Home » সীমান্তে চ্যাংড়াবান্ধায় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের পরই শুরু মাপজোক

সীমান্তে চ্যাংড়াবান্ধায় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের পরই শুরু মাপজোক

সানি রায়, সময় কলকাতা : বঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার গঠিত হয়েছে ঠিক ১১দিন আগে। নবনির্বাচিত সরকার জানিয়েছিল যে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রাথমিক পদক্ষেপ হবে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষিত করা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বঙ্গে ক্ষমতায় আসার আগেই বারংবার সীমান্ত নিয়ে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের কথা বলে এসেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এও বলেছিলেন যে,রাজ্য সরকারের অসহযোগিতায় কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এবার কোচবিহার জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত চ্যাংড়াবান্ধায় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের পরই শুরু সীমান্তে মাপজোক, কাঁটাতারের বেড়ার জন্য খুঁটি পুঁতল বিএসএফ।

রাজ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গেই এবার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের লক্ষ্যে জমি মাপজোকের কাজ শুরু করল বিএসএফ এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর। মঙ্গলবারই সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে আধিকারিকরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং কোথায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে, সেই জায়গাগুলি চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেন।

বিএসএফের তরফে কোন এলাকা দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া যাবে, সেই সমস্ত জায়গা ম্যাপ দেখে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়। পরে সেই নির্ধারিত এলাকাগুলিতে খুঁটি গেড়ে সীমান্ত চিহ্নিতকরণের কাজও শুরু করা হয়। এদিন ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি বিএসএফ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় গ্রামবাসীরাও, যাদের জমির উপর দিয়েই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৫৬৩ কিলোমিটার জায়গায় কাঁটা তার নেই আর তারমধ্যে বেশ কিছু জায়গা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এরকম একটি উল্লেখযোগ্য জায়গা চ্যাংড়াবান্ধা।  ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া  চিকেন নেক সংলগ্ন এই সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার জায়গা কাঁটাতারবিহীন অবস্থায় পড়েছিল। ফলে অনুপ্রবেশ, গরু পাচার ও মানব পাচারের মতো অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজ এগোয়নি।

অবশেষে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হতেই সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোথায় রাস্তা হবে এবং কোন অংশে কাঁটাতারের বেড়া তৈরি হবে, তা নির্ধারণ করেই দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

এই উদ্যোগে খুশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের আশা, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ হলে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও পাচারের ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

উল্লেখ্য, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের সীমান্তের যে অঞ্চলে কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেখানে বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বঙ্গের নতুন মন্ত্রীসভা। নবনির্বাচিত সরকারের  মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পরে বলেছিলেন , এরকম না করা গেলে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা পরিবর্তন ও সুরক্ষা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একথা ও প্রাসঙ্গিক যে,কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে জানিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২,২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এরমধ্যে ৫৬৩ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে,তৃণমূল কংগ্রেস সরকার অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করছে।নির্বাচনী প্রচারকালে অমিত শাহ-র দফতর থেকে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষিত করতে ৬০০ একর জমির প্রয়োজন, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিচ্ছেন না। নতুন সরকার বঙ্গে ক্ষমতায় এসেই যে এই বিষয়টি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে  যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মোকাবিলা করছেন।।

About Post Author