সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ জানুয়ারি : উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে চলেছে। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা আইসিসি (ICC )চরম ব্যবস্থা নিতে চলেছে বলেই সূত্রের খবর। যেদিকে গতিপ্রকৃতি এগোচ্ছে সেক্ষেত্রে পাকিস্তান যদি ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ লীগের ম্যাচটি খেলতে অস্বীকার করে এবং ম্যাচ বয়কট করে তার ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে ক্রিকেটে। আইসিসি চায় পাকিস্তান তথা পিসিবি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুক, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পাকিস্তান তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাক। এই ম্যাচ পাকিস্তান না খেললে আইসিসির প্রতি অবজ্ঞা করার পাশাপাশি আইসিসি কে চরম আর্থিক ক্ষতির সামনে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে পাকিস্তান। সেক্ষেত্রে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে আইসিসি। কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে?
উল্লেখ্য,২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করে, তবে ব্রডকাস্টার ও স্পনসররা প্রধানত আইসিসি -র কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করবে। এর কারণ এবং আইনি প্রক্রিয়া নিচে দেওয়া হলো:
আইসিসি-র কাছে দাবি: ব্রডকাস্টার (যেমন জিও-স্টার) এবং স্পনসরদের সাথে মূল চুক্তি থাকে আইসিসি-র। আইসিসি চুক্তিবদ্ধভাবে প্রতিটি টুর্নামেন্টে নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচ (বিশেষ করে হাই-ভোল্টেজ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ) আয়োজন করতে বাধ্য । ম্যাচ না হলে ব্রডকাস্টাররা আইসিসি-র কাছে বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বিজ্ঞাপনের রাজস্ব হারানোর জন্য ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে।
পিসিবি -র ওপর দায় হিসেবে আইসিসি ব্রডকাস্টারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর, সেই বিশাল অংকের টাকা (প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি যা ভারতীয় মুদ্রা ৩১৫ কোটি টাকার কাছাকাছি ) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে দাবি করবে । কারণ, পাকিস্তান ‘মেম্বার পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট’ (MPA) লঙ্ঘন করে ম্যাচ বয়কট করার মাধ্যমে এই আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে।
এছাড়াও যা যা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে :
এনওসি ফ্রিজ (NOC Freeze): বিদেশি ক্রিকেটারদের পাকিস্তান সুপার লিগে (Pakistan Super League) খেলতে অনাপত্তিপত্র বা নো অবজেকসন লেটার না দেওয়া—যার ফলে পিএসএল কার্যত অচল হয়ে যেতে পারে।
আর্থিক নিষেধাজ্ঞা (Financial Withholding): আইসিসি থেকে পাকিস্তানের বার্ষিক রাজস্ব অংশ—প্রায় ৩৪.৫ মিলিয়ন ডলার—স্থগিত রাখা।
আইনি পদক্ষেপ (Legal Step): ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি আইসিসি ট্রাইব্যুনাল বা আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের (Arbitration) মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হতে পারে।
সম্পূর্ণ নির্বাসন (Full Suspension): পাকিস্তানের আইসিসির অধীনে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ ও ১৯৭০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পুরোপুরি ছেঁটে ফেলা।
সময় ৪৮ ঘন্টা, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আগে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য আলোচনা জারি আছে বলেই সূত্রের খবর। পাকিস্তান যতই মুখে ম্যাচ বয়কট করার কথা বলুক তাদের বিরুদ্ধে নির্বাসনের চরমতম ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে যার ফলে পাকিস্তানের ক্রিকেট মুখ থুবড়ে পড়বে। যদি নির্বাসন তথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পাকিস্তানকে ছেঁটে ফেলা নাও হয় তবুও পাকিস্তানের উপর এতটাই আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে যা পাকিস্তান ক্রিকেট কে পঙ্গু করে দিতে পারে। পাকিস্তান ক্রিকেটে দেখা দিতে পারে অচলাবস্থা।।
More Stories
লালহলুদের ইলিশ উৎসব ধূপগুড়িতে
আকিব নবীর হয়ে সরব বেঙ্গসরকার, তাঁর দাবি ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ করে দেওয়া হোক
আবার বাংলাদেশের কাছে হার পাকিস্তানের