Home » নতুন দিশা দেখাচ্ছে বাঁকুড়ার ‘গ্রীন ব্যাগ’ প্রকল্প  

নতুন দিশা দেখাচ্ছে বাঁকুড়ার ‘গ্রীন ব্যাগ’ প্রকল্প  

সময় কলকাতা ডেস্কঃ জঙ্গলমহলকে নতুন দিশা দেখাচ্ছে “গ্রীন ব্যাগ”, প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের জায়গায় “গ্রীন ব্যাগ” ব্যবহারে খুশি ক্রেতা বিক্রেতা প্রশাসন সকলেই।

গ্রীন বাগ একদিকে যেমন জঙ্গলমহলের সামগ্রিক আর্থিক উন্নয়ন সাধন করবে, অন্যদিকে পচনশীল শাল পাতা ও বাবুই দড়ি দিয়ে তৈরি হওয়ায় বাঁচবে সমাজ, বাঁচবে প্রকৃতি। ৭৫ মাইক্রোনের নিচে প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ তৈরী, মজুত করা, বিক্রি সর্বোপরি ব্যবহার করা সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে গত পয়লা জুলাই থেকে। আর ঠিক তখনই শাল গাছের পাতা দিয়ে তৈরী ”গ্রীন ব্যাগ” উপহার দিচ্ছে বাঁকুড়ার জঙ্গল মহলের রানীবাঁধ। পাঁচ কেজি পর্যন্ত বহন ক্ষমতা যুক্ত এই ‘গ্রীণ ব্যাগ’ মিলবে মাত্র দু’টাকাতেই। এর ফলে একদিকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই এলাকার দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারগুলির হাতে নগদ অর্থের যোগান বাড়বে, অন্যদিকে পরিবেশ বান্ধব এই ব্যাগ ব্যবহার ফলে পরিবেশ দূষণের মাত্রাও অনেকখানি কমানো যাবে বলে মনে করেন এই গ্রীন ব্যাগের স্রষ্টা অরবিন্দ মাইতি।

বর্তমানে সরকার থেকে প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যান করে দেওয়া হয়েছে। সেইজন্য এখানকার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত লাগিয়ে শাল গাছের পাতা দিয়ে তৈরী ”গ্রীন ব্যাগ” তৈরির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলেন রানিবাঁধের বিডিও কৌশিক কুমার মাইতি। গ্রীন ব্যাগের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মেশিন। সেই মেশিন না হলে বড় অসুবিধের মধ্যে পড়তে হয়। কারণ একটা মেশিন হলে একদিনে অনেক ব্যাগ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন গ্রীন ব্যাগ শিল্পী উর্মিলা সিং। গ্রীনব্যাগ শিল্পী বন্দনা সিং-এর দাবি, জঙ্গল থেকে পাতা সংগ্রহ করে সেলাই করা হয়। একটা মেশিন হলে খুব সুবিধা হয়।

এতদিন জঙ্গল থেকে শাল পাতা তুলে এনে সেলাই করে থালা বাটি বানিয়ে বিক্রি করে সংসার চলছিল কোনরকমে। কিন্তু করোনার কারণে লকডাউনের জেরে গত দুবছর বন্ধ লাটে উঠেছে পাতার খালা বাটি তৈরীর ব্যবসা। তার ওপর গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পেও কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধ। বন্ধ ১০০ দিনের কাজও। এই অবস্থায় জঙ্গলমহলের মানুষ বিশেষ করে মহিলাদের কর্মসংস্থানের নতুন দিশা দেখাচ্ছে গ্রীন ব্যাগ। দাম মাত্র দু টাকা।

About Post Author