চুমকী সূত্রধর, ১০ জুলাই : বারুইপুরে গণপিটুনিতে মৃত ইন্দ্রজিত মণ্ডলের বাড়ি সারাই প্রশাসনের। বসল সিসিটিভি ক্যামেরা। শনিবারই বারুইপুর ইন্দ্রজিত মণ্ডলের বাড়ি যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী।
গত মঙ্গলবারই বারুইপুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, গণপিটুনিতে যাঁর মৃত্যু হয়েছে তিনি নির্দোষ ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। শনিবার ফের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে মৃত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়ি যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তার আগেই শুক্রবার সকালে বারুইপুরের সূর্যপুরে গণপিটুনিতে মৃত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়ি পরিদর্শনে যান আইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ কঙ্করপ্রসাদ বারুই। শনিবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সূর্যপুরে যাবেন। পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করবেন। যাবেন মৃতার বাড়িতে। এরপর গণপিটুনিতে মৃত ইন্দ্রজিৎ কুণ্ডুর বাড়িতেও যাবেন তিনি। জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই সরকারের তরফে ইন্দ্রজিতের বাড়ি মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন হয়েছে বাড়ির সামনে, বসানো হয়েছে সিসিটিভি। প্রশাসনের তরফ থেকে খাদ্য সামগ্রী ও জামাকাপড়ও দেওয়া হয়েছে ইন্দ্রজিতের পরিবারকে। প্রশাসন পাশে দাঁড়ানোয় খুশি ইন্দ্রজিতের পরিবার। এখন তাঁদের একটাই দাবি, দোষীরা যেন সাজা পায় !
বারুইপুর কাণ্ডের সূত্রপাত গত শনিবার। সেদিন থেকেই নাবালিকা নিখোঁজ ছিল। রবিবার সকালে পুকুর থেকে তার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, গণধর্ষণের পর তাকে খুন করা হয়েছে। এরপরই এক যুবককে সন্দেহের বশে পিটিয়ে খুন করে উত্তেজিত জনতা। ঘটনার পরই অ্যাকশনে নামে পুলিশ। ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গঠন করা হয় ৬ সদস্যের সিট। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে গিয়ে জানান, গণপিটুনিতে যাঁর মৃত্যু হয়েছে, তিনি নির্দোষ ছিলেন।দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাসও দিয়েছিলেন শুভেন্দু। পুরো গণপিটুনিতে সাম্প্রদায়িক উসকানি থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়। এসবের মাঝেই শনিবারের শুভেন্দুর সফরের আগে ইন্দ্রজিতের ভাঙাচোরা, জীর্ণ ঘরটি সংস্কারে হাত দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় নতুন সিসি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই রাজমিস্ত্রিরা ইন্দ্রজিতের টালি ও ঢালাই মেশানো দোআঁশলা বাড়িটি মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। এদিনই তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের ত্রাণসামগ্রী। চাল, ডাল, আলু থেকে শুরু করে নতুন বস্ত্র— সমস্ত কিছুই তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারের হাতে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারুইপুরকাণ্ডে এ পর্যন্ত মোট ৪টি পৃথক মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ঘটনার পর ধড়পাকড়ও চলছে জোরকদমে। নাবালিকার ওপর পাশবিক নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই মামলার মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল ইতিমধ্যেই পুলিশের এনকাউন্টারে খতম হয়েছে। ঘটনার দিন পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া, পথ অবরোধ এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত ৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার জেরে ডাউন লাইনে রেল অবরোধ, ট্রেন চলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং রেললাইনের সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে আরও দু’জনকে পাকড়াও করেছে বারুইপুর জিআরপি। অন্য দিকে, অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনাটির তদন্তপ্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। এই এনকাউন্টার মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থে শুক্রবারই বারুইপুর থানায় পৌঁছোয় সিআইডি-র একটি বিশেষ ফরেনসিক দল।।


More Stories
সুটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের ফাইল খুলল, সিআইডি পরিদর্শন ও পরিবারের দাবি
বারুইপুর ‘এনকাউন্টার’: কর্মের ফল নাকি “সকালে জমা, বিকেলে খরচ!”
গণপিটুনিতে নিহত যুবক বেকসুর , অশান্তির পেছনে মৌলবাদী ও দেশবিরোধী শক্তি, বললেন মুখ্যমন্ত্রী