাই এবার জনগণের কাছে পৌঁছে আইনের পথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই বার্তা দিতে চায় শাসক দল। ভিও — মঙ্গলবারই জোড়াসাঁকোর সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, চিন্তার কোনও কারণ নেই। তৃণমূলের লিগাল সেল পাশে থাকবে। যে কোনও সমস্যায় তাঁরা সহযোগিতা করবে।
সেই মতোই পদক্ষেপ হল। অভিষেকের নির্দেশের পরই তৃণমূলের আইনজীবী সেল দ্রুত রাজ্যব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সূত্রের খবর, প্রতিটি জেলার সভায় স্থানীয় আইনজীবীরা অংশ নেবেন এবং সাধারণ মানুষকে বোঝাবেন — কীভাবে কমিশনের ‘অপব্যবহার’-এর বিরুদ্ধে আইনি প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়। আসলে এই কর্মসূচি কেবলমাত্র আইন নয়, রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে— ভোটের আগে সংগঠনকে নতুনভাবে চাঙা করতে চায় দল। ১১ নভেম্বর কলকাতার কেন্দ্রবিন্দু ডোরিনা ক্রসিংয়ে প্রথম সভা হবে। ব্যারিকেড পেরিয়ে রাজপথে নামবে তৃণমূলের লিগ্যাল সেল, সঙ্গে থাকবেন শতাধিক আইনজীবী ও কর্মী। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কেবল প্রতিবাদের মঞ্চ নয়, সাধারণ মানুষকে আইন সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগও। বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে পুর্ব মেদিনীপুর—যেখানে বিজেপির সাংগঠনিক প্রভাব এখনও শক্তিশালী। কাঁথি, তমলুক ও নন্দীগ্রাম এলাকায় বড়সড় সভার পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারেও একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে এসআইআর চালু হয়েছে গত ২৮ অক্টোবর থেকে। ট্রেনিং শেষে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করতে শুরু করেছেন বিএলওরা। কিন্তু ঠিক করতে হবে, তা নিয়ে রাজ্যবাসীর মনে হাজারও প্রশ্নের ভিড়। নথিতে সামান্য ভুল থাকা সত্ত্বেও প্রায় সকলেই ভাবছেন, ঘর ছাড়তে হবে না ? অভিষেক সাফ জানিয়েছেন, একজনেরও নাম বাদ গেলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। তবে তাতেও আতঙ্কও তো রয়েছেই। সেই ভয় কাটাতেই তৃণমূল সেনাপতির নির্দেশে ময়দানে নামছে লিগাল সেল। তৃণমূলের এই কর্মসূচি আসলে বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা চাপ তৈরির কৌশল। আইনি কাঠামোকে সামনে রেখে দল এবার সরাসরি জনমুখী পথে নেমে পড়ছে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী