Home » “তাড়া” খেয়ে রাতারাতি সিতাই ছাড়লেন বসুনিয়া দম্পতি

“তাড়া” খেয়ে রাতারাতি সিতাই ছাড়লেন বসুনিয়া দম্পতি

Oplus_131072

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ অগাস্ট : ভালো নেই তৃণমূল থেকে একদা নির্বাচিত সাংসদ এবং বিধায়কদের অধিকাংশ মুখ। তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে ২০ জন এনসিপিআই দল গঠন করে এনডিএতে-ও যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে রয়েছেন । অধিকাংশ বিধায়ক তথাকথিত বিদ্রোহী হয়ে ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। কালীঘাটের সঙ্গে কার্যত আর কোনো যোগসূত্র  নেই অধিকাংশ নির্বাচিত সাংসদ এবং বিধায়কদের। এদের মধ্যেই অন্যতম বসুনিয়া দম্পতি যাদের মধ্যে স্বামী সাংসদ ও স্ত্রী বিধায়ক। অথচ রাজনৈতিকভাবে তারা জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন দ্রুত। ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ভোটের পর থেকে কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বসুনিয়া ও তাঁর স্ত্রী সিতাই-এর বিধায়ক সঙ্গীতা রায় সিতাইয়ে নিজেদের এলাকাতেই ঢুকতে পারছেন না ক্ষোভের আঁচ পেয়ে। স্ত্রী সঙ্গীতার অবস্থাও তথৈবচ। এর আগেও দিল্লি থেকে ফেরার সময় জগদিশ বসুনিয়াকে  দেখা গিয়েছিল চুপিসারে কোচবিহারে নামতে এবং সামনে শিশু পৌত্রকে ঢাল করে এগোতে।সিতাই যান নি সাংসদ -বিধায়ক বসুনিয়া দম্পতি। এবার এলাকায় ঢুকতেই প্রবল বিক্ষোভ , রাতেই ফিরতে হল এনসিপিআই সাংসদ জগদীশ বাসুনিয়া ও ঋত শিবিরের সঙ্গীতা রায় বসুনিয়াকে। এক রাতও তাঁরা টিকতে পারলেন না এলাকায়।  কার্যত  মানুষের “তাড়া” খেয়ে রাতারাতি সিতাই ছাড়লেন বসুনিয়া দম্পতি।  এলাকাবাসীর ক্ষোভ বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চেয়ে, জিতে এসে কার্যত বকলমে বিজেপি শিবিরে নাম লিখিয়েছেন বসুনিয়া দম্পতি।

মানুষ, বিশেষত তৃণমূলের কর্মী ভোটাররা  যে এনসিপিআই সাংসদ এবং ঋতব্রত শিবিরের  বিধায়কদের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত তার পাওয়া যাচ্ছিল নেটিজেন মহলে। কত তিন মাস ধরে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রবঞ্চনা ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ উঠেছে বারবার। সাধারণভাবে কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের প্রতি তাদের বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন। তথাকথিত বিদ্রোহী সাংসদ বিধায়কদের বিরুদ্ধে জমা হয়েছে জনরোষ । সোমবার রাতে এলাকায় ঢুকতেই জনরোষের মুখে পড়তে হয় সাংসদ ও বিধায়ককে। ফলে বিক্ষোভের মুখে গভীর রাতে সিতাই ছাড়তে হল কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ বসুনিয়া ও সিতায়ের বিধায়ক তথা স্ত্রী সংঙ্গীতা রায়কে। এন সি পি আই ও এন ডি এর মধ্যে মিষ্টি মধুর সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা চলছে। দফায়-দফায় হয়েছে বৈঠক। কখনও অমিত শাহের সঙ্গে কখনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে। অন্যদিকে, বিধানসভার বিধায়ক সঙ্গীতা রায়রা আবার বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। এমতাবস্থায়, নিজের নির্বাচনী এলাকার বাড়িতে ফিরে এক রাতও থাকা হল না কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া ও তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা রায় বাসুনিয়া।নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দীর্ঘ কয়েক মাস সিতাইয়ের বাড়িতে দেখা যায়নি তাঁদের। সোমবার রাতে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁরা বাড়ি ফিরতেই খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। এরপর সিতাই বাজার ও বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। চলে স্লোগানও। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ।পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও শেষ পর্যন্ত সিতাইয়ে রাত কাটানো হয়নি তাঁদের। রাত প্রায় ২টা নাগাদ কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ফের সিতাই ছাড়েন সাংসদ ও বিধায়ক। এরপর কোচবিহারের ফ্ল্যাটে চলে আসেন তাঁরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মমতার সঙ্গ ছেড়ে আসা তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়কদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বিরাট প্রশ্নচিহ্নের মুখে যা সিতাইয়ের সোমবারের ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে।।

About Post Author