Home » পিছু হটতে নারাজ তাইওয়ান,যুদ্ধ কি আসন্ন?

পিছু হটতে নারাজ তাইওয়ান,যুদ্ধ কি আসন্ন?

সময় কলকাতা ডেস্কঃ আবার যুদ্ধের আশঙ্কা। উদ্বিগ্ন সারা বিশ্ব। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের রেশ এখনও কাটেনি। ২০২২ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি আচমকা ইউক্রেন আক্রমণ করে রাশিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি সব থেকে বড় যুদ্ধ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছিল ২৮ টি দেশ। বহু আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছিলেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের। ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে মন্দা এনে দেয়।

আইএমএফ-এর অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, চলতি ২০২২ সালে বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ৩.২%। ২০২৩ সালে সেই প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ২.৯ শতাংশ। যুদ্ধের আবহে জ্বালানি খাদ্যদ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল। বহু দেশ আমদানি রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ফলে বিভিন্ন দেশে দেখা দিয়েছিল খাদ্য সংকট, জ্বালানি সংকট এবং মুদ্রাস্ফীতি।

সমস্ত বিশ্ব যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে অর্থনৈতিকভাবে। তখন শুধু অর্থনীতি নয়, সমগ্র বিশ্বে নেমে আসতে চলেছে কালো সঙ্কটের মেঘ। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চিন আমেরিকার দ্বৈরথে অশনি সংকেত দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট আর সন্ত্রাসবাদে বিপর্যস্ত বিশ্বের বহু দেশ। আমেরিকার ৯/১১ জঙ্গি হানার বদলা এত বছর বাদে নিল আমেরিকা। আফগানিস্তানের কাবুলে আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা জওয়াহিরিকে তার নিজের বাড়িতেই ড্রোন হানায় নিধন করেছে আমেরিকা। আল-কায়েদার প্রধান পরবর্তীতে হতে পারে আরও এক জঙ্গি আদেল। আমেরিকার এই অগ্রাসী আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ করেছে তালিবানরা। একদিকে, সন্ত্রাসবাদ নিধনে আমেরিকার অগ্রাসী মনোভাব। আর অন্যদিকে, তাইওয়ানের গণতন্ত্র রক্ষায় তাইওয়ানের পাশে দাঁড়ানো। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, পেলোসির তাইওয়ানে অবস্থান করা কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির থেকে আলাদা? কারণ সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জোর দিয়েছেন এক চিন নীতি নিয়ে।

সেই নীতির পরিপ্রেক্ষিতে এটা বলা যায়, চিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে তাইপের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের। সেক্ষেত্রে কিছুটা হলেও পেলোসির অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে আলাদা। পেলোসি তাইওয়ানে বৈঠকের পর জানিয়েছেন, গণতন্ত্র রক্ষায় তাইওয়ানের পাশে আছে আমেরিকা। দীর্ঘদিন ধরেই চিন তাইওয়ানকে তাদের অংশ বলে দাবি করে আসছিল। পেলোসির তাইওয়ান সফরের পরেই কার্যত চিন হুংকার দিয়ে চলেছে। তাইওয়ানে মার্কিন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি দেওয়ার পরেই চিন বুঝেছে এটি সহজ সমীকরণ নয়। তারপর থেকেই কার্যত চিনে সাজো সাজো রব। চিনের একাধিক শহরের রাস্তায় শুধু এখন ট্যাঙ্কের যাতায়াত। তাইওয়ান সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে চিন। তাইওয়ানের আকাশ সীমার পাশেই আকাশে উড়ছে চিনা যুদ্ধবিমান। তাইওয়ানের পাশে দাঁড়াতে পিছিয়ে নেই আমেরিকা। চিন অধিকৃত সাগরের আন্তর্জাতিক সীমার পাশেই আমেরিকার যুদ্ধ বিমান সজ্জিত নৌ বাহিনী এসে হাজির হয়েছে। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে তাইওয়ানকে। এদিকে যখন চিনের সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠছে, তখন অন্যদিকে অনড় মনোভাব তাইওয়ানের। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক শান্তিভঙ্গ করার চেষ্টা করছে বেইজিং। দুই দেশের সম্পর্কের এই চরম অবনতির ফলে যুদ্ধকালীন যে তৎপরতা দেখা দিয়েছে তাতেই অশনি সংকেত দেখছেন আন্তর্জাতিক মহল। আর এই যুদ্ধ যদি শুরু হয় তাহলেও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা প্রবল হতে পারে বলে মনে করছেন তারা। সেক্ষেত্রে বিশ্ব আবার চরম অর্থনৈতিক মন্দা খাদ্যাভাব জ্বালানি অভাবের মুখোমুখি হতে পারে।

About Post Author