Home » গান্ধীজির নীতি ও মোদির “আত্মনির্ভর ভারত “- মিল ও অমিল

গান্ধীজির নীতি ও মোদির “আত্মনির্ভর ভারত “- মিল ও অমিল

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ জানুয়ারি : এবছর যথারীতি গুরুত্ব সহকারে  গান্ধীজির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে শহীদ দিবস উদযাপিত। ১৯৪৮ সালের এই দিনটিতে গান্ধীজি নিহত হয়েছিলেন। এই দিনটিকে স্বাধীনতায় উৎসর্গকৃত প্রাণেদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে স্মরণ করা হয় ও রাজঘাটে গান্ধীজিকে ১৯৪৮ সালের ৩১ শে জানুয়ারি দাহ করা হয়েছিল। এখানে ‘হে রাম ‘ লেখা রয়েছে এবং অনির্বাণ শিখা প্রজ্জ্বলিত হতে থাকে। গান্ধীজী ছাড়াও রাজঘাটে লালবাহাদুর শাস্ত্রী, জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী রাজীব গান্ধী সহ বিশিষ্ট রাষ্ট্র নেতাদের সমাধিসৌধ রয়েছে। মহাত্মা গান্ধীর  স্মরণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবারও আত্মনির্ভর ভারতের কথা বলেছেন,বলেছে গান্ধীজীর অনুপ্রেরণার কথা। এখন প্রশ্ন, গান্ধীজির নীতি ও বিজেপির আত্মনির্ভর ভারতের মিল কতটা? অমিলই বা কোথায়?

গান্ধীজির নীতি অনুযায়ী বর্ণিত স্বদেশী ভারতের ধারণাকে আত্মনির্ভর ভারতের অভিযানের মাধ্যমে তুলে ধরতে চায় বিজেপি যেখানে স্থানীয় পণ্য ও উৎপাদনের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে। সংসদ আদর্শ গ্রাম যোজনা গান্ধীজীর গ্রামোন্নয়ন ও পল্লী উন্নয়ন নীতির আদর্শে অনুপ্রাণিত। নরেন্দ্র মোদি ও গান্ধীজীর জনশক্তিকে গুরুত্ব দেন ও আন্দোলনের মূল ভিত্তি বলে মনে করেন। মানুষের শক্তি এবং সমর্থনের উপরে নির্ভর করেই ডিজিটাল ইন্ডিয়া বা বেটি বাঁচাও প্রকল্পকে সফলভাবে রূপায়ণ করা সম্ভব বলে নরেন্দ্র মোদি তথা বিজেপি মনে করে।  নরেন্দ্র মোদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদ এর বিরুদ্ধে মুখর হয়ে বারবার শান্তি ও অহিংসার কথা বলতে শোনা গিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন, গান্ধীজীর নীতির সঙ্গে বর্তমান ভারতের আত্মনির্ভর ভারতের মতাদর্শ গত পার্থক্য কি অনেকটাই! তথাপি গান্ধীজীর নীতির সঙ্গে বেশ কিছু ফারাক বা অমিল রয়েছে মোদি ও বিজেপির বর্তমান কর্মধারার। এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই ব্রিটিশ ভারতে যে নীতিগুলি অবলম্বন করে অগ্রসর হতেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলি পাল্টাতে বাধ্য। গান্ধীজি সম্পূর্ণভাবে বিদেশি দ্রব্য বর্জনের কথা বলতেন।   আত্মনির্ভর ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ কে প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং ভারতকে বিশ্বের সাপ্লাই চেনের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করা হয়। বর্তমান আত্মনির্ভর ভারতে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বদেশী অস্ত্র কথা রকেট ও উচিত বিমান গড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক প্রযুক্তি ও অস্ত্র সহায়তা নেওয়া হয় যা গান্ধীজীর অহিংসনীতির সঙ্গে মতাদর্শগতভাবে আলাদা। সর্বোপরি গান্ধীজীর ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের তত্ত্ব বিজেপি কতটা মেনে নেয় তা নিয়ে তর্ক বিতর্কর অবকাশ থেকে যায়। প্রশ্ন, গান্ধীজীর অহিংস ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের নীতির চেয়ে মতাদর্শ গত ভাবে বিজেপি দীনদয়াল উপাধ্যায়ের অখন্ড মানবতাবাদ  এবং হিন্দুত্ববাদী নীতিকে কি বেশি গুরুত্ব দেয় না?

 

About Post Author