Home » বয়সে কারচুপি করে নাবালক বিপ্লবীর মৃত্যুদন্ড

বয়সে কারচুপি করে নাবালক বিপ্লবীর মৃত্যুদন্ড

সময় কলকাতা ডেস্ক :  সাবালক না হলে প্রাণদন্ড দেওয়া সম্ভবপর ছিল না। আর তাই বিচারের নামে প্রহসন। ১৯১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর দিল্লীতে শোভাযাত্রায় বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করেছিলেন বসন্ত কুমার বিশ্বাস। সে বছর ৬ ফেব্রুয়ারি ১৭ বছর পূর্ণ করা কিশোরকে প্রথমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।পরে ইংরেজ সরকারের চাপে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র রচনা করেন অন্তত তিনজন বিচারপতি। নথিপত্রে কারচুপি করে নাবালক বয়সে বোমা নিক্ষেপ করা বসন্তকে সাবালক প্রতিপন্ন করে ফাঁসির রজ্জু পরানো হয়।

বসন্ত কুমার বিশ্বাস ছিলেন রাসবিহারী বসুর শিষ্য। নীলকরদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো দিগম্বর বিশ্বাস ছিলেন বসন্তের প্রপিতামহ।রাসবিহারী বসুর প্ৰিয় ‘বিশে’ বা বসন্ত ১৯১২ সালে নিজেকে চাদরে ঢেকে লীলাবতী নামের এক তরুণী সেজে বড়লাট নিধনের প্রচেষ্টা চালান।সামান্যর জন্য বোমা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় লর্ড হার্ডিঞ্জ সেবার প্রাণে বেঁচে যান, মারা যায় তাঁর পেয়াদা। বসন্ত বিশ্বাস কে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাসবিহারী বসু সরে পড়লেও মামলা শুরু হয়।আর পরবর্তীতে এই মামলার বিচারের সঙ্গে জুড়ে যায় লাহোর লরেন্স গার্ডেনসে বোমা বিস্ফোরণ মামলা।১৯১৩ সালের এই বিস্ফোরণে উপস্থিত ছিলেন বসন্ত, এবারও দুর্ভাগ্যক্রমে এক ভারতীয় চাপরাশি মারা যান।দুটির বোমার উপাদান ও গঠন প্রমাণ করে বাংলার বিপ্লবীদের হাত রয়েছে দুটি ক্ষেত্রেই । ” দিল্লী- লাহোর ” ষড়যন্ত্র মামলায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন বসন্ত বিশ্বাস। তিনি ফেরার থাকলেও নদীয়া জেলার পরাগাছায় তাঁর বাড়িতে বাবার অন্তিম কাজে এসে ১৯১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী ধরা পড়েন তিনি। অতঃপর শুরু হয় বিচার। এই মামলার শুনানির শেষে বসন্তের সঙ্গে একাধিক কাণ্ডের যোগসূত্র প্রমাণ করা যায় নি। দিল্লী আদালতে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা হয় তাঁর।

এই রায়ে অসন্তুষ্ট ইংরেজ সরকার পাঞ্জাব আদালতে দিল্লীর রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করে। সজ্ঞানে হত্যার অপরাধ ” সাবালক” বসন্ত করেছিলেন প্রমাণ করতে পাঞ্জাব আদালতের বিচারপতি জন্সটন ও রেটিগান দলিলে বসন্তের বয়স বাড়িয়ে দেন। দু বছর বয়স বাড়িয়ে তাঁর মৃত্যু দন্ড ধার্য করার খেলায় তাঁদের সঙ্গ দেন দিল্লী আদালতের বিচারপতি হ্যারিসন । ফলে ঘটনার সময়  কিশোর বসন্তর ১৭ বছর বয়সকে ১৯ বছর বলে প্রমাণ করা হয়। এতদ্বারা সজ্ঞানে অপরাধের সাজা হয় মৃত্যুদন্ড। জেলে আজও আছে সংশোধন না হওয়া নথির প্রমান।১১ মের দিনটিতে আম্বালার জেলে ফাঁসি হয়ে যায় অগ্নিযুগের বীর বিপ্লবী বসন্তের।।

About Post Author