সময় কলকাতা ডেস্ক: ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়।এই কথা আবার প্রমান করতে সচেষ্ট বারাসাত জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা পেতে গিয়ে নাজেহাল হতে হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া এই রাজ্যে দুস্কর।বরং বলা ভাল সরকারি হাসপাতাল এক প্রকার নিরুপায় মানুষই চিকিৎসা পরিষেবা নিতে যান।এটাই রাজ্য সরকারের হাসপাতাল নিয়ে অধিকাংশ মানুষের ধারনা।চিকিৎসা পেতে গিয়ে ভুক্তভোগী মানুষ মাত্রই জানেন কি ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় রোগীর পরিবার ও রোগীকে।হাসপাতালের পরিচালন কমিটি ও সরকারের চেষ্টা করে পরিবর্তন আনার।কিন্তু সবচেষ্টায়ই ব্যর্থ হয়ে যায় একশ্রেনির কর্মী ও রোগীর ব্যবহারিক সংস্কৃতিতে।
উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর হাসপাতাল বর্তমানে বারাসাত মেডিকেল কলেজ নামে পরিচিতি পাচ্ছে।এই হাসপাতাল নিয়ে রোগীর পরিবারের অভিযোগের অন্ত ছিল না।পরিবর্তনের সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ধীরে ধীরে পরিবর্তন এসেছে পরিষেবার মানে।তবে সেখানেই না থেমে এবার পরিষেবা আরও উন্নত করতে করপোর্ট সংস্থার ধাঁচে ফিড ব্যাক ফর্মের ব্যবস্থা করছেন তারা।

রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে রোগী ও তাঁর পরিবারের কাছে ছাপানো ফর্ম দিয়ে জানতে চাইছে সামগ্রিক হাসপাতালের পরিষেবাগুলি পেয়ে রোগী কতটা সন্তুষ্ট।সেই ফর্মে একবার চোখ রাখলে যে কোন মানুষের চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে।কারণ এই সরকারি হাসপাতালের ফর্মে যা জানতে চাইছে তার প্রতিটি পরিষেবা নিয়েই তো সাধারণ মানুষের রয়েছে হাজার অভিযোগ।বারাসাত হাসপাতাল রোগী ও তাঁর পরিবারের কাছে জানতে চাইছে ইমারজ্যেন্সিতে আসার পর কত সময় লেগেছে ভর্তি হতে। ইমারজ্যেন্সিতে চিকিৎসক নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের ব্যবহার কেমন ছিল।ভর্তি হওয়ার পর বেডের চাদর পরিস্কার ছিল কিনা। ওয়ার্ডে ভর্তি থাকাকালীন চিকিৎসক, নার্সের ব্যবহার ও রোগীকে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে তৎপরতা রোগীকে সন্তুষ্ট করছে কিনা।তাও জানতে চাওয়া হয়েছে এই ফর্মে।পাশাপাশি হাসপাতালের গ্রুপ ডি কর্মীদের কাজকে ও রোগীর আতস কাঁচের তলায় নিয়ে আসা হয়েছে এই ফর্মে।

শুধু চিকিৎসক ও নার্স আর গ্রুপ ডি নয়।হাসপাতালে নানান পরীক্ষা নিরীক্ষার সময় নিয়ম মেনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা তাও জানতে চাওয়া হয়েছে এই ফর্মে।হাসপাতালের ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা কিংবা খাবারের মান সবই রোগীর থেকে ফিড ব্যাক নিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বারাসাত হাসপাতাল সুপার সুব্রত মণ্ডল জানান, এটি ৬০০ বেডের হাসপাতাল।প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ আউট ডোরে চিকিৎসা পরিষেবা নেন।সুপারের ঘরে বসে পুরো ব্যবস্থা সুচারু ভাবে চলছে তা বোঝা সব সময় সম্ভব হয় না।তাই হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডের দশ জন রোগীর কাছ থেকে এই ফর্মে তাঁদের পরিষেবা নিয়ে মতামত নেওয়া হচ্ছে।হাসপাতাল সুপার সুব্রত মণ্ডলের দাবি, এই ফর্মের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও তাঁরা নিচ্ছেন।বারাসাত মেডিকেল কলেজের এই ফিড ব্যাক ফর্ম কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে বহু করপোর্ট হাসাপাতালের কর্ম সংস্কৃতিকে হার মানাবে দাবি সুপার সুব্রত মণ্ডলের। তিনি জানিয়েছেন, এই ফিড ব্যাক ফর্মে রোগীর পরিচিতি ও তাঁর দেওয়া তথ্যেরও গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী