সময় কলকাতা ডেস্কঃ
“প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে,কে কোথা ধরা পড়ে, কে জানে–” সেই কবে দার্জিলিংয়ে বসে লিখে গেছিলেন জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ইন্দিরা দেবী।স্বরলিপি বা ভাবনায় নয়,এবার শরীরে ও মনে মিশছে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, চার হাত এক হয়ে যাচ্ছে জার্মানি ও চুঁচুড়ার ছেলে-মেয়ের।

ভালোবাসার টানে কী না হয়! ভালোবাসার কাছে ভাষা, ধর্ম সবকিছুই যেন গুরুত্বহীন। তাই প্রেমের টানে সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে সুদূর জার্মানি থেকে চুঁচুড়ার ছাদনাতলায় হাজির হলেন ড্যানিয়েল। অবশেষে সাত পাকে বাঁধা পড়লেন জার্মানির ড্যানিয়েল ও হুগলির ত্রিয়া। জানা গিয়েছে, হুগলির চুঁচুড়া মহেশপুর গ্রামের কনে ত্রিয়া। কর্মসূত্রে বিগত ৮ বছর আগে জার্মানি গিয়েছিলেন ত্রিয়া। সেখানেই সামাজিক মাধ্যমে পরিচয় হয় ত্রিয়া ও ড্যানিয়েলের। এরপরই তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। আর সেই বন্ধুত্ব থেকেই ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ড্যানিয়েল ভারতে এসে ঘুরেও গেছেন। এরপরই দুজনে সিদ্ধান্ত নেন বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হবেন তাঁরা। তখনই প্রশ্ন ওঠে কোথায় বিয়ে হবে? ড্যানিয়েল ও তাঁর পরিবারের ইচ্ছা ছিল বাঙালি মতেই বিয়ে হবেই। সেই কথা মতই অবশেষে বুধবার সন্ধ্যায় চার হাত এক হয় ড্যানিয়েল এবং ত্রিনার। বরযাত্রী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জার্মান নিবাসীরা। চুঁচুড়ার মহেশপুরে বিয়ের আসরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সাঁওতালি নিত্য, আদিবাসী নৃত্য ছাড়াও গান্ধীগ্রামের শিবদূর্গা ব্রতচারী মণ্ডলীর সদস্যরা ব্রতচারী নৃত্য প্রদর্শন করেন এদিন। অন্যদিকে বিয়ের দিন সকাল থেকেই ড্যানিয়েল বাঙালির সেই ঐতিহ্যবাহী ধুতি ও পাঞ্জাবি পরে সবরকম নিয়ম-কানুন পালন করেন।
এ বিষয়ে ত্রিয়া জানান,‘কর্মসূত্রে ২০১৪ সালে জার্মানি যাই। সেখানেই একটি কোম্পানিতে ইন্টারর্নশিপ করার সময়ই আমাদের দু’জনের দেখা হয়েছিল। তখন থেকেই দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ড্যানিয়েলেরকে দেখানোর ইচ্ছা ছিল ভারতীয় মতে কী ভাবে বিয়ে হয়। আমি জার্মানিতে থাকার সময় সেখানকার কালচার অনেকটাই বুঝতে পেরেছি।’


More Stories
লেনিনের মৃত্যু : বিতর্ক এবং বাস্তব
রাজ কিরণ অন্তর্ধান রহস্য
নেতা নয় নায়ক, যমের অরুচি, ঋতব্রতকে ভয়ঙ্কর আক্রমণ শতরূপের