Home » সারিন্দার পাখি মঙ্গলাকান্ত গান ভুলেছেন অসুস্থতায়

সারিন্দার পাখি মঙ্গলাকান্ত গান ভুলেছেন অসুস্থতায়

সানি রায়,সময় কলকাতা : “গানে ভুবন ভরিয়ে দেবে ভেবেছিল একটি পাখি হঠাৎ এসে বিঁধল যে তীর, স্বপ্ন দেখা হল ফাঁকি  “- সংগীত দুনিয়ায় স্বপ্নের বিচরণ প্রায় শতাব্দীকাল ধরে। বিরল বাদ্যযন্ত্রের লোকশিল্পী মঙ্গলাকান্ত রায়। সারিন্দা বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে পাখির ডাক  ফুটিয়ে তুলতেন তিনি । আজ জীবন মৃত্যুর সীমানায় শতায়ু গানের পাখি মঙ্গলাকান্ত রায়, তীব্র শারীরিক সমস্যায় খাবার মুখে তুলতে পারছেন না। আলো ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে যেন, আর সেখান থেকে উত্তরণের আর্জি প্রবীণ শিল্পীর পরিবারের।

ভোট দিয়েছেন ময়নাগুড়ির বাড়িতে বসেই। নতুন সরকার এসেছে কিন্তু আজন্ম তিনি একই থেকেছেন। এলোপ্যাথিক ওষুধ নির্ভরতা ছিল না একটি দিনের জন্য।কখনও ওষুধ খেতেন না ইনি, টোটকার ওপরেই ভরসা ছিল অগাধ! ওষুধ ছাড়াই ছুঁয়েছেন শত বছরের গণ্ডি। এক সময় সারিন্দা বাজিয়ে মন জয় করেছিলেন সকলের। পেয়েছেন পদ্মশ্রী সম্মান।গত মাসে হঠাৎ তিনি অসুস্থ। কে জানেন? আর আজ একেবারে শয্যাশয়ী শতোর্ধ্ব পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত মঙ্গলাকান্ত রায়!

গত এপ্রিল মাসে উত্তরের জলপাইগুড়ি জেলার গর্ব বাইক এম্বুলেন্স দাদা পদ্মশ্রী করিমুল হক শুনতে পান মঙ্গলাকান্ত বাবু ভীষণভাবে বাড়িতে অসুস্থ। তড়িঘড়ি ছুটে যান তার বাড়ি এবং তার নিজস্ব এম্বুলেন্সে করে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। মঙ্গলাকান্তের ছেলে উমাকান্ত রায় করিমুল হককে জানিয়েছেন তার বাবার জ্বর সর্দি কাশি সে কারণে প্রথমে ময়নাগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যেতে। গোটা বিষয় নিয়ে ওই দিনই পদ্মশ্রী করিমুল হক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন।চিকিৎসকদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, বর্ষীয়ান এই শিল্পীর ঘাড়ের পাশে টিউমারজাতীয় সমস্যা ধরা পড়েছে, যা চিকিৎসা পরিভাষায় ‘গ্ল্যান্ড টিবি’ নামে পরিচিত। আইসিইউতে ভর্তি করিয়ে কিছুটা সুস্থ করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু দিন দিন তার পরিস্থিতি আরো বেগতিক হতে শুরু করে। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে গত দুদিন থেকে একেবারে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে সারাক্ষণ বিছানাতেই শুয়ে রয়েছে। কথাবার্তা কেউ যেন জড়ানো ভাব চলে এসেছে। জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির বাসিন্দা মঙ্গলাকান্ত রায়।উত্তরবঙ্গের লুপ্তপ্রায় লোকশিল্প ‘সারিন্দা’ বাজিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন।শিল্পকলায় তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য ২০২৩ সালে তিনি দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’-তে ভূষিত হন। বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান প্রাপ্তি হলেও তার পরিবার তৎকালীন রাজ্য সরকারের তরফে কোনরকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা পায়নি। একেবারে জরাজীর্ণ ঘরে জীবন যাপন। নিজের প্রাপ্য পুরস্কারটুকু রাখার জায়গা নেই। একাধিকবার বিভিন্ন মহলে আবেদন করেও কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় আক্ষেপের সুর গোটা পরিবার সহ গ্রামের মধ্যে। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার যে পরিণতি এতে করে পদ্মশ্রী প্রাপক এই মানুষটি বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।। পরিবারের তরফে সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে। আর্তি একটাই,এভাবে নয় – শতাব্দী প্রাচীন সারিন্দার পাখি সুস্থভাবে শেষের দিনগুলি কাটান।।

About Post Author