Home » ২১জুলাই : শহীদ দিবসের রক্তাক্ত স্মৃতি

২১জুলাই : শহীদ দিবসের রক্তাক্ত স্মৃতি

সময় কলকাতা ডেস্ক :

সময় ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই। তখনও তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম হয় নি । পশ্চিমবঙ্গ যুব কংগ্রেসের সভাপতি “অগ্নিকন্যা” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বে চলা মহাকরণ অভিযানে “শহীদ” হন ১৩ যুব কংগ্রেস কর্মী। সেই দিনটির স্মরণে পালিত হয় শহীদ দিবস।

শহীদ দিবসে বিগত দুবছরে ভিড় হয় নি। এবার ভিড় হবে তৃণমূলের শহীদ দিবসে। পুলিশ রিপোর্ট তেমনটাই বলছে। শহীদ দিবসের প্রেক্ষাপট ২৯ বছরের পুরোনো । পুলিশের গুলিতে ১৩ যুব কংগ্রেস কর্মী নিহত হওয়ার পরে,রাজনৈতিক কর্মীদের আত্মাহুতির স্মরণে পালিত শহীদ দিবসে ২০০৯ সালে আর ২০১০ সালে আড়াই থেকে তিন লাখ তৃণমূল কর্মী জমায়েত হয়েছিলেন । ২০১১ সালে তৃণমূল যেবার ক্ষমতায় এল, সেবার এই সংখ্যা বেড়ে সাড়ে তিনলাখ হয়। কী ছিল ১৯৯৩ সালের মহাকরণ অভিযানে, কী কী হয়েছিল তার সংক্ষেপিত ইতিহাস জেনে নেওয়া যাক।

সেসময় রাজ্যে ক্ষমতায় বামফ্রন্ট সরকার। বামেদের বিরুদ্ধে ছাপ্পা-রিগিং-এর অভিযোগকে মূল ইস্যু করেছিল রাজ্যে সে সময় সে অর্থে একমাত্র বিরোধী দল কংগ্রেস।এমন আবহেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের দাবিতে ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মসূচী ঠিক হয় ১৪ জুলাই। সেই কর্মসূচীর দিন পিছিয়ে যায় প্রাক্তন রাজ্যপাল নুরুল হাসান প্রয়াণের জন্য।তিনি ১২ জুলাই প্রয়াত হয়।কর্মসূচি পিছিয়ে ২১ জুলাই করা হয়।

যুব কংগ্রেসের পক্ষে পরিকল্পনা করা হয়েছিল যে সমর্থকরা বিভিন্ন দিক থেকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের দিকে যাবে এবং রাজ্য সচিবালয় ঘেরাও করবে। এর মধ্যেই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে কর্মী জমায়েত করে দলীয় শক্তি যাচাই করতে যুব কংগ্রেসের একটি সফল সমাবেশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । অন্যদিকে,মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি রাজ্য সচিবালয় যুব কংগ্রেস ব্রিগেডের দখলে যেতে দেবেন না।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মমতার ডাকে মহাকরণ অভিযানের জন্য কলকাতার রাজপথে নামেন কয়েক হাজার যুবকংগ্রেসকর্মী। রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক সচিবালয়ে এই অভিযান রুখতে তৎপর হয় পুলিশ। বিভিন্ন ক্রসিং-এ গড়া হয় ব্যারিকেড।

যুব কংগ্রেসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিশন রো থেকে, ব্রাবোর্ন রোড থেকে, বিবি গাঙ্গুলী স্ট্রিট থেকে, বিভিন্ন দিক থেকে র‌্যালিগুলি মহাকরণের দিকে যাবে। পরিকল্পনা মোতাবেক,একটি মিছিল মেয়ো রোড থেকে আসছিল, যেখানে ১৪৪ ধারায় জমায়েত নিষিদ্ধ। মেয়ো রোড এবং রেড রোডের ক্রসিংয়ে পুলিশ মিছিল থামিয়ে দেয়। শুরু হয় খন্ডযুদ্ধ।পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। উড়ে আসতে থাকে ছত্রভঙ্গ কংগ্রেস কর্মীদের ঢিল।একদল রাজনৈতিক কর্মীরা কার্জন পার্ক জুড়ে দৌড়াতে শুরু করে।অন্য দলের সঙ্গে পুলিশি সংখ্যা জারি থাকে। এই সংখ্যা বেড়ে যাবে এবং বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এই আশঙ্কায় পুলিশ আচমকা প্রচন্ড মারমুখী হয়ে ওঠে। এমন সময় হঠাৎই পুলিশ শূন্যে গুলি না চালিয়ে সরাসরি যুব কংগ্রেস কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে।আর সেই গুলিতে নিহত হন ১৩ জন।
“মমতা নিজেই মারধরের শিকার হন। তিনি রাস্তায় পড়ে যান। আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। দুই শতাধিক যুবক আহত হয়,” বলেন সৌগত রায়।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই সংঘর্ষে গুলিতে নিহত ‘শহিদ’রা হলেন- বন্দনা দাস, মুরারী চক্রবর্তী, রতন মণ্ডল, কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ রায়, অসীম দাস, কেশব বৈরাগী, শ্রীকান্ত শর্মা, দিলীপ দাস, রঞ্জিত দাস, প্রদীপ দাস, মহম্মদ খালেক, ইনু। এই ১৩ যুবকংগ্রেসকর্মীর মৃত্যুতে রীতিমতো উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। কার নির্দেশে গুলি চালিয়েছিল পুলিশ, এই প্রশ্নের আজও মীমাংসা হয়নি। উল্লেখ্য, সেসময় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তবে পরবর্তীকালে এই ঘটনায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ক্নিনচিট দেয় সিবিআই। রয়ে গেছে সেদিনের রক্তাক্ত ইতিহাসের স্মৃতি যার স্মরণে ২১ জুলাই তারিখটিতে তৃণমূলের “শহীদ দিবস”।।

About Post Author