বিশ্বজিৎ হীরা, সময় কলকাতা : থেমে গেল সুর, নিভে গেল জীবনপ্রদীপ।মাত্র ৫৩ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ । সঙ্গীতপ্রেমীরা তাঁকে আদর করে ডাকতেন কেকে বলে। মঙ্গলবার কলকাতায় একটি কলেজের আমন্ত্রণে নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠান করতে এসে রাত সাড়ে দশটা নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। বুকে ব্যথা হওয়ার কারণে তড়িঘড়ি তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সি এম আর আই হাসপাতালে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সুরের জাদুকরের এই অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সমগ্র সংগীত জগতে।

কলকাতা শহর কে তিনি বরাবরই ভালোবাসতেন। যখনই কোনো অনুষ্ঠান মঞ্চে গান গাওয়ার মাঝে ভালো লাগার কথা বলতেন তাঁর মুখে উঠে আসত কলকাতা শহরের কথা। সেই কলকাতা শহরেই তার জীবনের শেষ অনুষ্ঠান করলেন কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ। দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এক মালায়লাম পরিবারে। তারপর দিল্লিতেই বেড়ে ওঠা। পড়াশোনার দিল্লির মাউন্ট সেন্ট মেরি স্কুলে, স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শেষ করেন কিরোরি মল কলেজ থেকে। তখন থেকেই সংগীতের প্রতি টান ছিল কেকের। ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীত চর্চা করে এসেছিলেন তিনি। গান এবং জিঙ্গল মিলিয়ে প্রায় ৩৫০০ গানের গলা মিলিয়েছেন তিনি । হাম দিল দে চুকে সনমের তড়প তড়প, দিল ইবাদাত ,আখো মে তেরি, তুনে মারি এন্টিয়ার দিলমে বাজে ঘন্টিয়ার, খুদা জানে সহ একাধিক অনবদ্য সঙ্গীতে প্লেব্যাক করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন কেকে।

মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস কে কে-র মৃত্যু সম্পর্কে বলেছেন, “গায়ক অনুপম রায় আমাকে ফোন করে বলেছিলেন যে তিনি হাসপাতাল থেকে খারাপ কিছু শুনতে পাচ্ছেন।
এরপর হাসপাতালে যোগাযোগ করি।আমাকে বলা হয় যে তাকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে।তারপর আমি হাসপাতালে ছুটে যাই।”

কেকে-র অকাল প্রয়াণ শুধুমাত্র সঙ্গীত জগতে নয় সমগ্র ভারতবাসীর মনেই শোকের ছায়া নিয়ে এসেছে। সংগীতজগতের কাছে এ এক অপূরণীয় ক্ষতি।।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
মেরা কুছ সামান তুমহারে পাশ পড়া হ্যায়, প্রয়াত আশা ভোঁসলে