পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা , ৮ জুন : বড় জয় বিজেপির। তৃণমূলের বিরুদ্ধে জয়ের পর, মোক্ষম রাজনৈতিক চালে তৃণমূলকে কার্যত টুকরো টুকরো করে দেওয়ার পরে, তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাবমূর্তি ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পেরেছে বিজেপি । বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা বলে তৃণমূল বিধায়ক বা সাংসদদের বিশেষ কিছু নেই। অন্তত বিজেপি, তৃণমূলের ঘরে থাকা অবশিষ্ট নেতা বা কংগ্রেসের নেতাদের চোখে এই সাংসদ বিধায়করা ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হচ্ছেন সুবিধাবাদী, বেইমান ও গাদ্দার বলে। সম্মান বলে কিছুই অবশিষ্ট নেই সামাজিক গণমাধ্যমেও ।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ৩৪ দিন ও কাটেনি। বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭ টি আসন পেয়ে বঙ্গে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। এরকম বিপুল জয় হতে পারে বিজেপির, তা অনেকেরই ধারণার অতীত ছিল। অতঃপর ৩৪ দিন যেতে না যেতেই, মোক্ষম রাজনৈতিক চালে বিজেপি ধ্বংস করল বা কার্যত নিশ্চিহ্ন করে দিতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের তৃণমূলকে। জনাদেশ বিজেপির পক্ষে জানিয়ে, কার্যত তৃণমূলের বিপক্ষে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে অন্ততপক্ষে ১১ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী হয়েছেন।তাঁরা আবার দিল্লিতে বিভিন্ন বিজেপি নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন যেখানে হাজির ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বঙ্গেও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি আপাতদৃষ্টিতে রাজ্যে তথা বিধানসভায় বিদ্রোহী তৃণমূল নেতাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আপাতদৃষ্টিতে তাঁরা বিজেপির বিরোধী বলে দাবি করলেও লোকসভা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় তৃণমূলে বিদ্রোহের মডেল এক হওয়ায় এবং ইডি -সিবিআইয়ের নজরে থাকা একাধিক জনপ্রতিনধিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যেতে দেখায় একটি বিষয় স্পষ্ট তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়েছেন। এরা দলত্যাগ বিরোধী আইনের জন্য সরাসরি বিজেপিতে না যেতে পারলেও কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এঁদেরকে তৃণমূলের লজ্জা বলেই আখ্যা দিয়েছেন। এই বিধায়ক ও সাংসদদের বিদ্রোহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। বিজেপির জয় শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে তারা হীনবল করেছেন তাই নয় প্রায় ৮০ জন তৃণমূল বিধায়ক এবং সংসদদের ভাবমূর্তি মাটিতে মিটিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন। ইতিমধ্যেই একটি ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে যে আপোষ এবং রাস্তা নিতেই বিদ্রোহী হয়েছেন তৃণমূলের কিছু বিধায়ক ও সাংসদ। বলেছেন তারা কাজ করতে পারছিলেন না, জনাদেশও বিজেপির সঙ্গে। পাল্টা বিজেপির সজল ঘোষ তাঁর বক্তব্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার কে লক্ষ্য করে বলেছেন, ‘ঘুরিয়ে বলার কি আছে! এবার তাহলে বলুন তৃণমূলের হয়ে খাওয়া শেষ বিজেপির খেতে চাই। ‘ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, “কিছু ধান্দাবাজ নিজেকে বাঁচানোর জন্য বিজেপির অনুগ্রহ চাইছে। নিজেকে বাঁচান কিন্তু বিজেপির অনুগ্রহ নিতে হবে কেন! ” তবে দুর্গাপুরের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ জানিয়েছেন,” মরে যাব তবুও দিদির পাশে ছিলাম,আছি, থাকবো। বিশ্বাসঘাতক- বেইমানদের (গদ্দারদের ) বেরিয়ে যেতে দিন, ভালো হবে।।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবেন কিনা বা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কিনা তা সময়-ই বলতে পারবে তবে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক বা সাংসদদের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা যে বেজায় মুশকিল হবে তা বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্য থেকে সুস্পষ্ট এবং সুস্পষ্ট নেটিজেন মহলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ায়। নেটিজেন এবং রাজনৈতিক মহলে এরকমটাও শোনা যাচ্ছে, ২০২৯ সালের লোকসভার টিকিট এবং জনরোষে ডিম থেকে বাঁচতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবস্থা করতে তৃণমূলের নেতা নেত্রীরা বিজেপির সঙ্গে সেটিং করতে গিয়েছেন। ফেসবুক খুললেই বিদ্রোহীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের ঝড়! বরং কুণাল ঘোষ, কীর্তি আজাদ, মদন মিত্রদের মত গুটিকয়েক তৃণমূল নেতা নেত্রীর এখনও পর্যন্ত অবস্থান প্রশংসিত হচ্ছে। মোটের ওপরে বিজেপি তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের সম্মানকে ভূলুণ্ঠিত করতে পেরেছেন। বড় জয় বিজেপির , এছাড়া কী আর বলা যায় এক কথায়!
বড় জয় বিজেপির #বড়জয়বিজেপির #বিজেপি
আরও পড়ুন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক : মমতা কি রক্ষাকবচ পেলেন?


More Stories
সব্যসাচী দত্ত গ্রেফতার
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক : মমতা কি রক্ষাকবচ পেলেন?
বিজেপিতে যোগ দিতে বৈঠকে তৃণমূলের লোকসভার ১১ সাংসদ কারা?