সানি রায় ও পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ১ অগাস্ট : আয়ুষ শব্দের অর্থ জীবনীশক্তি বা দীর্ঘায়ু। দীপক শব্দের আলো আলোক কিংবা আলোর উৎস। বাবা-মা ভালোবেসে দুই পুত্র সন্তানের নাম রেখেছিলেন দীপক ও আয়ুষ। অথচ নিয়তির পরিহাসে তাদের জীবনে শুধু অন্ধকার, তাদের জীবনীশক্তি দিয়ে বাঁচার অস্থির লড়াইয়ের প্রতি পদে ভয়। তাদের বাসস্থান, হাতির করিডোরে ভয়ের অবহে তিলে তিলে বড় হচ্ছে দীপক -আয়ুষ। আতঙ্কের উপত্যকায় বেড়ে ওঠা দীপক-আয়ুষ নেইরাজ্যের বাসিন্দা ।
প্রতিপদে হাতির হানায় প্রাণের আশঙ্কা অথচ এই সময় বাবা মার ছায়ায়-আদরে বেড়ে ওঠার কথা ছিল তাদের। জ্ঞানচক্ষু মেলার আগেই বাবা চোখ বুজেছেন। মা অন্নের তাগিদে দূরদেশে। বৃদ্ধ দাদু ভরসা যিনি সামান্য দুটো পয়সার জন্য আজও কাজ করে চলেন, দুটি শিশুর কাছে পঞ্চাশ টাকা হাতে নিয়ে আসেন কালেভদ্রে। ঘর আর কি! মাথা গুঁজবার ভাঙা ছাউনি মাত্র! সেটুকুই তাদের প্রাসাদ। দুবেলা পেট ভরে ভাত জোটে না, কোনও কোনও দিন তাও জোটে না। কোনও কোনও দিন স্রেফ আলু সেদ্ধ খেয়ে অভুক্ত কাটে ভীতসন্ত্রস্ত দিনরাত। প্রকৃত অর্থেই নেইরাজ্যের বাসিন্দা তারা। সামান্য পরিচয় পত্র নেই, বাবা মা না থাকায় রেশন কার্ড টুকু হয়ে ওঠেনি ।হাতির করিডোরে ১৪ ও ১০ বছরের দুই ভাইয়ের দিন কাটে সংশয়ে আর অবহেলায়। জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি ব্লকের দুটি ছোটো ছেলের জীবন সংগ্রাম কায়ক্লেশে চলতে থাকে অবিশ্বাস্য প্রতিকূলতার মধ্যে।

রামসাই গ্রাম পঞ্চায়েতের ডোববাড়ি। হাতির করিডোরে এক প্রত্যন্ত জনপদে নদীর ধারে ছোটো গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কিছু বাড়ি, আর কৃষি জমির মাঝে ফাঁকা একটি জীর্ণ কুটিরের বাসিন্দা দুটি নাবালকের সঙ্গী শুধুই অসহায়তা আর অশান্ত সময় । সারাক্ষণ লেগে আছে হাতির আনাগোনা,এলাকা জুড়ে দাপিয়ে বেড়ায় হাতি। শিশু দুজন একে অন্যকে আঁকড়ে ধরে হাতির বৃংহিত বা হুঙ্কারধ্বনি শোনে আর কেঁপে ওঠে । হাতির ভয়ে একে অন্যকে জড়িয়ে প্রায়ই ঘুমিয়ে পড়ে খালিপেটে। দীপক অভাব অনটনে পড়া ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ক্লাস এইটে। অন্য জন আয়ুষ, তারও মেধার অপচয় হওয়ার সমূহ আশঙ্কা । ক্লাস ফাইভে পড়লেও যেকোনো সময় থমকে যেতে পারে তার চেষ্টা । পড়বে আর কী করে, বাঁচাই তো দুস্কর! নেই কোন সচিত্র পরিচয় পত্র, রেশন কার্ড পেলেও পথ চলার রাস্তা সুগম হত তাদের। নেই অর্থবল, তাদের শংসাপত্র কে দেবে তাও তাদের জানা নেই। তারা জিজ্ঞেস করে, জিয়নকাঠি কার কাছে? আয়ুষ -দীপকের প্রাণ ভোমরা বাঁধা পড়ে আছে সময়ের হাতে, যে সময় আজন্ম জানে শুধুই সংগ্রাম। দুলছে, সুতোর উপরে দুলছে দুই নাবালকের জীবন ও ভবিষ্যত। যদি আশ্চর্য কোনো রূপকথার গল্পের দেবতা এসে দাঁড়ান তাঁদের সামনে তবেই হয়তো বাঁচবে তাদের প্রাণ! যাপন সংগ্রাম পাবে পথ! এখন শুধু প্রহর গোনা!
দীপক-আয়ুষ নেইরাজ্যের বাসিন্দা #জলপাইগুড়ি #হাতি


More Stories
প্রয়াত রাজনীতিবিদ অসিত মজুমদার : তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দু-চার কথা
কোচবিহারে ডিমথেরাপির শেষে বিজেপির শুদ্ধিকরণ কর্মসূচি
শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে ধৃত জঙ্গি