সানি রায়, সময় কলকাতা : সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার ফুট উপরে মুগ্ধতার স্বর্গরাজ্য সুনতালেখোলা। ভেসে যেতেই হবে। স্রোতে ভেসে যেতেই হবে। উত্তরবঙ্গের সুন্তালেখোলা এমনই এক মায়াবী মুগ্ধতা,যে স্বর্গ সুখে ভেসে যেতে হবেই। নেপালিভাষায় খোলা শব্দের অর্থ স্রোত বা জলধারা আর সান্তালি বা সুনতালে কথা থেকে এসেছে।নেপালি ভাষায় যা কিনা কমলালেবু। সুনতালেখোলা তাই কমলালেবুর স্রোত। জলপাইগুড়ির অনেক জায়গার মত এখানেও কমলালেবু পাওয়া যায়, তবে সবচেয়ে বেশি যা পাওয়া যায় তা হল মানসিক প্রশান্তি। গাছগাছালি, পাথর নুড়ি আর তার মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া মূর্তি নদী এবং পাখি দের কলকাকলি। কাছে পিঠে অজস্র দর্শনীয় স্থান। তবুও সুনতালেখোলাএক আশ্চর্য বিস্ময়। অনুভূতি দিয়ে এখানের মাহাত্ম্য টের পাওয়া যাবে, বর্ণনার অতীত সুনতালেখোলা।পাহাড়ের কোলে ঈশ্বরের পবিত্র বাসভূমি,ঈশ্বরের যেন দর্শন পাওয়া যায়। ভ্রমণপিপাসুদের প্রকৃতই স্বর্গ।
সামসিং থেকে কিলোমিটার চারেক দূরে সুনতালেখোলা। মূর্তি নদীর ওপরে কাঠের ঝুলন্ত সেতু। সেতু পেরিয়ে স্বপ্নপুরীতে অবাধ বিচরণ। পাহাড়ের গায়ে,গভীর জঙ্গলের গা ঘেঁষে এগিয়ে গেলে সুনতালেখোলা চেকপোস্ট। তারপরেই নেচার ক্যাম্প। এখান থেকে গরুমারা, চাপড়ামারি, গরুমারা সবই ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে। তবুও নিস্তব্ধতার মধ্যে যে পাখির ডাকের তার মুক্তি পেতে আর কদিন নিজেকে হারিয়ে ফেলতে আপনাকে ছুঁতে আপনাকে যেতেই হবে সুনতালেখোলা। অপরূপ বৃক্ষশোভা, কমলার বাগান আর তার মধ্যে নিজেকে খুঁজে পাওয়া। গডস লিটল একর।
কীভাবে যাবেন : নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন বা বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে গাড়ি ভাড়া করে চলে যেতে পারেন সামসিংএর কাছে এই মায়া ঘেরা টুরিস্ট স্পটে। শিলিগুড়ি থেকে বাসে চালশা হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
থাকার ব্যবস্থা : ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের কয়েকটি কটেজ রয়েছে, রয়েছে একাধিক হোম স্টে।জল বা খাদ্যের অসুবিধা নেই। কাছেই সামসিং বাজার অনেক কিছুই পেয়ে যাবেন। ছোটখাটো দোকান পেয়ে যাবেন সুনতালেখোলা এলাকার মধ্যেও। ঈশ্বরের বাস সম্ভবত সুনতালেখোলাতে। অন্য অনুভূতি, অনন্য অনুভূতি।


More Stories
মরিচা ঝিল, বর্তির বিল : প্রশাসনিক উদ্যোগে পর্যটন শিল্পে আমডাঙার স্বপ্নপূরণ
মূর্তি পর্যটন কেন্দ্র পর্যটকশূন্য, মূর্তির মনখারাপ
ডুয়ার্সের পর্যটন শিল্পে নতুন পালক! খুলে গেল পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান