Home » আয়ুষ-দীপককে বুক দিয়ে আগলে রাখার প্রতিশ্রুতি আইসি সুবলের

আয়ুষ-দীপককে বুক দিয়ে আগলে রাখার প্রতিশ্রুতি আইসি সুবলের

Oplus_131072

সানি রায়, সময় কলকাতা ডেস্ক : সাংবাদিকের কাজ সংবাদ সংগ্রহ করে আনা ও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া । রিপোটার গ্রাউন্ড জিরো লেভেল থেকে খবর সংগ্রহ করে আনেন, কাজের স্বার্থে তা তাদের করতেই হয়, খবরের জেরে কোথাও কেউ উপকৃত হলে – সেটুকুই সাংবাদিকের প্রাপ্তি। তবে পুলিশ আধিকারিকদের সবকিছুই থ্যাংকলেস উদ্যোগ, তাঁরা মানবিক হয়ে উঠলেও তাঁদের মানবিক কাজের প্রায়শই কেউ স্বীকৃতি দেন না। অথচ কতবার পুলিশের মানবিক মুখ ও বিভিন্ন সামাজিক কাজে আন্তরিক সদিচ্ছা বারবার চোখে পড়ে। সাংবাদিক -পুলিশের এরকম হার্দিক মেলবন্ধন ময়নাগুড়িতে ঘটল যেখানে মানুষের প্রয়োজনে সাড়া দিয়ে হৃদয়ে জায়গা করে নিলেন বঙ্গের এক পুলিশ আধিকারিক।উত্তরবঙ্গের নদীর ধারে হাতির করিডোরে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অভাবী দুই ভাই দীপক-আয়ুষকে নিজের বুকে স্থান দিলেন ময়নাগুড়ি থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ সুবল ঘোষ আর রামসাইয়ের ডোববাড়ি গ্রামের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা  ৩০-৩২ টি বাড়ির অতি-সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিলেন তিনি। হৃদয়ে স্থান তিনি পাবেনই ,তিনি যে কথা দিয়েছেন দুই ভাইকে বুক দিয়ে আগলাবেন।

( সময় কলকাতার খবরের জের।খবর সম্প্রচার হতেই মানবিকতার নজির, নদীর ধারের অসহায় দুই ভাইয়ের পাশে ময়নাগুড়ি থানার আইসি।)

নদীর ধারে ভাঙাচোরা একটি কুঁড়েঘর। চারপাশে নির্জনতা, রাত নামলেই হাতির আতঙ্ক। সেই ঘরেই প্রতিদিন অভাব, অনিশ্চয়তা আর ভবিষ্যতের অন্ধকারকে সঙ্গী করে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে দুই নাবালক ভাই। তাদের এই হৃদয়বিদারক জীবনের খবর প্রকাশ্যে আসতেই মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল ঘোষ।

খবর সম্প্রচারের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি নিজেই ছুটে যান জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের রামসাই গ্রাম পঞ্চায়েতের ডোববাড়ি এলাকায়। শুধু একজন পুলিশ আধিকারিক হিসেবেই নয়, যেন একজন অভিভাবকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে দুই ভাইয়ের খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। দুই শিশুর জীবনের গল্প যেন এক নির্মম বাস্তবতা। বহু বছর আগে বাবাকে হারিয়েছে তারা। সংসারের দায় কাঁধে নিয়ে কাজের খোঁজে দূরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন মা। ফলে বৃদ্ধ দাদুকেই এখন নাতিদের মানুষ করার লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। কিন্তু দিনমজুরির কাজে প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। তখন নদীর ধারের জরাজীর্ণ ঘরে একাই দিন-রাত কাটাতে হয় দুই ভাইকে। দারিদ্র্যের পাশাপাশি তাদের সবচেয়ে বড় বাধা পড়াশোনা। বড় ভাই অষ্টম শ্রেণির পর স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, কারণ তার জন্ম শংসাপত্র ও আধার কার্ড নেই। একই সমস্যায় জর্জরিত পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া ছোট ভাইও। পরিচয়পত্রের অভাবে স্কুলে বারবার সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে। ফলে শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
এই অসহায় পরিস্থিতি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আইসি সুবল ঘোষ। তিনি দুই ভাইয়ের আধার কার্ড, জন্ম শংসাপত্র ও রেশন কার্ড তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বিডিওর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সরকারি নথিপত্র এবং অন্যান্য সহযোগিতার ব্যবস্থাও করবেন বলে জানান।

দুর্গম পথ পেরিয়ে এসে  ইন্সপেক্টর ইনচার্জ  সুবল ঘোষ বলেন, দুই ভাইয়ের করুণ অবস্থা দেখে খুবই খারাপ লাগছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সাহায্য করা হবে। তাদের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।এদিন তিনি নিজের মোবাইল নম্বর স্থানীয় এক বাসিন্দার হাতে দিয়ে যান এবং মঙ্গলবার দুই ভাইকে থানায় নিয়ে আসার অনুরোধ করেন, যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।

পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগে আবেগাপ্লুত এলাকাবাসী। তাঁদের কথায়, পুলিশ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে না, মানুষের কঠিন সময়েও যে অভিভাবকের মতো পাশে দাঁড়াতে পারে তার বিরল নজির এই ঘটনা।

নদীর ধারে ভাঙাচোরা সেই কুঁড়েঘরে এখনও দারিদ্র্য রয়েছে, অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে আজ সেখানে নতুন করে জন্ম নিয়েছে একটুকরো আশার আলো হয়তো এবার দুই ভাইয়ের জীবন বদলানোর পথটা একটু হলেও সহজ হবে।।

 

About Post Author