Home » মেখলিগঞ্জে অনুকূল চন্দ্রের আশ্রমে কমেছে হরিণের সংখ্যা, কমেছে দর্শনার্থীদের সংখ্যাও

মেখলিগঞ্জে অনুকূল চন্দ্রের আশ্রমে কমেছে হরিণের সংখ্যা, কমেছে দর্শনার্থীদের সংখ্যাও

সানি রায়, জামালদহ, সময় কলকাতাঃ কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নানান ঐতিহ্য।এই ব্লকের জামালদহে অনুকূল চন্দ্র ঠাকুরের আশ্রমে অবস্থিত হরিণ উদ্যানটি এক সময় হরিণে ভর্তি থাকত। বর্তমানে পুরুষ হরিণের অভাবে প্রজননের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই জেলার জামালদহের বুক চিড়ে চলে গেছে ১২-এ রাজ্য সড়ক। সেই সড়কের পাশেই বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে অনুকূল চন্দ্রের আশ্রম। যা লোকমুখে জয়গুরু আশ্রম নামেও পরিচিত।১৯৮০ সালের ২  ফেব্রুয়ারি এই আশ্রমটি প্রতিষ্ঠিত হয়। আশ্রম প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পরে ১৯৯০ সালে প্রায় সাড়ে তিন একর জমি আশ্রম কতৃপক্ষকে লিজে দেয় বনদপ্তর। সেখানে আশ্রম কর্তপক্ষ গড়ে তোলে একটি অভয়ারণ্য। সেই থেকেই সাধারণ মানুষের কাছে হরিণ উদ্যান বলে পরচিত এই জায়গাটি। উদ্যানটি চালুর সময় বন দপ্তর থেকে তিনটি হরিণ আশ্রম কতৃপক্ষকে উপহার দিয়ে ছিল রাজ্য বনদপ্তর দাবি আশ্রম কর্তৃপক্ষের। পরবর্তীকালে আশ্রমের এই উদ্যানে জন্ম নেয় বেশ কিছু হরিণ।দিনে দিনে হরিণের সংখ্যা বেড়ে বারোয় এসে দাঁড়ায়। বয়স জনিত কারণে অনেক হরিণের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে শুধু তিনটি হরিণ অবশিষ্ট রয়েছে এই আশ্রমে।আর তিনটি হরিণই স্ত্রী প্রজাতির।ফলে পুরুষ হরিণ না থাকায় প্রজনন সম্পন্ন হচ্ছে না এখানে।আশ্রমের দর্শনার্থীদের এই হরিণ উদ্যান একটি বড় আকর্ষনের বিষয়।সেই টানেই প্রতিবছর প্রচুর দর্শনার্থীরা আসেন মন্দিরে। কাছ থেকে হরিণকে দেখার ইচ্ছাও পূরণ হয়।

আশ্রম কর্তপক্ষ জিতেন দত্ত বলেন, আশ্রমের গরিমার সঙ্গে হরিণ উদ্যানটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।তাঁর দাবি গত পাঁচ বছর ধরে সকল প্রশাসনিক স্তরে হরিণ উদ্যানে পুরুষ হরিণের সমস্যার কথা তাঁরা জানিয়ে আসছেন।আশ্রম কর্তপক্ষ জিতেন দত্ত বলেন জলপাইগুড়ি ডিভিশন এর মুখ্য বন সংরক্ষককে মৌখিক ভাবে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ।

এই আশ্রমের আশ্রমিক গোপীনাথ দে জানান, এখানে অন্তত একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী হরিণ প্রয়োজন। কারণ যে তিনটি হরিণ রয়েছে সেগুলি বয়স জনিত কারণে প্রজননে অক্ষম হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পদমতি ইউনিয়ন রহিমুদ্দিন বিদ্যালয়ের জীববিদ্যার শিক্ষক ধীমান বর্মন জানান, সমস্যাটি অত্যন্ত গভীর। সামনেই প্রাণীদের প্রজনন ঋতু । তার আগে যদি এই সমস্যা নিবারণে প্রশাসন সচেষ্ট হয় তবে জামালদহবাসীদের ভালো উপহার দিতে পারে তারা।
জামালদহ নিবাসী কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র প্রতাপ কুমার ঝাঁ জানান, বন্যপ্রাণীদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও কাছের থেকে তাদের প্রত্যক্ষ করার জন্যই এই মৃগ কাননটি বন দপ্তরের বিশেষ উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল। এর আগেও এখানে হরিণের প্রজনন হয়েছে বলেও জানান তিনি। বন দপ্তর প্রজননের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে যদি স্ত্রী ও পুরুষ দু প্রকার হরিণের ব্যবস্থা করে তাহলে আবার স্বাভাবিক ভাবেই হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এই আশ্রমে, মত প্রতাপ কুমার ঝাঁয়ের ।

মেখলিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ জ্যোতিষ রায় জানান, আশ্রম কতৃপক্ষের তরফে তাদের কিছু জানানো হয়নি। সমস্যা নিয়ে লিখিত আবেদন করলে তিনি বিষয়টি বনমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছে দেবেন বলে আশ্বাস দেন।

About Post Author