Home » কাঁটাতারের কাঁটা :ভারত বাংলাদেশের মধ্যে প্রধান আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে বঙ্গের কোথায় কোথায়?

কাঁটাতারের কাঁটা :ভারত বাংলাদেশের মধ্যে প্রধান আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে বঙ্গের কোথায় কোথায়?

Oplus_131072

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ৩ জানুয়ারি : সীমান্তের তারকাঁটা!  ইস্পাতের খুঁটি ও তারের জাল – সীমান্তের বেড়াজাল বা ফেন্সিং গড়ে ওঠে শক্তপোক্ত আর মজবুতভাবে। এই ফেন্সিং দরকার পড়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ রুখতে অথবা সীমান্তে চোরাচালান রুখতে। আরেকটি  বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,  সীমান্ত দিয়ে এক দেশের মানুষ আরেক দেশে অবলীলায় আসতে থাকে। অনেক সময় এক দেশ ছেড়ে আরেক দেশে এসে, স্থায়ীভাবে মানুষ তাদের জীবন জীবিকা বাসস্থান খুঁজে নেন। অনেক সময়, অবৈধভাবে এদের অনেকেই  সীমান্ত দিয়ে ঢুকে পড়েন।  আর সেই বিষয় এখন হয়ে উঠেছে ভারতের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মাথা ব্যথার কারণ। বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রচুর মানুষ প্রতিবছর এসে ঢুকে পড়েন। এঁদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তবে এঁদের ভারত সরকার দুটি ভাগে ভাগ করেছে। একদলের নাম শরণার্থী, অন্য দলের নাম অনুপ্রবেশকারী। শরণার্থী কারা? শরণার্থী হিসেবে ভারত সরকার আইন করে মোটের উপর চিহ্নিত করেছে তাদেরকেই, যারা ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে ঢুকে পড়েছেন।

আগে ভূগোলে চোখ রাখা যাক। ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশী ছটি দেশের সঙ্গে এই সীমান্ত রয়েছে। এই দেশ গুলি হল বাংলাদেশ, চীন, নেপাল, মায়ানমার,ভুটান,আফগানিস্তান। এই ছ’টি সীমান্তের  মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ সীমান্ত বাংলাদেশের সঙ্গে যা কিনা ৪০৯৬.৭ কিলোমিটার বা ২৫৪৫ মাইল। বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত ২২১৭ কিলোমিটারের, ত্রিপুরার সীমান্ত ৮৫৬ কিলোমিটারের, মেঘালয়ের সীমান্ত ৪৪৩ কিলোমিটারের, মিজোরামের সীমান্ত ৩১৮ কিলোমিটারের, অসমের সীমান্ত ২৬২ কিলোমিটারের। স্বাভাবিকভাবে পৃথিবীর পঞ্চম সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভারত -বাংলাদেশ সীমান্ত  দুই দেশেরই একাধিক রাজ্যের একাধিক জেলা জুড়ে রয়েছে।  পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলার অন্য পারেই রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত। উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদহ,  দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার- এই জেলাগুলি বাংলাদেশের খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু জেলার সাথে আন্তর্জাতিক সীমানা ভাগ করে নিয়েছে, যা ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলির মধ্যে অন্যতম। চোখ রাখা যাক পশ্চিমবঙ্গের মূল স্থলবন্দরগুলির দিকে :

পেট্রাপোল (বনগাঁ): উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় অবস্থিত, এটি সবচেয়ে ব্যস্ত স্থলবন্দরগুলির মধ্যে একটি। উল্টোদিকেই রয়েছে বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দর।

মহদীপুর: মালদা জেলায় অবস্থিত, উত্তরবঙ্গের গেটওয়ে মালদার বাণিজ্যিক কেন্দ্রটি বঙ্গের অন্যতম ভারত- বাংলাদেশ সীমান্ত হিসেবে পরিচিত। উল্টোদিকেই রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর।

হিলি: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত, এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। উল্টোদিকেই রয়েছে বাংলাদেশের দিনাজপুরের হাকিমপুর।

গেদে: নদীয়া জেলায় অবস্থিত। এটি একটি ঐতিহাসিক স্থলবন্দর। উল্টো দিকে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলা। কার্যত গেদের উল্টোদিকে রয়েছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা।

ঘোজাডাঙ্গা: বসিরহাট মহকুমা তথা উত্তর ২৪ পরগনায় অবস্থিত এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। অন্যদিকে রয়েছে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা।

ফুলবাড়ি: জলপাইগুড়ি জেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশের বাংলাবান্ধার বিপরীতে অবস্থান এই আন্তর্জাতিক  বাণিজ্যিক কেন্দ্রের ।

চ্যাংড়াবান্ধা : কোচবিহারে অবস্থিত। এটিও একটি পরিচিত স্থলবন্দর। বাংলাদেশের বুড়িমারী এর অপর পাশে অবস্থিত।

হলদিবাড়ি: কোচবিহারের হলদিবাড়ি বাংলাদেশের চিলাহাটির বিপরীতে, এটিও একটি সক্রিয় স্থলবন্দর।

মূলত বঙ্গের এই সব সীমান্ত দিয়েই ভারত বাংলাদেশ বাণিজ্যিক আদান প্রদান হয়ে থাকে কিন্তু এইসব বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছাড়াও ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে বঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে।।

 

About Post Author