সময় কলকাতা ডেস্ক : কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ পশ্চিমবঙ্গের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে যদিও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের পেশ করা এবারের বাজেট নিয়ে সরব রাজ্যের শাসক দল এবং অন্য বিরোধী দলরা। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল এই বাজেটকে আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রেক্ষাপটে “দিশাহীন” বলে আক্রমণ করছে, আর বিজেপি একে “উন্নত ভারত” গড়ার দিশা হিসেবে তুলে ধরছে। কংগ্রেস এবং বামেরাও এবারের বাজেটের সমালোচনা করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা নেত্রীর বক্তব্য আলোচনা করার আগে এবারের বাজেটে বাংলার বরাদ্দের উপর চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।
মালবাহী করিডোর: পশ্চিমবঙ্গের ডানকুনি থেকে গুজরাটের সুরাট পর্যন্ত একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর (Dedicated Freight Corridor) তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা পণ্য পরিবহণের খরচ কমাবে।
শিল্প কেন্দ্র: পূর্ব উপকূলীয় শিল্প করিডোরের (East Coast Industrial Corridor) অংশ হিসেবে দুর্গাপুরে একটি প্রধান শিল্প কেন্দ্র বা নোড (Industrial Node) গড়ে তোলা হবে।
হাই-স্পিড রেল: উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি পর্যন্ত একটি হাই-স্পিড রেল করিডোর তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পর্যটন ও নগরায়ন: ‘পূর্বোদয়’ পরিকল্পনার অধীনে রাজ্যে পাঁচটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এছাড়া টেকসই নগর পরিবহণের জন্য ৪,০০০টি বৈদ্যুতিক বাস প্রদানের কথা বলা হয়েছে।
জুট শিল্প: হুগলি নদীর তীরে জুট মিলগুলোর আধুনিকীকরণের জন্য ন্যাশনাল ফাইবার স্কিম (National Fibre Scheme) চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে
রাজ্য বাজেটের বিশেষত্ব: এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৪% মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধি এবং নদী ভাঙন রোধে ‘নদী বন্ধন’ প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে তৃণমূল কংগ্রেস সহ বিরোধীরা দাবি করেছে যে বাজেটে বাংলার জন্য সরাসরি কোনো বড় আর্থিক প্যাকেজ বা সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের উল্লেখ কম।
বাংলার রাজনৈতিক নেতা -নেত্রীরা কী বলছেন এবারের বাজেটে বাংলার বরাদ্দ নিয়ে?
২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পর বাংলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস একে “বঞ্চনার বাজেট” হিসেবে অভিহিত করেছে, অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব একে রাজ্যের উন্নতির সহায়ক বলে দাবি করেছে।
প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া নিচে দেওয়া হলো:
তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) – তীব্র সমালোচনা
তৃণমূল নেতারা মনে করেন এই বাজেটে বাংলাকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারবে না জেনেই বাজেটে বাংলার কথা ভাবা হয়নি বলে বক্তব্য তৃণমূলের।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: মুখ্যমন্ত্রী এই বাজেটকে “হাম্পটি-ডাম্পটি বাজেট” (Humpty Dumpty Budget) এবং “মিথ্যার ঝুড়ি” বলে বর্ণনা করেছেন । তাঁর দাবি, বাজেটে বাংলার জন্য এক পয়সাও বরাদ্দ করা হয়নি এবং ঘোষিত অর্থনৈতিক করিডোরগুলো আসলে পুরনো প্রকল্পের নামান্তর।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে ৮৫ মিনিটের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী একবারও ‘বাংলা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি এবং ” ভাট ” বকে যাওয়া হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে নতুন উচ্চমানের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান (যেমন NIMHANS) দেওয়া হলেও বাংলাকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র রাজ্যের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা দাবি করেছেন যে শিক্ষা এবং সারের ভরতুকিতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে, যা রাজ্যের সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী অভিযোগ করেছেন যে বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা যুব কল্যাণে কোনো স্পষ্ট পথনির্দেশ নেই । তিনি বলেন, কেবল ট্রেনের ঘোষণা রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়ন ঘটাতে পারবে না।
ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) তরফে স্বাভাবিকভাবেই বাজেটের প্রশংসা করা হয়েছে।রাজ্য বিজেপি নেতারা কেন্দ্রীয় বাজেটকে বাংলার শিল্পায়নের জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন।রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই বাজেটের মাধ্যমে রাজ্যে নতুন শিল্পায়নের জোয়ার আনার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, পূর্বোদয় (Purvodaya) প্রকল্পের অধীনে দুর্গাপুর ও ডানকুনিকে কেন্দ্র করে ফ্রেইট করিডোর এবং বারাণসী-শিলিগুড়ি হাই-স্পিড রেল করিডোর রাজ্যের অর্থনীতি ও পরিকাঠামোতে গতি আনবে।


More Stories
লক্ষ্মীর ভান্ডারে লক্ষীলাভ : নববারাকপুরে মহামিছিল
লক্ষ্মীবারের বাজেটে লক্ষ্মী আরও ধারালো, অনুসারী অস্ত্রেও শান
বাজেটের পরে বর্ধিত মূল্যে কোন ব্র্যান্ডের সিগারেটের দাম কী হচ্ছে?