Home » শিক্ষা দুর্নীতিকে গুরুতর পাপ বলার পরেও বিরোধীদের কাঠগড়ায় প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষা দুর্নীতিকে গুরুতর পাপ বলার পরেও বিরোধীদের কাঠগড়ায় প্রধানমন্ত্রী

Oplus_131072

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ জুলাই :  শিক্ষা দুর্নীতি গুরুতর পাপ এবং ঘোর অন্যায় বলেছেন নরেন্দ্র মোদি।  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা দুর্নীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা সহ মুখ খুললেন তবুও থামছে না বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে “দেরিতে দায় এড়ানোর প্রচেষ্টা” বলে অভিহিত করেছে বিরোধীরা। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিট (NEET) ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতিকে “গুরুতর পাপ” বা “ঘোর অন্যায়” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে অপরাধীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না এবং কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে।সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে এনডিএ (NDA)-র সংসদীয় দলের বৈঠকে এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির  বক্তব্য তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা বা পরীক্ষা ব্যবস্থার পবিত্রতা রক্ষা করা কেবল কেন্দ্রের একাই নয়, কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়েরই সম্মিলিত একটি জাতীয় দায়িত্ব।ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে একটি সম্পূর্ণ নির্ভুল, নিরাপদ ও প্রযুক্তি-নির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই সংবেদনশীল বিষয়টিকে নিয়ে কোনো দলীয় বা সংকীর্ণ রাজনীতি না করার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মোদি।

বললেও মোদি বিরোধীদের কাঠগড়ায়   বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, দেশজুড়ে আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে লাখ লাখ শিক্ষার্থী আন্দোলন করার পর কেন প্রধানমন্ত্রী এত দেরিতে মুখ খুললেন? রাহুল গান্ধী এক্স (X) হ্যান্ডেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিরোধীরা এই ইস্যুকে চেপে যেতে দেবে না এবং শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ সংসদে ও রাজপথে প্রতিধ্বনিত হবে।  বিরোধীরা সাফ জানিয়েছে, কেবল ফাঁকা আশ্বাসে কাজ হবে না। শিক্ষা ব্যবস্থার এই চরম বিপর্যয়ের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করেছে কংগ্রেসসহ সমমনোভাবাপন্ন দলগুলো। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের ঠিক আগের দিনই দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে শান্তিপূর্ণ মিছিল করা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে। রাহুল গান্ধী এই পুলিশি দমনপীড়নকে “গণতন্ত্রের কালো দিন” আখ্যা দিয়ে বলেন, একদিকে শিক্ষার্থীদের নির্মমভাবে পেটানো হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার জবাবদিহিতা এড়াতে তাদের ওপরই দোষ চাপাচ্ছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, আরএসএস (RSS) ও বিজেপির (BJP) অনুগতদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষে বসানোর ফলেই পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থা ও ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) ভেঙে পড়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক এই দুর্নীতি বন্ধ না হলে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো অসম্ভব, মন্তব্য কংগ্রেস সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির।

About Post Author