Home » অশোকনগরে জিতবে কে?

অশোকনগরে জিতবে কে?

Oplus_131072

পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা : অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রটি ভারতীয় জনতার পার্টির কাছে পশ্চিমবঙ্গের তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি তাৎপর্যপূর্ণ স্থান। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি বিধায়ক হিসেবে বাদল ভট্টাচার্য ১৯৯৯ সালের উপনির্বাচনে অশোকনগর বিধানসভা থেকে জয়ী হয়েছিলেন। ১৯৭৭ থেকে দীর্ঘ ২২ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে তিনি ২০০১ সাল পর্যন্ত বিধায়ক ছিলেন। বিগত ২৫ বছরে বিজেপি বঙ্গে অত্যন্ত পুষ্ট হয়েছে তবে অশোকনগরে বিজেপি আর ক্ষমতায় ফেরেনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অশোকনগর লাগোয়া হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রে যখন প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা এবং দুর্নীতির অভিযোগের কারণে তৃণমূল বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের আসন টলমল করছে, তখন অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী এই বিধানসভায় নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন। ২০২১ সালে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক ধীমান রায়কে প্রথমে দল মনোনয়ন দিলেও পরে তাঁকে প্রার্থী পদ থেকে সরিয়ে নিয়ে তৎকালীন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নারায়ণ গোস্বামীকে প্রার্থী করে তৃণমূল। ধীমান রায়ের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাহীনতার অভিযোগের পাশাপাশি নারায়ণ গোস্বামীকে টিকিট দিয়ে বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্রের সম্ভাব্য অন্তর্দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলে তৃণমূল নেতৃত্ব। সে সময় নারায়ণ গোস্বামী বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশী ছিলেন। বারাসাত জেলার প্রান্তিক স্বরূপনগর থেকে উঠে আসা নারায়ণ গোস্বামী ধীরে ধীরেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন এবং অশোকনগরে গিয়ে একাধিক জনকল্যাণমূলক কাজের অঙ্গীকার রাখেন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে অশোকনগরের বিজেপির প্রার্থী তনুজা চক্রবর্তীকে ২৩ হাজার ভোটের বেশি ব্যবধানে হারিয়ে দেন। উল্লেখযোগ্যভাবে ২৫% ভোট বাড়িয়ে ফেলেছিলেন বিজেপির তনুজা। এরকম সমীকরণ থেকে মনে হতেই পারে, অশোকনগরের পায়ের তলায় মাটি মজবুত হয়ে উঠেছিল বিজেপির। এই প্রেক্ষাপটেই ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃতীয় স্থানাধিকারী তাপস ব্যানার্জির কথা উল্লেখ না করলেই নয়। আইএসএফের জন্মলগ্নের ভোটে অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়াই করে চমক দেখান তাপস ব্যানার্জী। ৪৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে তিনি সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি আছেন। তাঁর দল আইএসএফের কিছু পকেট ভোট রয়েছে অশোকনগরে। নিজে সারা বছর আদিবাসী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের জন্য সংগ্রাম করেন ও তাদের পাশে দাঁড়ান বলেই তত্ত্ব প্রচলিত। তাদের হয়ে সরব হওয়ার জন্য গ্রাসরুট লেভেলের মানুষের সমর্থন তাপস ব্যানার্জীর সঙ্গে রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে বাম আদর্শ বিশ্বাসী হওয়ার পাশাপাশি তার রাজনৈতিক দল আইএফএলের সঙ্গে বামফ্রন্টের ২০২৬ সালেও গাঁটছড়া থাকায় অশোকনগরের বাম ভোট তার দিকে আসবে। উল্লেখ করা ভালো, বামফ্রন্ট অশোকনগরে দীর্ঘদিন ধরে একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি। বাম আমলে ননী কর একাধিকবার এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন। তার পুত্র সত্যসেবী কর ২০০৬ সালে সিপিআইএমের হয়ে অশোকনগরের বিধায়ক হয়েছিলেন। ২০০১ সালেও কেন্দ্র বামেদের দখলেই ছিল। ২০১১ ও ২০১৬ সালে সত্য সেবী কর অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে৩৮-৩৯ শতাংশ করে ভোট টেনেছিলেন এবং দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। ২০২৬ সালেও তাপস ব্যানার্জীর ভোট বাড়ার প্রভূত সম্ভাবনা কারণ এখানে বাম ভোট বিজেপির দিকে যাবে না এবং বাস্তবের দিক থেকে বিবেচনা করলে বিজেপির চিকিৎসক প্রার্থী সুময় হীরা জয়ী হওয়ার সম্ভবনা রাখেন একথা বিজেপির সক্রিয় কর্মীরাও মনে করছেন না। সুময় হীরা বক্তা হিসেবেও অপটু, প্রচারেও সেভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি। তাকে লড়াই রাখতে পারে একমাত্র হিন্দুত্ব। ১৯৯৯ সালে যে কেন্দ্রে বাদল ভট্টাচার্য জয়ী হয়ে বিজেপির হয়ে নজির করেছিলেন, সেখানে বিজেপির গ্রাফ নিম্নগামী। বিদায়ী বিধায়কের কট্টর সমালোচকরা বলছেন, বিধায়ক হিসেবে এখানে পাঁচ বছরে নারায়ণ গোস্বামী প্রচুর কাজ করেছেন তবুও নারায়ণ গোস্বামী বলছেন, উন্নয়নের কোনও শেষ নেই এবং অশোকনগরে পর্যটন শিল্পে তিনি মনোনিবেশ করবেন।
বাইটঃ নারায়ণ গোস্বামী, তৃণমূল প্রার্থী, অশোকনগর ()
ভিও — বাস্তবের দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হচ্ছে, বারাসাত সাংগঠনিক জেলার একাধিক কেন্দ্রের মতো এখানেও তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী যেন আইএসএফে। তাপস ব্যানার্জির প্রচারে লোকও হচ্ছে, সনাতনী ভোট আবেগনির্ভর হয়ে বিজেপির দিকে ঢলে না পড়লে তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েই উঠতে পারে আইএসএফ। কংগ্রেস এখানে হীনবল, বিজেপি ক্ষয়রোগগ্রস্ত। নারায়ণ গোস্বামী মনে করেন তার লড়াই তার নিজের সঙ্গেই। তার মতো তার ছায়াসঙ্গীরাও মনে করেন, অশোকনগর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে কার্যত দাঁড়িয়ে আছেন তৃণমূল প্রার্থী নিজেই। নারায়ণ গোস্বামী বলছেন ২০২৬ সালে নির্বাচনে ফলাফলের ক্ষেত্রে তাঁর টার্গেট বা লক্ষ্য, ২০২১ সালের ২৩ হাজার ভোটে জয়ের ব্যবধানকে আরো অনেক বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া। আশাবাদী তিনি। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে অশোকনগরের আরো কিছু কাজ করা তার বাকি থেকে গেছে বলেই তার আত্ম-উপলব্ধি। এখন দেখার নারায়ণ গোস্বামীকে তাপস ব্যানার্জি কতটা বিপাকে খেলতে পারেন?

 

About Post Author