সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারি :প্রকাশ্যে মাছ-মাংস বিক্রি বন্ধ বিহারে। কার্যত, উত্তরপ্রদেশের রাস্তায় হাঁটছে বিহার। আর এনিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর।
বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা সম্প্রতি রাজ্যে খোলা জায়গায় মাছ ও মাংস বিক্রির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা করেছেন। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ বিহার বিধান পরিষদে বাজেট অধিবেশন চলাকালীন তিনি এই নির্দেশিকার কথা জানান। বিজয় কুমার সিনহার বক্তব্য এবং তার বিপরীতে ওঠা প্রধান প্রতিক্রিয়া কী কী?
কি বলেছেন বিজয় কুমার সিনহা?
বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিহারের কোনো শহর বা জনবহুল এলাকায় রাস্তার ধারে বা খোলা জায়গায় আর মাছ-মাংস বিক্রি করা যাবে না। তিনি বলেছেন,লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। কেবল বৈধ লাইসেন্সধারী বিক্রেতারাই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে পারবেন।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত হল উত্তরপ্রদেশ মডেল অনুসরণ করছে বিহার। উত্তরপ্রদেশের আদলে বিহারেও মাংসের দোকানগুলোতে কালো কাঁচ বা গাঢ় পর্দা লাগানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে যাতে বাইরে থেকে মাংস দেখা না যায়।
বিজয় কুমার সিনহা এ নিয়ে জনস্বাস্থ্য ও ভাবাবেগের যুক্তি তুলে ধরেছেন। সিনহা জানান যে, খোলা জায়গায় মাংস কাটার ফলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও মানসিক ভাবাবেগ ক্ষুণ্ণ হয়। বিশেষ করে দরভাঙ্গায় জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে এনিয়ে বিরোধীদের আপত্তি ও সমালোচনা যথেষ্ট মাত্রায় পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে এবং বিশেষ করে প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে একে “খাদ্য নিয়ন্ত্রণ রাজনীতি” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে এখানেও মাছ ও মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করবে।
বিরোধীদের একাংশ দাবি করছে যে, এই নিয়মের ফলে ক্ষুদ্র মাংস ও মাছ ব্যবসায়ীদের জীবিকা সংকটে পড়বে এবং লাইসেন্স রাজের নামে দুর্নীতি বাড়তে পারে।
অধিকার হরণ: অনেক বিরোধী নেতা একে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ওপর হস্তক্ষেপ এবং মেরুকরণের রাজনীতি হিসেবে দেখছেন।
বামেদের প্রতিক্রিয়া:
বামপন্থী দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, খোলা বাজারে গরিব মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকা খাবারকে এভাবে নিয়ন্ত্রিত করে কেন সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলা হচ্ছে।
তবে বিজয় কুমার সিনহা স্পষ্ট করেছেন যে, মাংস বা মাছ খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়নি, তবে তা বিক্রির পদ্ধতিকে কঠোর আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা হচ্ছে। যারা এই নিয়ম লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে দোকান সিল করা এবং বড় অংকের জরিমানার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।


More Stories
রাজ্যে সপ্তম পে কমিশনে সিলমোহর, কত হতে পারে বর্ধিত বেতন? বকেয়া ডিএ কবে?
চিকেন নেকের নিরাপত্তায় মক ড্রিল
সুদীপকে কুত্তার চেয়ারম্যান বললেন দলের কাউন্সিলর