Home » ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিপাকে পর্যটকরা

ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিপাকে পর্যটকরা

এক রাতের অতি ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। জলমগ্ন নাগরাকাটা, বানারহাট-সহ একাধিক এলাকা। মহানন্দার জলে ভাসল ফুলবাড়ীর গ্রাম, শনিবার গভীর রাত থেকে একনাগাড়ে বৃষ্টিতে প্লাবিত শিলিগুড়ির একাধিক এলাকা।

মিরিক ও দুধিয়া সংযোগকারী লোহার সেতুও ভেঙে পড়েছে। এই সেতু দার্জিলিং বিভাগের রাজ্য সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেনা নিয়ন্ত্রিত সেতু ভেঙে যাওয়ার ফলে শিলিগুড়ি শহর থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ওপারে থাকা প্রায় ৩০টি গ্রাম। ফলে মিরিক থেকে শিলিগুড়ির মধ্যে কোনও সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না।

তিস্তা ফুঁসে ওঠায় এবং ধসের কারণে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ। যার জেরে বন্ধ শিলিগুড়ি থেকে সিকিম-কালিম্পঙের সরাসরি যোগাযোগ। তবে খোলা রয়েছে লাভা-গরুবাথানের রাস্তা এবং শিলিগুড়ি-কালিম্পঙের পানবু রোড। যে যে রাস্তা খোলা, সেই সব রাস্তায় স্বাভাবিক ভাবেই যানজট তৈরি হয়েছে। এখনও শতাধিক পর্যটক দার্জিলিং, কালিম্পং থেকে সমতলে নামতে পেরেছেন বলে খবর প্রশাসনিক সূত্রে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে জোরকদমে। পাহাড়ি সড়কে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হচ্ছে। দার্জিলিং পুলিশ জানিয়েছে, কিছু রাস্তা ধসে বন্ধ হয়ে গেলেও দ্রুত পরিষ্কারের চেষ্টা চলছে। পর্যটক ও স্থানীয়রা প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারবেন দার্জিলিং পুলিশ কন্ট্রোল রুমে (৯১৪৭৮ ৮৯০৭৮)।

পাহাড় থেকে নামা পর্যটকদের কলকাতায় ফেরাতে বিশেষ বাস পরিষেবা চালু করেছে রাজ্য সরকার। রবিবার শিলিগুড়ির তেনজিং নর্গে সেন্ট্রাল বাস টার্মিনাস থেকে তিনটি বিশেষ সুপার এক্সপ্রেস বাস ছেড়েছে কলকাতার উদ্দেশে। প্রয়োজনে আরও বাস নামানো হবে। রাতের বেলায় পৌঁছনো যাত্রীদের জন্য পরদিন সকালে অতিরিক্ত পরিষেবার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

ভুটান পাহাড় থেকে ডুয়ার্সমুখী অন্তত ৭২ টি নদী ও ঝোরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জলঢাকা, তোর্সা, রেতি, সুকৃতি, পানা, বাসরা, রায়ডাক, সংকোশ। জলঢাকা, তোর্সা, রায়ডাক, সংকোশ নদী যেখানে উত্তরবঙ্গ দিয়ে ঢুকেছে, তার আশপাশে প্রচুর জনবসতি। শনিবার রাতভর বৃষ্টিতে সেসব এলাকা ইতিমধ্যে প্রায় জলের নিচে। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো যুক্ত হয়েছে ভুটানের বৃষ্টি। বিপদ আরও বাড়িয়েছে ওয়াংচু নদীর উপর টালা বাঁধ। এই বাঁধের গেট খোলা যায়নি।

About Post Author