সময় কলকাতা, ৮ জানুয়ারি : ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগেই জোরকদমে যুদ্ধ শুরু। একদিকে রাজনৈতিকভাবে স্নায়ুযুদ্ধ, অন্যদিকে বরফ যুদ্ধ। অভিযোগ তথ্য ও প্রযুক্তি পাচারের। ই ডি এবং বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু সবুজ ফাইল, অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু ‘ডেটা ট্রান্সফার’ সম্বলিত ‘ অপরাধ ‘।
বলাবাহুল্য,প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তি কথা বলে, প্রযুক্তি পাচার হয়ে গেলে বিপদ হয়। রাজনৈতিকভাবে, কুটনৈতিকভাবে, রাষ্ট্রীয় নীতিতে, পররাষ্ট্র নীতিতে, যুদ্ধে – সর্বত্র প্রযুক্তিগতভাবে তথ্য সংগোপনে রাখা জরুরি যা আজকের দিনে রক্ষণ ও আক্রমণের শেষ কথা। রাজ্য রাজনীতিতে নির্বাচনী কৌশলও যুদ্ধের অঙ্গ । সমর কৌশলে তথ্যই শেষ কথা আর তথ্য পাচার হয়ে গেলেই মুশকিল! আর সেটা করতেই বিজেপির দোসর হয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সংস্থায় হানা দিয়েছিল বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ। আর সেই জন্যই তড়িঘড়ি নজিরবিহীন ভাবে ইডির অভিযানের সময়ই মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছে যান প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অতঃপর আইপ্যাকের কার্যালয়ে। খালি হাতেই গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তাঁর হাতে দেখা যায় মোটা এক সবুজ ফাইল। রহস্য এই ফাইল ঘিরে। কী আছে এই সবুজ ফাইলে? মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ ফাইলের রহস্য কী? আর তাতেও কি স্বস্তি মিলেছে? ইডির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ডাটা ট্রান্সফার করা হয়েছে, এটা একটা ক্রাইম। বিজেপিকে ডাকাতের দল শিরোপা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরব, ভয়ঙ্করভাবে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। সবমিলিয়ে,বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ, বরফ যুদ্ধ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বাধীন রাজ্য পুলিশের।
মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ ফাইলের রহস্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্যভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন তিনরকম ভাবে এই ফাইল সমৃদ্ধ হতে পারে। আর যা তিনি বাগে আনতে পারিনি সেখানেও একই উপকরণ থাকতে পারে। সবুজ ফাইল বা অন্য ফাইলে কি ছিল?
তৃণমূলের গোপন নথি: মুখ্যমন্ত্রী নিজে জানিয়েছেন যে, ইডি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ নথিপত্র এবং হার্ড ডিস্ক বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছিল। তিনি সেই গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো উদ্ধার করে ফিরিয়ে এনেছেন।
আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা: ফাইলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রিলিমিনারি প্রার্থী তালিকা (candidate lists) ছিল বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন।
তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল: রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এতে দলের আগামী নির্বাচনের কৌশলপত্র (strategy papers), ভোটার সেগমেন্টেশন এবং বুথ স্তরের রিপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ ‘ডেটা’ বা তথ্য ছিল।
এসআইআরের তথ্য : আইপ্যাকের কাছেই এসআইআর সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য তৃণমূল দলীয়ভাবে মজুত করেছিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
সবুজ ফাইল বাঁচল, স্ট্র্যাটেজি কি বাঁচলো?তবে সেই সবুজ ফাইল শেষ কথা নয় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে ও অভিযোগে তা প্রকাশ পেয়েছে। ডেটা ট্রান্সফার হয়ে গিয়েছে বলেই অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ইডি অভিযান চলাকালে এক ব্যক্তিকে দেখা যায় অজস্র ফাইল নিয়ে সাদা এসইউভি গাড়িতে তোলেন। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে সবুজ ফাইল দিয়ে বেরোতে দেখার পরেও নিশ্চিন্ত দেখায় নি কারণ তিনি বলেছেন, আমাদের নির্বাচনের যাবতীয় কৌশলগত নথি ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি প্রচন্ড ক্রুদ্ধ এবং ক্ষুব্ধ। সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে আক্রমণ করে তিনি বলেছেন,এই কী অমিত শাহের কাজ? দেশকে রক্ষা করতে পারেন না যিনি তিনি ইডি পাঠাচ্ছেন আমাদের দলীয় কার্যালয়ে। তিনি বলেছেন,আমাদের পার্টির সব ডেটা, ল্যাপটপ, আই ফোন, পার্টির যাবতীয় তথ্য এমনকি এসআইআর সংক্রান্ত নথি সব ফরেন্সিক টিম নিয়ে এসে ট্রান্সফার করেছে। সব টেবিল ফাঁকা।।


More Stories
রাজ্যসভায় নীতিশ, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কে এবার?
ধর্নায় মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী দলনেত্রীর প্র্যাকটিস চলছে, বললেন সুকান্ত
কেন পদত্যাগ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস?