সময় কলকাতা ডেস্কঃবিষধর সাপকে কে না ভয় পায়৷আর ওই সাপ যদি ঢুকে পড়ে আপনার বাড়িতে!কি করবেন? আমাদের কারও বাড়িতে সাপ বা অন্য কোনও হিংস্র প্রাণী ঢুকে পড়লে সাধারণত আমরা বনদপ্তরে খবর দিই।তারপরেই বন্দপ্তরের কর্মীরা তা উদ্ধার করে থাকেন৷কিন্তু ধরুন তাদের আসতে অনেকটা সময় লাগবে৷এই পরিস্থিতিতে চিন্তিত হবার কথা অবশ্যই।তবে এই পরিস্থিতিতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে স্নেক ম্যান৷হ্যাঁ ঠিকই শুনছেন।হুগলী এলাকায় স্নেক ম্যান বা স্নেক রেসকিউয়ার নামে পরিচিত মঙ্গল সাউ।বিগত ছয়-সাত বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকেই তিনি বন্য প্রাণীদের সংরক্ষণের দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন নিজের কাঁধে।বিষধর সাপ থেকে শুরু করে পথ কুকুর ও বন্য প্রাণীদের প্রতি উদার মানসিকতার নজির গড়েছেন আরামবাগের বাসিন্দা মঙ্গল সাউ ওরফে দি স্নেক ম্যান।

জানা গিয়েছে,ছোটবেলা থেকেই আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়েই বড় হয়েছেন মঙ্গল সাউ।পেশায় তিনি একজন কাঠ মিস্ত্রি।তার দৈনিক আয় ৫০০ টাকা। সেই টাকার মধ্যে থেকেই প্রতিদিন ২০০ টাকা করে বাঁচিয়ে তিনি খরচ করেন বন্য প্রাণীদের জন্য।যেমন ধরুন কোথাও কারও বাড়িতে বিষধর সাপ ঢুকে পড়েছে৷তখন ওই বাড়ির সদস্যরা ও গ্রামবাসীরা ভয়ে রয়েছেন৷আড় সে সময়ই ফোনের ঘণ্টি বাজতে থাকে দি স্নেক ম্যান এর।আর সে ছুটে যান সাপটিকে উদ্ধার করতে৷

স্নেক ম্যান মঙ্গল সাউ বলেন, ছোট থেকেই তিনি সাপ দেখে বড় হয়েছেন।সাপকে ভয় পেয়ে অনেক মানুষ তাদেরকে মেরে ফেলেন।আড় তখনই মঙ্গল সাউ-এর মনে প্রশ্ন জাগে,বিনা অপরাধে ওই বন্যকে কেন মরতে হচ্ছে৷তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে আরামবাগের সমস্ত বন্যপ্রাণীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেবেন৷যেমন ভাবনা তেমনই কাজ৷বছর ছয়েক ধরে এক হাজারেরও বেশি সাপ কে উদ্ধার করে বন দপ্তরের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি।সাধারণ মানুষকে বুঝিয়েছেন বন্যপ্রাণীরা কতটা পরিবেশ বান্ধব।কিন্তু এখানেই শেষ নয়।সাপ উদ্ধারের পাশাপাশি বিভিন্ন আহত পথ কুকুরদের সেবা শুশ্রূষাও করেন তিনি।তবে এই মহৎ কাজে তিনি একাই সামিল হননি, এ কাজে তাঁকে সহযোগিতা করছেন তার স্ত্রী৷অভাবের সংসার, তবুও একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার নজির গড়েছেন এই দম্পতি।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ