Home » জম্মু-কাশ্মীরে গুলিবিদ্ধ শ্রমিকদের পরিবারের পাশে বিধায়ক

জম্মু-কাশ্মীরে গুলিবিদ্ধ শ্রমিকদের পরিবারের পাশে বিধায়ক

সময় কলকাতা ডেস্কঃ  জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় গুলিবিদ্ধ মালদার চাঁচলের শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস স্থানীয় বিধায়কের।চাঁচলে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সবধরণের সহায়তার কথা জানিয়ে বরাভয় বার্তা দিলেন আব্দুর রহিম বক্সি।

জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় গুলিবিদ্ধ হয় দুই শ্রমিক। শুক্রবার রাতে শ্রীনগরের নওগাম এলাকায় সন্ত্রাসবাদীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা যায়, কাশ্মীরে আহত দুই শ্রমিকের বাড়ি মালদহের চাঁচলে। শনিবার দুপুরে দুশ্চিন্তায় থাকা পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান পুলিশ ও মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি। আহত দুই শ্রমিকের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন বিধায়ক।

জানা যায়, শুক্রবার রাতে ইফতারের পর ঘরে ঢুকে দুজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি তাদের লক্ষ করে গুলি চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই শ্রমিকের একজনের নাম আনিকুল ইসলাম। তার বাড়ি চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বলরামপুরে। আর একজন আনিকুলের শ্যালক নাজিমুল হক জালালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হজরতপুরের বাসিন্দা।

আহতদের পরিবার সূত্রে খবর, ওরা সম্পর্কে জামাইবাবু ও শ্যালক। সাত ভাইবোনের মধ্যে বড় আনিকুল। আর চার ভাইবোনের মধ্যে বড় নাজিমুল। অভাবের সংসারে হাল ধরতে দুজনেই কাশ্মীরে পাড়ি দিয়েছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্ত্রীকে ফোনও করেছিলেন আনিকুল। পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। আচমকাই ফোনে গুলির শব্দ শুনতে পান স্ত্রী মেরিনা বিবি। কয়েক ঘণ্টা পর গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। স্বাভাবিকভাবেই, দুশ্চিন্তা আর উদ্বেগে প্রতিটা মুহূর্ত কাটছে আহতদের পরিবারের। কয়েক মাস আগে মালদহের চাঁচল থেকে আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক শ্রীনগরে কাজে যান।

আনিকুলের স্ত্রী মেরিনা বিবি জানান, ‘‘ দুজনে একসঙ্গেই থাকত। তাই চিন্তা ছিল না। কিন্তু ওদের উপরে যে এমন হামলা হতে পারে ভাবতেই পারছি না। ওদের কিছু হলে পথে বসতে হবে আমাদের”।

এবিষয়ে চাঁচল থানার আইসি সুকুমার ঘোষ বলেন, ‘‘সরকারিভাবে এখনও কাশ্মীর প্রশাসনের তরফে কিছু জানানো হয়নি আমাদের। ঘটনার কথা জানতে পেরেই দুটি বাড়িতেই পুলিশকর্মীদের খোঁজখবর নিতে পাঠানো হয়েছে। ২ জন শ্রমিক গুলিতে জখম হয়েছেন বলেই পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে”।

এদিকে খবর পেয়েই এদিন এলাকায় যান বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি। তিনি বলেন, ‘‘এলাকার শ্রমিকদের সঙ্গে ভিডিও কলে ফোন করে দুই শ্রমিকের খোঁজ খবর নেওয়া হয়। ওদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সঠিক চিকিৎসা হয় তা জেলা প্রশাসনকে দেখতে বলব। আমরাও সবরকমভাবে পরিবারটির পাশে থেকে সাহায্য করব’’।

About Post Author