সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ মে : ভোটের বাকি দুদিন। ২১ মে ফলতা বিধানসভায় ফ্রেস পোল হওয়ার কথা। ঠিক এই সময় ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন। পুলিশ আধিকারিক সিংহাম বা অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা এবং নিজেকে এতদিন পুষ্পা ঘোষণা করা জাহাঙ্গীর এবার জানিয়েছেন সোনার ফলতা গড়ার লক্ষ্যে নির্বাচন থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। নাম প্রত্যাহার করার জন্য সময় না থাকলেও জাহাঙ্গীরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ঘোষণা বিজেপির হতে বিনা যুদ্ধে ফলতা তুলে দেওয়া। কারণ নতুন করে তৃণমূলের কোন প্রার্থী সেখানে লড়তে পারেননি। এখন প্রশ্ন, পুষ্পা ঝুঁকে পড়ল কেন? তৃণমূলের কাছে এখনো পর্যন্ত এর কোন সদুত্তর নেই তবে তৃণমূল সন্দেহ প্রকাশ করেছে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে চাপ দিয়ে জাহাঙ্গীরকে ভোটের ময়দান থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে । প্রেক্ষাপট একটু দেখে নেওয়া যাক।
পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছিল সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জাহাঙ্গীর পায়ের তলায় কতটা মাটি পেতেন তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবুও লড়াই করলে তিনিই একমাত্র পারতেন। সর্বোপরি সিংঘম নামে খ্যাত এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় পাল শর্মা ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে তাকে কতটা বাগে আনতে পেরেছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে। সুষ্ঠ ভাবে ভোট হয়নি এই অভিযোগ তুলে ৩২ টি বুথে ভোট চেয়েছিল বিজেপি। নির্বাচন কমিশন একধাপ এগিয়ে নতুন করে ফলতা বিধানসভার ২৯ তারিখের ভোট বাতিল করে ফ্রেশ পোলের নির্দেশ দেয়। অর্থাৎ হাজারো পুলিশি কড়াকড়ির মধ্যেও জাহাঙ্গীর ভোট নিজের অনুকূলে করাতে পেরেছিল এমন তত্ত্ব সামনে উঠে আসে। ভোটের পরে অদৃশ্য হয়ে গেলেও জাহাঙ্গীর কয়েকদিন আগেও জানিয়েছিল, আবার ভোট করাতে হচ্ছে কেন, ভয়টা তাহলে কে পেয়েছে? তবে পুনরায় নির্বাচন হওয়ার জন্য তৃণমূলের প্রচার শিকেয় বা ডকে উঠেছিল বিজেপি বিপুল আসনে জয়ী হয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসতেই। ফলতার প্রচারে তৃণমূলের হয়ে কাউকে দেখা যায়নি। না দেখা গিয়েছিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে না দেখা গিয়েছিল জাহাঙ্গীরকে না দেখা গিয়েছিল ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ এবং জাহাঙ্গীরের গডফাদার হিসেবে পরিচিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। উল্টে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা জাহাঙ্গীরকে কার্বলিক এসিড দেওয়ার ঘোষণা করেন। এত সবকিছুর পরেও জাহাঙ্গীর বলেছিলেন, তিনি মানুষের সঙ্গে থাকেন তার আলাদা করে প্রচারের দরকার নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের ভোটে সবচেয়ে বেশি ভোটে অভিষেক কে লিড এনে দিয়েছিল ফলতা। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে অভিষেক এগিয়ে যান ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ভোটে। সেই বিধানসভা কেন্দ্রে অভিষেকের ভোটের অন্যতম কান্ডারী ছিলেন জাহাঙ্গীর। সেই জাহাঙ্গীর এখন ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর পরে কী বলছেন? তিনি বলেছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সেই উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে সফলভাবে বাস্তবায়িত করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।’ তাঁর বক্তব্য, ‘ফলতার উন্নয়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই না রাজনৈতিক লড়াইয়ের কারণে উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হোক। তাই আমি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লড়াইয়ের থেকে এলাকার স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।’
এখন প্রশ্ন উঠছে পুষ্পা ভয় পেল কেন? পুষ্পা ঝুঁকে পড়ল কেন? তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ জানিয়েছেন, পুষ্পার ভয় পাওয়ার কথা নয়। তাঁর অভিযোগ,তাহলে কি ফলতায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল? দল খতিয়ে দেখবে পুষ্পা ঝুঁকে পড়ল কেন!


More Stories
পার্টি অফিস খুলতে বামেদের বাধা কাটছে না
কেন গ্রেফতার গর্গ?
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিজেপির অভিনব বনভোজনে ডুয়ার্সে