Home » পুত্রের মৃতদেহ ছাড়াতে, রাস্তায় ভিক্ষায় বাবা-মা

পুত্রের মৃতদেহ ছাড়াতে, রাস্তায় ভিক্ষায় বাবা-মা

সময় কলকাতা ডেস্কঃসমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেরকম মানবিকতার ছবি আমরা দেখতে পাই তেমনি মাঝে মাঝেই দেখা যায় চরম অমানবিকতার ছবি। যে ছবি সমাজের ভিত নাড়িয়ে দেয় অনেক সময়। তেমনি চরম অমানবিকতার ছবি দেখা গেল বিহারের সমস্তিপুরে।

সমাজ এগিয়ে চলেছে  , প্রতিযোগিতার যুগে কর্মব্যস্ত জন- জীবন । প্রতিবেশী আজকাল আর অন্য প্রতিবেশীর খোঁজ রাখেনা। সমাজের থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মানবিকতা মূল্যবোধ। নৃশংসতা আস্তে আস্তে তার করাল থাবা বিস্তার করছে।অমানবিকতার ছবি প্রতিনিয়ত সমাজের সামনে আসছে। চরম অমানবিকতার ছবির নিদর্শন হয়ে রইল বিহারের সমস্তিপুরের ঘটনা। হাসপাতালের মর্গ থেকে ছেলের মৃতদেহ ছাড়ানোর জন্য রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করতে হচ্ছে বাবা-মাকে। বিহারের সমস্তিপুর জেলার তাজপুর থানা এলাকার আহার নগরের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী মহেশ ঠাকুর। তার ২৫ বছর বয়সী ছেলে সঞ্জিব ঠাকুর গত ২৫ শে মে থেকে নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও ছেলের খোঁজ না পেয়ে ,বিভিন্ন সামাজিক প্রচারমাধ্যমে প্রচার করতে থাকেন মহেশ ঠাকুর। সাতই জুন মসরিঘরি থানা এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে থানায় পৌঁছে নিজের ছেলের মৃতদেহ শনাক্ত করেন মহেশ ঠাকুর। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় সদর হাসপাতালের মর্গে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ হস্তান্তরের সময় মর্গের থেকে মহেশ থাকুরের কাছে দাবি করা হয় ৫০ হাজার টাকা ।

মহেশ ঠাকুর নিজে প্রতিবন্ধী, নুন আনতে পান্তা ফুরায়, কোন মতে শরবতের দোকান চালিয়ে দিন গুজরান হয় মহেশ ঠাকুরের পরিবারের। এমত অবস্থায় ৫০ হাজার টাকা দেওয়া কোন মতেই সম্ভব না হওয়ায়, বিভিন্ন সংগঠনের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান মহেশ বাবু। অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের কাতর আবেদনেও সাড়া দেয়নি কোন সংগঠন। অগত্যা উপায় না দেখে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বেরিয়ে পড়ে রাস্তায় ছেলের মৃতদেহ ছাড়ানোর জন্য ৫০ হাজার টাকা সংস্থানের লক্ষ্যে।

মর্গের কর্মীদের তিনি দুই হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ২ হাজার টাকা নিতে অস্বীকার করেন মর্গের কর্মীরা ,কারণ তাদের দাবি ৫০ হাজার। হত দরিদ্র পরিবারের অসহায় অবস্থার দিকে তাকিয়ে ইতিমধ্যেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বহু স্বহৃদয় মানুষ। এর আগেও হাসপাতাল মর্গে থেকে টাকা চাওয়ার ছবি বহুবার ভাইরাল হয়েছে সামাজিক প্রচারমাধ্যমে। তা সত্ত্বেও কখনো টনক নড়েনি প্রশাসনের। এই চিত্র শুধু বিহারে নয়, এ চিত্র দেখা যায় সারা ভারতের প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের হাসপাতালের মর্গেও। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গে মৃতদেহ আনতে গেলে মৃতের পরিবার কে দিতে হয় নজরানা। বিহারের এই ঘটনা নিয়ে সিভিল সার্জন ডক্টর এস কে চৌধুরী জানিয়েছেন এটা মানবতার লজ্জা। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গের কর্মীদের জুলুমবাজির শিকার হয়েছেন বহু মানুষ। পরিজনের মৃতদেহ নেওয়ার তাগিদে অধিকাংশ সময়ই সাধারণ মানুষ মেনে নেয় এই জুলুমবাজি। কিন্তু ছেলের মৃতদেহ ছাড়ানোর জন্য রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করছে বাবা মা ।এ শুধু সমাজের লজ্জা নয় ,এ মানবতার লজ্জা। উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক প্রশাসন। বন্ধ হোক সমাজের এই কলঙ্কিত অধ্যায়।

 

 

 

About Post Author