সানি রায়,সময় কলকাতা , ১৬ মে : হাতির আক্রমণ,যুবকের মৃত্যু, ক্ষোভে ফেটে পড়ল গ্রাম — মৃতদেহ নিয়ে রেঞ্জ অফিস ঘেরাও, বনদপ্তরকে তুলোধোনা।
ডুয়ার্সে হাতির হামলায় বলি আরও এক তরতাজা প্রাণ! শুক্রবার রাতে চানাডিপায় হাতির হামলায় আকাশ ওরাও-এর মৃত্যুর পর শনিবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মোরাঘাট রেঞ্জ অফিস। মৃতদেহ নিয়ে অফিস ঘেরাও করে চরম বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন শালবাড়ি, চানাডিপার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
আর কত প্রাণ গেলে ঘুম ভাঙবে বনদপ্তরের? এই প্রশ্ন তুলে রেঞ্জ অফিসারকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার বলা সত্ত্বেও হাতির হানা রুখতে কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়নি বনদপ্তর। ফোন করলেও সময়মতো পৌঁছায় না বনকর্মীরা। ফলে প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের।
বিক্ষোভকারীরা রেঞ্জ অফিসার চন্দন ভট্টাচার্যের হাতে স্মারকলিপি তুলে দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।
জঙ্গল লাগোয়া গ্রামে ২৪ ঘণ্টা বনদপ্তরের টহলদারি চাই। হাতি ঢুকলেই যেন ১০ মিনিটে টিম পৌঁছায়, এমন ব্যবস্থা করতে ক্ষতিপূরণ নয়, চাকরি চাই। নিহত আকাশের পরিবার সহ সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অবিলম্বে ৫ লক্ষ টাকা ও একজনের সরকারি চাকরি দিতে হবে।পরিকাঠামো তৈরি করুন। গ্রামে গ্রামে সোলার ফেন্সিং, হাইমাস্ট আলো, সাইরেন ও সুরক্ষা ক্যাম্প বসাতে হবে।
চাপের মুখে রেঞ্জ অফিসার চন্দন ভট্টাচার্য জানান, “সরকারি নিয়ম মেনে মৃতের পরিবার ৫ লক্ষ টাকা পাবে। দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে নামলো হয় বানারহাট থানা ও বিন্নাগুড়ি আউট পোস্টের পুলিশ কর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও বনদপ্তরের লিখিত আশ্বাসের পর দুপুরে বিক্ষোভ ওঠে। তবে গ্রামবাসীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আশ্বাসে কাজ না হলে এবার রাস্তায় নামব।”


More Stories
গোঘাটে তৃণমূল নেতা খু*ন
প্রবীণ মন্ত্রীর প্রয়াণ
সাপলুডোর আইএসএলে শীর্ষে জামশেদপুর