পুরন্দর চক্রবর্তী ও দীপ সেন ,সময় কলকাতা, ৫ জুন : ঔদ্ধত্য,দাম্ভিকতা,অহংকার এবং দুর্নীতিকে মদত দেওয়ার অভিযোগ। দলের অভ্যন্তর থেকেই আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। বারাসাতে আইএমএ -র একটি অনুষ্ঠানে এসে নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে তীব্র আক্রমণ প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ ও তৃণমূল নেতা চিকিৎসক শান্তনু সেনের। মালকিন নিজেই বাড়ি ভাঙছেন, নাম না করে মমতাকে তীব্র আক্রমণ শান্তনু সেনের। পাশাপাশি, বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে সুর মেলালেন শান্তনু সেন। তৃণমূল বিধায়কদের বিদ্রোহী হয়ে ওঠার মধ্যে প্রক্রিয়াগত কোনো ভুল নেই জানালেন শান্তনু সেন। আইএমএ-র অনুষ্ঠানে ঠিক কি কি বললেন শান্তনু সেন?
যে ঘরটার নিজেই ভেঙ্গে যাচ্ছে তাতে হাতুড়ির ঘা মারছেন বাড়ির মালকিন -নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে তীব্র আক্রমণ করেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন। শুক্রবার বারাসাতে এসে যেভাবে ও যে ভাষায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন তা এককথায় নজিরবিহীন। তৃণমূল বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল, সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কের মধ্যে ৬০ জন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন কিন্তু বহিষ্কৃত ঋতব্রত ও সন্দীপন সাহা সহ কেউ সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে সে অর্থে নিশানা করেননি বরং তাঁরা বলে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তাঁরা এখনও দলনেত্রী বলে মানেন এবং তার বিরুদ্ধে তাদের বলার কিছু নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়ে ঋতব্রত নতুন তৃণমূলের কথা বললেও পরামর্শ চেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিদ্রোহীদের অধিকাংশের আপত্তি-ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিয়ে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা সরাসরি মুখ খুলেছেন। তথাপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে তাঁরা সেভাবে নিশানা করেননি যেভাবে শুক্রবার বারাসাতে সংবাদ মাধ্যমের সামনে নিশানা করলেন শান্তনু সেন। তিনি বললেন, জনগণের রায় মানতে হবে। দলের ভাঙন সম্পূর্ণ মেনে নিয়ে তিনি আরও বললেন, তৃণমূল কংগ্রেস হয়তো ৬ মাস বা ৮মাস পরে ভাঙ্গত তবে এত তাড়াতাড়ি ভাঙার কারণ মালকিন এসে হাতুড়ির ঘা মেরে ভাঙ্গনকে ত্বরান্বিত করছেন। এছাড়াও তিনি যা বলেছেন সেখানে অরূপ চক্রবর্তী সুশান্ত ঘোষদের সুর মিলেছে । তিনি বলেছেন, ২০১১ থেকে বিগত তিনবারের ফলাফল ও জয় মানলে এবারের পরাজয়কেও মানতে হবে। শান্তনু সেনের অতিরিক্ত সংযোজন আরও বহুমুখী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করতে না চাওয়ার সিদ্ধান্তকে কার্যত আক্রমণ তো করা ছাড়াও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে লাগাম ছাড়া আক্রমণ করেন শান্তনু সেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে একাধিক বিশেষণে ভূষিত করেন তিনি।
“ঔদ্ধত্য,দাম্ভিকতা,অহংকার এবং দুর্নীতিকে মদত” দেওয়ার জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করে শান্তনু সেন বলেছেন, এরই প্রতিফলন “ভোটের কালি হাত থেকে মিলিয়ে যাওয়ার আগেই দলটা মিলিয়ে যাওয়ার উপক্রম।” এদিন আরজিকর কাণ্ডের, পার্থ চ্যাটার্জির বান্ধবীর ফ্ল্যাট থেকে টাকা পাওয়া যাওয়া প্রভৃতি ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, দুর্নীতি মানুষ মানে নি এমনকি তাঁর নিজের পরিবারের লোকজন মানে নি। এতদিন তিনি দলীয় দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে দলীয়ভাবে কোনঠাসা হয়েছেন, দল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শান্তনু সেনের বক্তব্য , দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। এদিনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন আইয়ামের অন্যতম শীর্ষ আধিকারিক সুব্রত মন্ডল এবং বারাসাতের বিধায়ক শঙ্কর চ্যাটার্জী।।


More Stories
শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার জয়প্রকাশ
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
অভিষেকের দুয়ারে ইডি