Home » ২১ জুলাই স্মরণ : টেক্কা দিল কোন শিবির ? মমতা নাকি ঋতব্রত?

২১ জুলাই স্মরণ : টেক্কা দিল কোন শিবির ? মমতা নাকি ঋতব্রত?

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ জুলাই : ২১ জুলাই, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শিবির ও কংগ্রেসের শহীদ স্মরণ, টেক্কা দিল কোন শিবির ? মঙ্গলবার রাজ্যের মানুষের এবং রাজনৈতিক মহলের চোখ ছিল এই দিন উপলক্ষ্যে মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শিবিরের জনসমাবেশের তুলনামূলক  প্রাবল্যের দিকে। জিতল কে?

২১ জুলাই ৩৩ বছর আগে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী খুন হয়েছিলেন যাদের স্মরণ করে কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই আলাদা আলাদা ভাবে শহীদ দিবস পালন করে থাকে। কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শহীদ দিবস পালন করে থাকে তৃণমূল কংগ্রেস । তারা রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ঠিক প্রাক লগ্ন থেকে ২১ জুলাই দিনটি আলাদা মাত্রা পেতে থাকে।

তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১০ সালের ২১শে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশে সর্বকালের সবচেয়ে রেকর্ড ভাঙা ঐতিহাসিক ভিড় হয়েছিল। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঠিক আগের বছর হওয়ায়, সেবার রাজনৈতিক উন্মাদনা ছিল চরমে। তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব দাবি অনুযায়ী, ২০১০ সালের সেই সমাবেশে জমায়েত এতটাই বিশাল ছিল যে তা ১০টি ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড পূর্ণ করার মতো ছিল।এছাড়াও সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে করোনাকালের পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ২০২২ সাল এবং চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর ২০২৪ সালের ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশেও ধর্মতলায় উপচে পড়া অভাবনীয় ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ২০২৬ সালের পরিস্থিতি অন্যরকম। ক্ষমতা থেকে অপসারণের পরে তৃণমূল কংগ্রেস টুকরো টুকরো হয়েছে। বঙ্গের তৃনমূলকংগ্রেসের বহু বিধায়ক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে একটি আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেছেন যাতে ঋতব্রত গোষ্ঠী বলে সম্বোধন করা হয়। অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদদের সিংহভাগ  এনসিপিআই দলে যোগদান করেছেন যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন। এবার ২১ জুলাই পালন করছে তৃণমূল কংগ্রেসের তিন শিবির। পাশাপাশি রয়েছে কংগ্রেস। এখন দেখে নেওয়া যাক কর্মী ও সমর্থকদের ভিড় কোন শহীদ স্মরণের সমাবেশে? খন্ড-বিখন্ড তৃণমূলের কোন শিবির বেশি কর্মী জমায়েত করতে পেরেছে? দুপুর বারোটা পর্যন্ত যা ছবি সামনে এসেছে সেখানে তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকদের জমায়েতের নিরিখে এগিয়ে রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিকভাবে টেক্কা দিয়েছে মমতা শিবির।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা পরবর্তী সময় কর্মীরা বিধায়কদের সঙ্গে নয়, থেকে এগিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০২৬ সালের একুশে জুলাই (শহীদ দিবস)-এর সমাবেশগুলোর মধ্যে প্রধান আকর্ষণ এবং তুলনামূলকভাবে বড় জমায়েত হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের স্মরণ সভায় । তবে আদালতের কঠোর বিধিনিষেধ এবং দলের সাম্প্রতিক ভাঙনের কারণে বিগত বছরগুলোর মতো চিরাচরিত লক্ষাধিক মানুষের মহাসমাবেশ বা ধর্মতলার চেনা উপচে পড়া ভিড় এবার দেখা যায়নি।২০২৬ সালে একুশে জুলাই-এর রাজনৈতিক সভার ভিড় এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির কিরকম বিস্তারিত নজর রাখা যাক।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় (ক্যাথিড্রাল রোড / বিড়লা তারামণ্ডল)ভিড়ের পরিস্থিতি ঠিক কিরকম? কলকাতা হাইকোর্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল তৃণমূল কংগ্রেসকে ধর্মতলার পরিবর্তে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে (ক্যাথিড্রাল রোড) সভা করার অনুমতি দেয়।আইনি বিধিনিষেধ ছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এই সভায় সর্বোচ্চ ২,৫০০ জন অংশ নিতে পারবেন বলে সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ফলে এটিই সবচেয়ে চর্চিত এবং বড় সভা হলেও আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ভিড় ছিল নিয়ন্ত্রিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে তাঁর কর্মীদের আসতে নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা (মেয়ো রোড)ভিড়ের পরিস্থিতি দেখলে বলতে হবে তৃণমূল বিধায়ক কেন্দ্রিক এই শহীদ স্মরণ অনেকটাই নিষ্প্রাণ।তৃণমূলের বিদ্রোহী বা ভিন্ন গোষ্ঠী (ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশ) মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে আলাদাভাবে শহিদ দিবস পালন করে। এই সভায় তাঁদের অনুগামী ও কিছু কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা শক্তি প্রদর্শনের মরিয়া চেষ্টা ছিল তবুও দুপুর বারোটা পর্যন্ত সেভাবে  লোক জমায়েত করতে ব্যর্থ বিধায়করা।

পাশাপাশি অন্য দুটি সভার দিকে নজর রাখলে বলা যায়  প্রদেশ কংগ্রেসের সভা (শহীদ মিনার) মূলত ভিড় নির্ভর নয় আবেগ নির্ভর। অন্তত প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব তেমনটাই দাবি করেছেন। একুশে জুলাইয়ের মূল আবেগ (১৯৯৩ সালের যুব কংগ্রেসের আন্দোলন) দাবি করে প্রদেশ কংগ্রেস শহিদ মিনারে আলাদা সমাবেশের আয়োজন করে। দীর্ঘ বছর পর তারা এই দিনে নিজস্ব কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে একটি মাঝারি আকারের সমাবেশ করতে সক্ষম হয়।

দিল্লির রাজঘাট সমাবেশতৃণমূল থেকে দলত্যাগ করে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন প্রাক্তন লোকসভা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে দিল্লির রাজঘাটে শহীদ দিবস পালন করেন। স্বাভাবিকভাবেই এটি ছিল প্রতীকী এবং সেখানে কলকাতার মতো সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল না।

সব মিলিয়ে একুশ জুলাই স্মরণে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সবাইকে টেক্কা দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।।

About Post Author