সারাদেশে বিভিন্ন ধরনের মিছিল বহু মানুষ দেখেছেন, প্রতিবাদের অভিনব পন্থা আবিষ্কার করে অনেক ইউনিভার্সিটি এবং কলেজের ছাত্ররা প্রচারের আলোয় এসেছেন বারবার। কিন্তু বারাসাত ব্লক টুর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা এক অদ্ভুত শোক ও প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত করে বিতর্কের সূত্রপাত করল। যে বিতর্ক কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দকে আরো প্রকট করে তুলেছে। চারিদিকে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
এসআইআর ও এনআরসি এই দুটো বিষয় এরা যে এখন ঘেঁটে ঘ ! এনআরসি ও এস আই আর এই দুটি বিষয়কে কিছুদিন ধরেই এ রাজ্যে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। স্বভাবতই রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই এই দুটো বিষয়কে এক বিন্দুতে এনে এক শ্রেণীর মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও বহু মানুষের কাছে এই দুটি বিষয় নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা নেই। ফলে গুলিয়ে দিতে বেশ সুবিধাই হচ্ছে। ইতিমধ্যে এস আই আর নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তেজনা তুঙ্গে পাশাপাশি পক্ষ এবং বিপক্ষে প্রচার, অপপ্রচার দুটোই অব্যাহত।
এমত পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের প্রতিবাদ মিছিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ডাকে সাড়া দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল ইতিমধ্যে সংঘটিত করা শুরু করেছে। তেমনই এক প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে বারাসাত ব্লক টুর তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে। যদিও একটি মিছিল নয়, কার্যত দুটি মিছিল সংগঠিত হয়েছে বারাসাত ব্লক টু তে। এনআরসির আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন পানিহাটির বাসিন্দা প্রদীপ কর এমনটাই দাবি করা হয়েছিল তৃণমূলের পক্ষ থেকে। একটি সুইসাইডাল নোট প্রচার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছিল প্রদীপ করের সুইসাইডাল নোট বলে। যদিও প্রদীপ করের বাড়ির অভিযোগ যে প্রদীপ করের হাতের চারটি আঙ্গুলি নেই, সেক্ষেত্রে তিনি এই সুইসাইডাল নোট কিভাবে লিখেছেন সেটা একটা বড়সড়ো প্রশ্ন।
প্রদীপ করের মৃত্যুর প্রতিবাদে শোক ও প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেছিল বারাসাত ব্লক টুর তৃণমূল নেতৃত্ব। একটি মিছিলে বারাসাত ব্লক টুর জেলা নেতৃত্ব দুই জেলা পরিষদের সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ, প্রধান, উপ-প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। আর অন্য একটি মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বারাসাত ব্লকের যুব সভাপতি জিয়াউল ইসলাম, ব্লক টুর তৃণমূল নেতা আসের আলী মল্লিক সহ আরো বহু তৃণমূল কর্মী এবং নেতা। কিন্তু গোল বাঁধলো কোথায়?
জিয়াউল ইসলাম এর নেতৃত্বে যে মিছিল হয়েছে সেই মিছিলের অভিনবত্ব সৃষ্টি করেছে বিতর্কের। নামেই শোক শোক মিছিল, কিন্তু শোক মিছিলে জায়গায় মিছিল ছিল কার্যত আনন্দের মিছিল। প্রতিবাদের নাম গন্ধ মিছিলে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ডিজে বাজিয়ে সারা রাস্তা সবুজ আবিরে সবুজ করে দিয়ে মনে হচ্ছিল কোন বিজয় মিছিল হচ্ছে। সমস্ত নেতা কর্মীদের সারা গায়ে মাথায় শুধুই সবুজ আবির। আর উত্তম ভাবে বেজেছে ডিজে। সর্বোপরি জিয়াউল ইসলামকে যেভাবে মালা পরিয়ে বরণ করা হয়েছে দেখে মনে হচ্ছে যেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক নিজে এসে উপস্থিত হয়েছেন। এখানেই শিক্ষা আর অশিক্ষার মধ্যে পার্থক্য। একথা বলছেন বারাসাত পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি এবং অন্য আরেকটি মিছিল যে মিছিল প্রতিবাদ মিছিল হিসেবে মোমবাতি হাতে পালন করা হয়েছে সেই মিছিলের অন্যতম উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান।।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী