সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ জানুয়ারি : এখনও সিপিএমকে এত ভয় কেন? বারাসাতে মঙ্গলবার সিপিএমের উপরে তৃণমূলের হামলা এই প্রশ্ন তুলে আনতে বাধ্য। তৃণমূলের হামলায় গুরুতর প্রবীণ সিপিএম নেতা আহমেদ আলি খান।আহত একাধিক বাম কর্মী। অভিযোগ, উপস্থিত পুলিশ ছিল দর্শকের ভূমিকায়। আহমেদ আলি খানের মুখ, হাত, বুকে জোরালো আঘাত লেগেছে।
২০১৬ সালের পরে নির্বাচনে সিপিএমের ভোট ক্রমেই কমেছে। বিগত ২o২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বঙ্গে সিপিএম বা বামেদের ফল আশানুরূপ না হলেও বামেরা আক্রান্ত হচ্ছেন। মঙ্গলবার সিপিএমের উপরে তৃণমূলের আক্রমণ প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন তুলতে বাধ্য। প্রশ্ন, বামেরা কি শক্তিবৃদ্ধি করছে? সিপিএমকে এত ভয় কেন যে প্রাণঘাতী হামলা চালাতে হবে? নাকি এর পেছনে অন্য কারণ কাজ করছে। সময় কলকাতা একাধিক বামনেতার সঙ্গে কথা বলেছে। এই হামলার পেছনে বিজেপি- তৃণমূলের যোগসাজস দেখছে সিপিএম নেতৃত্ব।
Oplus_131072
সূত্রে প্রকাশ, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে মঙ্গলবার বিভিন্ন বিডিও অফিসে বামেদের ডেপুটেশন দেওয়ার কথা ছিল। সেইমতো বারাসত দু নম্বর বিডিও অফিসে বাম নেতারা স্মারকলিপি জমা দিতে গেলে হামলা চালায় তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের বেশ কয়েকজনকে বামেদের ওপরে হামলায় দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, বিডিও অফিসের সামনে বক্তব্য রাখা কালীন আহমেদ খানের ওপরে লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র সহ চড়াও হয় ‘তৃণমূলের ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী’। সিপিএম কর্মী ও মহিলা কর্মীদের ছাড় দেওয়া হয়নি ।অভিযোগ তাদের নেতৃত্ব দেয় দিতে দেখা যায় কীর্তিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রথম সারির তৃণমূল নেতাদের। আহমেদ খান জানিয়েছেন, তাঁকে খুন করতেই হামলা চালানো হয়। তিনি জানিয়েছেন, হামলার সময় তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ভেসে আসছিল। তিনি প্রাণে বাঁচলেও তার একাধিক বোন ফ্র্যাকচার হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বারাসাত হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। আহমেদ আলি খান বলেছেন, এসআইআর নিয়ে তাদের আন্দোলন মূলত আরএসএস ও বিজেপির সংখ্যালঘুদের উপরে সংগঠিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে থাকলেও তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা তার ওপরে হামলা চালিয়েছে।আর এখানেই প্রশ্ন ঘনীভূত।আহত আহমেদ আলি খানকে দেখতে হাসপাতালে যান সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক পলাশ দাস। তাঁকে দেখতে উপস্থিত হন সিপিএমের শীর্ষনেতা তন্ময় ভট্টাচার্য-সহ সিপিএমের শীর্ষ নেতারা ।
এদিনের হামলা নিয়ে এবং সিপিএমের উপরে তৃণমূলের হামলার প্রসঙ্গে পলাশ দাস বলেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করবে আর তার প্রতিবাদ অন্য কেউ করলেই তৃণমূল তার ওপরে হামলা চালাবে। পলাশ দাশ অভিযোগ করেন, পুলিশকে দিয়ে ডায়মন্ড হারবারে আক্রমণ করার পরে বারাসাতে তৃণমূল সরাসরি হামলা করেছে সিপিএম কর্মীদের উপরে। তাঁর মন্তব্য, তৃণমূল ও বিজেপি মিলে এসআইআর নিয়ে নাটক চালাচ্ছে। তন্ময় ভট্টাচার্য আরও একধাপ এগিয়ে এই হামলার কারণ ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, তৃণমূল এই মুহূর্তে জনগণ থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে চলেছে। বিজেপিও জনগণের প্রত্যাশা পূর্ণ করতে পারে না। সিপিএমের উত্থান ও জনমুখী আন্দোলনে ভীত উভয় রাজনৈতিক দল। সিপিএমের উপরে হামলার কারণ খুঁজতে অতঃপর বিজেপি- তৃণমূলের ” সেটিং তত্ত্ব “-র সমর্থনে তন্ময় ভট্টাচার্য ব্যাখ্যা করেন এসআইআরের বিরোধিতায় সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন অন্য বিরোধীদের আন্দোলনকে সমর্থন করেন না । তন্ময় ভট্টাচার্য, জানিয়েছেন যে, তৃণমূল বা বিজেপি এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের কাছে সমান ধিক্কৃত হলেও আরএসএস প্রধান মোহন ভগবতের তৃণমূল সম্পর্কে অবস্থান এবং বিজেপি – তৃণমূলের সেটিং তত্ত্বের ফলশ্রুতি আহমেদ খানের উপর হামলা। যখন যেখানে যেখানে জনমুখী আন্দোলন নিয়ে সিপিএম আন্দোলন করবে সেখানে সিপিএমের উপরে আক্রমণ নেমে আসবে, মন্তব্য তনময় ভট্টাচার্যের।।
More Stories
হুমায়ুনের দলে ফিরহাদের জামাই, সভাসঙ্গী মিম
তৃণমূল নেতার গাড়িতে বিস্ফোরণ, উড়ল ছাদ , গাড়ি গেল দুমড়ে
শুনানিতে হাজির বিজেপি নেতার উপর চড়াও তৃণমূল সমর্থকরা