সময় কলকাতা ডেস্ক: স্বাধীনতা সংগ্রামী যতীন্দ্র নাথ দাস প্রথম যোগ দিয়েছিলেন অনুশীলন সমিতিতে। সেখান থেকেই ১৯২১ সালে গান্ধীজির অসহযোগ আন্দোলনেও যোগ দেন তিনি। ময়মনসিংহ জেলে ১৯২৫ সালে তাঁকে গ্রেফতার করে পাঠানো হয়।
রাজনৈতিক বন্দীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করা হত সেখানে। তারই প্রতিবাদে তিনি প্রথমে ২০দিনের অনশন করেন যতীনদাস। জেল কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলে যতীন দাস অনশন ভঙ্গ করেন।
এরপর তিনি ভগত সিংয়ের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন। দলের হয়ে বোমা তৈরি করতে থাকেন তিনি। ১৯২৯ সালের ১৪ জুন তিনি গ্রেফতার হন এবং তাঁকে লাহোর জেলে পাঠানো হয়।
জেলের সংস্কার এবং জেলের কয়েদীদের অবস্থা ভালো রাখার জন্য যতীন দাস ফের অনশন শুরু করেন ১৩ জুলাই। দিনের পর দিন জেলে বন্দীদের জামা ধোয়া হত না। যে রান্নাঘরে ভারতীয় বন্দীদের খাবার তৈরি হত, তার ছিল অস্বাস্থ্যকর। এছাড়াও পড়ার কোনও কিছু এমনকী খবরের কাগজও দেওয়া হত না। এই অবস্থার উন্নতির দাবি তুলে অনশনে বসেন যতীন দাস। যা প্রায় ৬৩ দিন স্থায়ী হয়।

যতীন দাসকে খাওয়াতে জেল কর্তৃপক্ষ নানাবিধ অমানবিক পন্থা অবলম্বন করেন। কিন্তু তাঁর অনশন ভাঙানো যায়নি। অবশেষে ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি প্রয়াত হন অনশন না ভেঙেই। লাহোর থেকে কলকাতায় আনার পথে যতীন দাসকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে প্রতি স্টেশনে হাজারে হাজারে মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। কলকাতায় তাঁর কফিন নিয়ে মিছিল করা হয়েছিল। সেই মিছিলের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় দুই মাইল।


More Stories
ভারতরত্ন সম্মান : ইতিহাস ও বিতর্ক
স্বামী বিবেকানন্দের মা বীর জননী আখ্যা পেয়েছিলেন, কিন্তু কার জন্য? জানেন কি?
আগ্রার ঔরঙ্গজেবের ‘মুবারক মঞ্জিল’ গুঁড়িয়ে দেওয়া হল! নিন্দায় সরব ঐতিহাসিকরা