Home » মতুয়াদের খুস করতে দরাজ কেন্দ্র ও রাজ্য, প্রশ্ন সিএএ দ্বারা নাগরিকত্বের কাগজ কবে পাবেন তারা ?

মতুয়াদের খুস করতে দরাজ কেন্দ্র ও রাজ্য, প্রশ্ন সিএএ দ্বারা নাগরিকত্বের কাগজ কবে পাবেন তারা ?

সময় কলকাতা ডেস্কঃ  ১২ই ডিসেম্বর ২০১৯, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সই করলেন সিটিজেন আ্যমেন্ডমেন্ট অ্যাক্টে ।স্বপ্ন দেখা শুরু করলেন বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তু মানুষ।দেশ ভাগের যন্ত্রনা বুকে নিয়ে এদেশে আশ্রয় নিয়েছেন কয়েক যুগ আগে।কিন্তু তারপরও তাদের মধ্যে বহু মানুষ হয়ে উঠতে পারেনি দেশের নাগরিক।তাঁদের দাবি কয়েক দশক বাস করার পরও নানান প্রয়োজনে পুলিশি  ভেরিফিকেশনের সময় তাঁদের পড়তে হয় নিদারুণ সমস্যায়।এদেশে তাঁদের অনেকের নামে জমি আছে।আছে আধার কার্ড।আছে ভোটার কার্ড।সেই কার্ডে ভোটও দেন তাঁরা।দেশের সরকার গঠনে মতদান করেন ।কিন্তু নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমানের ক্ষেত্রে পুলিশ জন্মস্থান  জানতে চাইলে নির্বাক হয়ে যেতে হয় তাঁদের।

বাংলাদেশের ওরাকান্দি থেকে প্রমথ নাথ ঠাকুরের হাত ধরে বনগাঁ মহকুমায় চলে আসেন এক দল মানুষ।বনগাঁয় ঠাকুর এস্টেট গড়ে তোলেন তিনি।প্রমথ নাথ ঠাকুরের পূর্বপুরষরা হলেন হঁরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুর।এই দুই ব্যক্তির দেখানো পথের মানুষরা বাংলাদেশে মতুয়া সম্প্রদায় হিসাবে পরিচিত ছিলেন।এই দেশের ঠাকুর এস্টেটের আবর্তে মতুয়ারা একত্রিত হতে থাকলেন।জন্ম নিল ঠাকুর নগর নামে একটি জনপদ।উদ্বাস্তু মানুষের পুনর্বাসনের জায়গা হিসাবে ঠাকুর নগরকে চিহ্নিত করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।রাজ্যের মন্ত্রিসভায় নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী ও হলেন প্রমথ নাথ ঠাকুর।ইছামতি আর যুমনা দিয়ে বয়ে যাওয়া স্রোতের মত ভাসতে ভাসতে রাজ্যে আসা উদ্বাস্তু মানুষগুলির প্রকৃত ভারতীয়র স্বীকৃত তার পরেও এলো না।সারা ভারত মতুয়া সংঘের ব্যানারে নাগরিকত্বের ইস্যুতে কলকাতায় মেট্রো চ্যানেলে ধর্ণা দেন মতুয়ারা। রেল মন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে বারবার ছুটে গিয়েছেন নিপীড়িত  মানুষের পাশে দাঁড়াতে ঠাকুর নগরে।মতুয়াদের বড়মা বীনাপানি ঠাকুরকে দেওয়া কথা মত বহু উন্নয়নের কর্ম যজ্ঞে সাজিয়ে দিয়েছিলেন ঠাকুর নগরকে প্রাক্তন রেল মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।নিজে মতুয়াদের সদস্য পদ ও গ্রহন করেছিলেন তিনি।তারপর থেকেই রাজ্য ও দেশের রাজনীতিকদের নজরে পড়ে এই সংঘবদ্ধ মতুয়া সম্প্রদায়।এক নতুন ভোট ব্যাঙ্কের তকমা পান তারা।এদিকে মমতা ঠাকুরকে সাংসদ বানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস একছত্র সেই ভোট ব্যাঙ্কের দখল নেয়।তারপরই হিন্দুদের ধ্বজাধারী রাজনৈতিক সংগঠনের নজরে পরে মতুয়া ভোট ব্যাঙ্কে।সেই পথে মতুয়া বাড়ির সন্তান শান্তনু ঠাকুর কে নিজের জ্যোঠিমার বিরুদ্ধে ২০১৯ এর লোকসভায় প্রার্থী করে বাজিমত করে বিজেপি।দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং আসেন ঠাকুর বাড়িতে।সে সব অতীত।প্রতিশ্রুতি মত লোকসভা ও রাজ্যসভায় নতুন নাগরিকত্ব আইন পাশ করায় বিজেপি। তার পরেও সারা দেশ ও এই রাজ্যে লাগু হয় না সি এএ। ক্ষোভ বাড়তে থাকে মতুয়া সমাজে।তারই সুর শোনা যায় কেন্দ্রীয় জাহাজ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরে গলায়।

নানান ঘাত প্রতিঘাত পাড় করে এই বছর আবার হচ্ছে বারুনি মেলা।কোভিড সময় কালকে অতীত করে এবারে বারুনি মেলার আগে মতুয়াদের কাছে বড় প্রাপ্তি সেই প্রধানমন্ত্রী মোদী।দাবি কেন্দ্রীয় জাহাজ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের।তিনি আবার সর্বভারতীয় মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতিও।তাঁর দাবি আজ মঙ্গলবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়্যালি উপস্থিত হবেন ঠাকুর নগরে।তাঁর জন্য কয়েক ডজন জায়েন্ট স্ক্রিন বসানো হয়েছে ঠাকুর নগরে।গঙ্গা সাগর,কেঁদুলী,জয়দেবের মেলার মতই লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয় ঠাকুর নগরে।এবার মতুয়াদের খুস করতে দরাজ হয়েছে কেন্দ্র।সারা দেশ থেকে ঠাকুর নগরের বারুনি মেলায় আসার ট্রেন দেওয়া হয়েছে।সেই সঙ্গে ভার্চুয়্যালি উপস্থিত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।তবে মতুয়াদের এখন একটাই প্রশ্ন কবে তারা সিএএ দ্বারা নাগরিকত্বের কাগজ হাতে পাবেন?

About Post Author