Home » দেবীপ্রতিমা তৈরীর মাটি সংকট কাটল মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে

দেবীপ্রতিমা তৈরীর মাটি সংকট কাটল মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ জুন : “কে বলে রে মাকে আমার মাটির গড়া মৃন্ময়ী ” একটি অত্যন্ত সুপরিচিত ও আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ বাঙালি ভক্তিগীতি। যতদূর জানা যায় গণপতি পাঠকের লেখা এই গানে  দেবী দুর্গাকে বা কালীকে  হৃদয়ের ভক্তি ও সাধনার মাধ্যমে মাটির প্রতিমাতেও পরম চেতনা বা চিন্ময়ী রূপের দর্শন পাওয়ার কথা বলে। দুর্গাপুজোর কিছুটা দেরী থাকলেও কুমারটুলিতে এই সময় থেকেই শুরু হয়ে যায় সাজো সাজো রব। উৎসবের দিন গুনতে থাকা বাঙালির প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয়। মৃন্ময়ী দেবীমূর্তি গড়তে একান্ত প্রয়োজনীয় রসদ মাটি।অথচ এবার দুর্গাপূজোর আগে প্রতিমা তৈরীর মাটি সংকট। বেআইনি মাটি খুঁড়তে নবগঠিত বিজেপি সরকার পদক্ষেপ নেওয়ায় এবং পরিবেশগত কারণে মাটির একান্তই অভাব দেখা গিয়েছে পটুয়াপাড়ায় ও কুমারটুলিতে। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপে কেটেছে মাটি জট। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে কুমারটুলি ও পটুয়াপাড়া।

পুজোর মরশুম আসার আগে, বিগত দুমাস ধরে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পীদের পাড়া কুমারটুলিতে তীব্র মাটির আকাল দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপে পেল সমাধানের পথ। দুর্গাপ্রতিমা গড়ার জন্য প্রধানত গঙ্গার পাড়ের পলিমাটি এবং ডায়মন্ড হারবার ও উলুবেড়িয়া থেকে আসা বিশেষ আঠালো মাটির প্রয়োজন হয়। কিন্তু গঙ্গার পাড়ে বেআইনি মাটি খনন রুখতে এবং পরিবেশ রক্ষায় নবগঠিত বিজেপি সরকার কড়া পদক্ষেপ নেওয়ায় মাটি সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দেয়। প্রায় দুই মাস ধরে ডায়মন্ড হারবার থেকে কুমারটুলিতে কোনও মাটির লরি না আসায় চরম বিপাকে পড়েন মৃৎশিল্পীরা। সময়মতো প্রতিমা তৈরি না হওয়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়।  কুমারটুলির মৃৎশিল্পীরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হন। শিল্পীদের আবেদনের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং আইনি জটিলতা কাটিয়ে মাটির জট খোলেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই হস্তক্ষপের পরেই মঙ্গলবার (২৩জুন ) ডায়মন্ড হারবার থেকে ৪ লরি মাটি কুমারটুলি ও মানিকতলা পটুয়াপাড়ায় এসে পৌঁছায়। ‘কুমারটুলি মৃৎশিল্পী সমন্বয় সমিতি’-র পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, আগামী দিনগুলিতে আরও মাটির লরি আসবে এবং এর ফলে পুজো শুরুর আগেই মৃৎশিল্পীদের মুখের দুশ্চিন্তার কালো মেঘ কেটে গিয়েছে। সবমিলিয়ে উৎসবের আগে  স্বস্তি কুমারটুলি ও পটুয়াপাড়ায়।।

About Post Author