পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা :
২০২৬ সালে বাম পতাকা উড়তে পারে ডোমকলে
ডোমকল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে একটি এমন কেন্দ্র যা আগ্রহর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।বলে রাখা ভালো,ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রে এবার বহুমুখী লড়াই। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী চারজন। বিজেপির এই আসনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। মুসলিম অধ্যুষিত এই আসনে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা ২০১১ সালের সেন্সাস অনুযায়ী ৮৯ শতাংশের বেশি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির গৌরীশংকর ঘোষের ৬ শতাংশর কম ভোট পাওয়ার পেছনে আশ্চর্য কোনো সমীকরণ নেই। এবারের ভোটে বিজেপির নন্দদুলাল পালেরও কোন আশা নেই। তথাপি এবার লড়াই বহুমুখী। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে এই বিধানসভা কেন্দ্রে লড়াই হয়েছিল দ্বিমুখী। বামফ্রন্টের মোহাম্মদ সেলিম এখানে ৪২ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত সংসদ আবু তাহের পেয়েছিলেন ৪৮ শতাংশের বেশি ভোট। বিষয়টি সুস্পষ্ট যে ২০২৪ সালে বঙ্গে লোকসভা ভোটে ৪২ টি আসনের ২৯৪ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে এই বিধানসভা কেন্দ্রে চমক জাগানো ফোন করেছিলেন বাম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম তবে পরাজিত হয়েছিলেন এবং ২০২১ সালেও এই কেন্দ্রে পরাজিত হয়েও তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান । বাম কংগ্রেসের শূন্য প্রাপ্তির বছরে মুস্তাফিজুর রহমানের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৮০ হাজারেরও বেশি এবং প্রায় ৩৬ শতাংশ। স্মরণ করা দরকার, ডোমকল ১৯৭৭ সালে সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সিপিএমের অক্ষত দুর্গ ছিল। প্রথমে আব্দুল বারি এবং ১৯৯১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এখানের বিধায়ক ছিলেন সিপিএমের আনিসুর রহমান যিনি একদা পঞ্চায়েত মন্ত্রীও ছিলেন। ২০২১ সালে এখানে তৃণমূল প্রথমবার থাবা বসায় ও জাফিকুল ইসলাম বিধায়ক নির্বাচিত হন।তবে মাত্র চার বছরের মধ্যেই প্রয়াত হন তিনি। ২০২৫ সালে তার শূন্যস্থান পূর্ণ করতে ডেবরা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক হুমায়ুন কবীরের। প্রাক্তন পুলিশ কর্তা তৃণমূলের হয়ে প্রচারে নেমে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে। তবে পুলিশকর্তার পক্ষে পরিস্থিতি অত্যন্ত আশাপ্রদ ও সুখকর নয়।আরেক হুমায়ুনের জনতা উন্নয়ন পার্টির মোশাররফ হোসেন রয়েছেন এই কেন্দ্রে। তিনি ২০২১ সালের মতো তৃণমূলের জন্য লাল কার্পেট বিছিয়ে রাখবেন না এবং জয়ের জন্যই তার লড়াই। স্বাভাবিকভাবেই তিনি তৃণমূলের ভোট ব্যাংকের থাবা বসাবেন। মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় কার্যত ভোট কাটাকাটির অংকে তৃণমূলের ক্ষতির পাশাপাশি প্রত্যক্ষভাবে লাভবান হচ্ছে কংগ্রেস ও সিপিএম। জনতা উন্নয়ন পার্টির আগমনে তৃণমূলের আসন কমলে বিজেপির আসন বাড়বে এরকম সরলীকরণ অন্তত মুর্শিদাবাদে খুব বেশি কেন্দ্রে নাও হতে পারে। তৃণমূল ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাম অধ্যুষিত এলাকায় প্রধানত লাভবান হবে কংগ্রেস অথবা সিপিএম। তবে ডোমকলে বেগম কংগ্রেস প্রার্থী হওয়ায় কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সীমা নেই। বহিরাগত তকমা দিয়ে বিভিন্ন ধরণের বিক্ষোভ হয়েছে প্রাক্তন তৃণমূলী এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ময়দানে আসায়। তবে সিপিএমে এধরনের ক্ষোভ বিক্ষোভ নেই। মোস্তাফিজুর আবার প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল বারী ও আনিসুর রহমানের উত্তরসুরি হিসেবে তার জন্য বামকর্মীরা এককাট্টা। ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রে আজও অনেক ডেডিকেটেড বাম কর্মী রয়েছেন। এখানে আগে রাম পরে বাম তত্ত্ব নেই। বরং এখানে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার প্রধান মুখ হিসাবে স্বাভাবিকভাবেই চিহ্নিত করা যায় মোস্তাফিজুর রহমানকে। প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া রয়েছে একদা এই বাম গড়ে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে,এই কেন্দ্রের ভোট প্রচারে বামেরা কিছুটা হলেও বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন রাম নাম বাবরি মসজিদের মোহ থেকে সরে এসে উন্নয়নের রাস্তায় হাঁটতে হবে। পাঁচ বছর আগে মোস্তাফিজুর যদি ৩৬ শতাংশ ভোট টানতে পারেন তাহলে এবারও তাঁর ভোট কমার সম্ভাবনা কম। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ডোমকলের উজ্জীবিত বাম কর্মীদের শরীরে ভাষায় প্রকাশ পাচ্ছে এবার এই আসনে ভোট বাড়বে। পাশাপাশি এক হুমায়ুন কবিরের দল আরেক হুমায়ুন কবিরের শক্তি কমাবে- ক্ষয় করবে । বিষে বিষে বিষক্ষয় হবে মনে করছেন বাম কর্মীরা। হাইভোল্টেজ এই কেন্দ্রে বামেদের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল, অত্যন্ত প্রবল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম ও বামফ্রন্ট নতুন করে খাতা খোলার জন্য যে প্রার্থীদের দিকে তাকিয়ে আছে তাদের মধ্যে অন্যতম মোস্তাফিজুর রহমান এবং হাওয়া বলছে তাঁকে নিয়ে বাম সমর্থকরা বাস্তবমুখী স্বপ্ন দেখতেই পারেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লাল পতাকা উড়তেই পারে ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রে।।।
*ডোমকল* – সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ( *সিপিএম* )


More Stories
কী হবে মালদা বিধানসভা কেন্দ্রে?
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন : কে জিতবে গাজোলে?
একদা বামগড় হবিবপুর এখন রামগড়