সময়কলকাতা ডেস্কঃ মঙ্গলবার রাতে হাওড়ার মালিপাঁচঘড়া থানা এলাকায় বিষমদের নেশার বলি পাঁচ। যতক্ষণে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, ততক্ষণে মৃতের সংখ্যা হয়ত দুই অঙ্কের গন্ডি পেরিয়ে যেতেই পারে। আহতরা হাওড়া জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার জেরে কার্যত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
যদিও এই ঘটনা বাংলার বুকে নতুন নয়। এর আগেও দেশি মদে বিষক্রিয়া, মদ খাওয়ার পর থেকে অসুস্থ বোধ করা মানুষের সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। মাত্র কয়েক দিন আগেই চলতি মাসে বর্ধমান শহরের লক্ষ্মীপুরমাঠ কলেজ মোড় এলাকার তারা মা হোটেলে ভেজাল মদের জেরে মৃত্যু হয়েছিল বহু স্থানীয়দের। সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়ার পর হোটেলের মালিক গণেশ পাসোয়ান দেশি মদে ভেজাল মেশানোর কথা স্বীকার করে।
হাওড়ায় বিষমদের ঘটনাও নতুন নয়। ১৯৯৮ সালে হাওড়া শহরে বিষমদ কাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৮ জন। সত্যবালা আইডি, হাওড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, টিএল জয়সওয়াল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন শতাধিক অসুস্থ ব্যক্তি। লিলুয়ার বিবেক নগরের ওই ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। পাশাপাশি যে মদের ঠেকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল, সেই ঠেকের সঙ্গে নাম জড়িয়েছিল এক সিপিএম নেতারও।
এরপর ফের ১৪ ডিসেম্বর, ২০১১ দক্ষিণ ২৪ পরগনার সংগ্রামপুর বিষমদকাণ্ডের জেরে মোট ১৭৩ জনের মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনার জেরে কয়েকজন দৃষ্টিশক্তি যেমন হারান, তেমনই পঙ্গু হয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছিল। ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের বেলেচণ্ডীতে বিষমদ খেয়ে মৃত্যু হয় ৫ জনের৷ ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ফের দক্ষিণ ২৪ পরগনারই ঢোলাহাটের রামগোপালপুর গ্রামে বিষমদ খেয়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

ধাপে ধাপে লাগাতার বিষমদকাণ্ডে কার্যত তোলপাড় হয়েছে রাজ্য। কিন্তু অন্যদিকে মদ বিক্রির কারণেই আবগারি দফতরের আয় বেড়েছে গত কয়েকবছরে। কয়েক হাজার কোটি টাকার আয় করেছে রাজ্য। এরই মাঝে শুরু হওয়ার কথা দুয়ারে মদ প্রকল্পও। তাই সব মিলিয়ে মদ বিক্রি নিয়ে যে ক্ষোভ বিক্ষোভ দানা বাঁধছে আমজনতার মনে, তাতে এবার মদের ঠেক বন্ধ হতে চলল বলে!


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি