পুরন্দর চক্রবর্তী ও দীপ সেন,সময় কলকাতা : নাম সুব্রত চক্রবর্তী, বাড়ি বসিরহাট। দিন রাত তার চাই নিত্যনতুন নারী। দিনরাত নারীদের উষ্ণতা পেতে, নারীসঙ্গের প্রয়োজনে দরকার অর্থ। নারীদের নিয়ে লীলাখেলায় মেতে থাকার রসদ সে জোগাড় করত চুরি,কেপমারি করে। ছোটোখাটো চুরি সে করত না। রীতিমতো পরিকল্পনা করে বড় দাঁও মারত সে। পুলিশ মহলের মতে,চার্লস শোভরাজের মত খুন খারাপি করার রেকর্ড না থাকুক, গরিবের চার্লস শোভরাজ বলাই যায় তাকে। শুধুমাত্র বিলাসবহুল জীবনযাপন আর নারী সম্ভোগ করার জন্য অর্থের প্রয়োজনে একের পর এক চুরি ছিনতাই করে যাওয়া সুব্রত বারাসাত পুলিশের হাতে পাকড়াও ।
সুব্রতর ক্রাইম রেকর্ড যেন নীরবে বলছে,চোরেদের রাজা না থাকুক, রাজাদের মত চোর, ছিনতাইবাজ ও অপরাধী তো থাকেই। সুব্রত সেরকমই এক তস্কররাজ যার অপরাধের ধরণ আর অপরাধের কার্য কারণ আর বিলাসী জীবন যাপন চোখ ছানাবড়া করে দিতেই পারে। এরকম চোরকে সাধারণ চোর লুটেরার তালিকায় কি আর রাখা যায়! কুখ্যাত তবুও চার্লস শোভরাজকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়, বই লেখা হয়। সুব্রতকে নিয়ে সেরকম কিছু ইতিহাস রচনা হবে কিনা বলা মুশকিল কিন্তু পুলিশ সূত্রেই আশ্চর্য ও বিস্ফোরক সব তথ্য পাওয়া গেছে সুব্রতর সম্পর্কে।
প্রথমত, উৎসব অনুষ্ঠানকে অপরাধ সংগঠনের সময় হিসেবে বেছে নিত সুব্রত। এবার কালীপুজোর সময় বারাসাতের রামকৃষ্ণপুরের এক বাড়ি থেকে সোনার গয়না আর নগদ অর্থ চুরি করে সে। প্রশাসনিক ব্যস্ততাকে কাজে লাগায় সুব্রত। ঘটনার আগে ও পরে হোটেলে নিশিযাপন, অবকাশে নিশিকুটুম্ব হয়ে চুরি। দ্বিতীয় তথ্য আরো বিস্ফোরক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বারাসাত জেলা পুলিশের এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, সুব্রতর অপরাধ প্রবণতার মূলে লুকিয়ে আছে যৌন বিকৃতির বীজ। কামনার অসুখ তাকে বারবার অপরাধ করতে আকৃষ্ট করত। ফলে, তার নারী সংসর্গের ফল সুদূরপ্রসারী, নারীদের সর্বনাশ কার্যত নিশ্চিত করতেই উদ্যত ছিল সুব্রত ।তবে বারাসাত জেলা পুলিশ এবার নাছোড়বান্দা ছিল। ২৯ তারিখ তাকে গ্রেফতার করা হয় চুঁচুড়া থেকে। সেই মুহূর্তে উদ্ধার করা হয়ে ওঠে নি তার চোরাই সামগ্রী যার মধ্যে ছিল স্বর্ণালংকার। অবশেষে দীর্ঘ জেরা ও পুলিশি তদন্তের পর জানা যায় বিভিন্ন নামী সংস্থায় সে যোগাযোগ রেখে চলতো এবং চোরাই সামগ্রী বিক্রি করে দিত। বসিরহাটের এরকমই এক সংস্থার এক ম্যানেজারকে পাকড়াও করে পুলিশ। উদ্ধার হয় ২৭ গ্রাম পরিমানের সোনা। উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পরেও বারাসাত জেলা পুলিশ আধিকারিকরা বলছেন, সুব্রত চক্রবর্তীর মত অপরাধীর খোঁজ কালেভদ্রে মেলে।
বারাসাতের এক পুলিশ আধিকারিক বলছেন, শোভরাজের বঙ্গ সংস্করণ সুব্রতর রয়েছে তুমুল মহিলা প্রীতি । ফারাক খালি মহিলা সঙ্গের পরে শোভরাজ খুন করত আর মহিলা সঙ্গের জন্য রক্তপাতহীন অপরাধ করে গিয়েছে ‘গরিবের শোভরাজ সুব্রত’।
More Stories
জন্মদিনে বাড়ি নিয়ে যেতে নারাজ বাবা-মা, সহপাঠীর হাত ধরে হোস্টেল থেকে চম্পট নাবালক পড়ুয়ার!
রাতের অন্ধকারে ত্রাণের সামগ্রী পাচার, উত্তর ২৪ পরগনার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি ঘেরাও
হাড়োয়ায় একটি সেতু চাই – দিলীপ ঘোষকে খোলা চিঠি ওড়িশা থেকে