চুমকী সূত্রধর ও পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা : বারুইপুর গণধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে অন্যতম প্রধান অভিযুক্তের মৃত্যু এবং মৃত্যুর পুনর্নিমাণের দুটি অধ্যায় এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দুটি অগ্রপশ্চাৎ বিবৃতি । প্রথম অধ্যায়, সিসিটিভি ফুটেজ যেখানে নির্যাতিতা ও নিহত নাবালিকাকে হেঁটে যেতে দেখা যায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হওয়া অভিযুক্ত প্রভাস মন্ডলের সঙ্গে । দ্বিতীয় অধ্যায়, পুলিশ বলছে, পুনর্নিমাণে পুলিশের বন্দুক কেড়ে পালাতে চেষ্টা করে প্রভাস ও বাধ্য হয়ে গুলি চালাতে হয়। সংশ্লিষ্ট অধ্যায় ঘিরে দুটি বিবৃতি। প্রথম বিবৃতি, শুভেন্দু অধিকারীর যেখানে বলা হয়েছিল বিজেপি ক্ষমতায় এলেই এত বড় পাপের অস্তিত্ব থাকবে না এবং “সকালে জমা, বিকেলে খরচ।” দ্বিতীয় বিবৃতি, অভিযুক্তের দেহ নিতে অস্বীকার অভিযুক্তের মায়ের – “ওর কর্মের ফল।” এবার দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনাবলী ও মোড়ের দিকে নজর রাখা যাক। ঠিক কী হয়েছে? পুনর্নির্মাণ করতে ঠিক কতটা বাধা এসেছিল? নাকি এনকাউন্টার – কর্মের ফল নাকি সকালে জমা বিকেলে খরচ তত্ত্ব?
বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুনের তদন্তে বড় মোড়। ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হল মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুনর্নিমাণের সময় পুলিশের বন্দুক কেড়ে পালাতেই চলল গুলি। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের।
বারুইপুর গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এবার এনকাউন্টার ! পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নিমাণের জন্য প্রভাসকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বারুইপুরের সূর্যপুরে। সেই সময় পুলিশের বন্দুক কেড়ে পালানোর চেষ্টা করায় গুলি চালায় পুলিশ। মৃত্যু হয় ধৃত প্রভাস মণ্ডলের।
ফ্ল্যাস ব্যাক
বারুইপুরে নৃশংসভাবে গণধর্ষণ করে খুন করা হয় এক নাবালিকাকে।বারুইপুর কাণ্ডের তদন্তে নেমে একটি সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পায় পুলিশ। তাতে দেখা গিয়েছিল নাবালিকার সঙ্গে প্রভাস মণ্ডল নামে এক যুবক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। এরপরই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশি জেরায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রেললাইনের পাশের একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল রবিবার। স্থানীয়দের দাবি, মৃতদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পথও দেখিয়েছিল প্রভাসই।
এনকাউন্টার!
মঙ্গলবার গভীর রাতে অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাস মণ্ডলকে বারুইপুরের সূর্যপুরে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ।তদন্তকারীদের দাবি, আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ (সঠিক সময় বলা হয়নি ) ঘটনাস্থলে আচমকা এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয় প্রভাস।পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, তদন্তকারী দলকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে প্রভাসের বিরুদ্ধে।এরপর পালানোর চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রভাসকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রভাসকে জেরার সূত্র ধরেই বাকি অভিযুক্তদের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছিল। তবে জেরার সময় প্রভাস বারবার বয়ান বদলে তদন্তকে বিভ্রান্ত করারও চেষ্টা করছিল।
মঙ্গলবার বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী
মঙ্গলবারই বারুইপুরে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ডিজিপিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তে অগ্রগতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি স্পষ্ট করা হয়, তদন্তে পুলিশের কোনও গাফিলতি ধরা পড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসার পর রবিবার একজনকে তুলে বারুইপুরের ওই এলাকার উত্তেজিত জনতা মারধর করতে শুরু করে। গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় যুবকের। পরে অভিযোগ ওঠে, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই। মঙ্গলবার তাঁর পরিবারের সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন শুভেন্দু। বৈঠক শেষে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ধৃত মূল অপরাধীদের পাশাপাশি আইন হাতে তুলে নিয়ে যারা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছে এবং পিছন থেকে উস্কানি দিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে কঠোর শিক্ষা দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই আল্টিমেটামের এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুনর্নির্মাণের সময় ঘটে এই এনকাউন্টার। পুলিশ জানিয়েছে, প্রভাসকে জেরা করেই বাকি অভিযুক্তদের হদিশ মিলেছিল। তবে মৃত যুবক বারবার বয়ান বদল করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল।
অভিযুক্তের মৃত্যুর পরে পরিবারের বক্তব্য
ছেলের দেহ নিতেও অস্বীকার মায়ের, বললেন ‘এটা ওর কর্মের ফল। ‘ বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় পুলিশের এনকাউন্টারে প্রভাসের মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেওয়া হয়েছে পরিবারের কাছে। তবে ছেলের মৃত্যুতে কোনও আক্ষেপ নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তার মা। এমনকী, মৃতদেহ গ্রহণ করতেও হাসপাতালে যাবেন না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বারুইপুরের ঘটনায় ছয় সদস্যের বিশেষ দল জিজ্ঞাসাবাদ জারি রেখেছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আর এক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফলে এই মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। তদন্ত শুরুর পর পুলিশ একটি সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পায়। এদিকে, বারুইপুরে পুলিশের উপর হামলার ঘটনাতেও কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৫ জনের বেশি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে, কর্মের ফল এবং ” সকালে জমা, বিকেলে খরচ ” তত্ত্ব ঘিরে চর্চা।।
#বারুইপুর #বারুইপুরকাণ্ড #এনকাউন্টার


More Stories
ব্যাঙ্ক গিয়ে নিখোঁজ, ক্লাব থেকে উদ্ধার গৃহবধূর দেহ
বারুইপুর : জমা-খরচ, দৈব বিচার এবং এনকাউন্টার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়া কী?
গণপিটুনিতে নিহত যুবক বেকসুর , অশান্তির পেছনে মৌলবাদী ও দেশবিরোধী শক্তি, বললেন মুখ্যমন্ত্রী